অবৈধ বাংলাদেশি ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

এবার বিখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন মমতা কে অসমের নয়াগরিকপঞ্জীর বিষয়ে আক্রমণ করলেন। তিনি বলেন যে সহায়-সম্বলহীন বাঙালিদের জন্য কোনো রকম সহানুভূতি নেই মমতার মনে। তাদের জন্য কোনো দিন তিনি কিছু করবেন না। যদি তাদের জন্য তার মনে সামান্য পরিমান জায়গা থাকতো তাহলে আমাকে তার রাজ্য থেকে বের করে না দিয়ে সেখানে থাকতে দিতেন। কিন্তু তিনি সেটা কোনো দিন করেন নি। তিনি এখন শুধুমাত্র ভোটের লোভে নয়াগরিকপঞ্জীর তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মানুষদের বাংলায় আশ্রয় দিতে চাইছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নাগরিকপঞ্জীর দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয় সোমবার। ৪০ লক্ষেরও বেশী মানুষের নাম নেই সেই তালিকায়। মূলত বাংলাভাষী মানুষ বেশি থাকায় মমতা অভিযোগ করেন যে কেন্দ্র ও অসম সরকার মিলে বাঙালি দের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

যদিও সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে নাগরিকপঞ্জীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে কারন এর সাহায্যে সহজেই বাংলাদেশিদের খুঁজে বের করা যাবে। এবং তারা মনে করিয়ে দেন যে সুপ্রিমকোর্ট এর কথা মতই কাজ হয়েছে এতে তাদের কোনো নিজস্ব মতামত নেই। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ আনেন যে বিজেপি সরকার ‘বাঙালি খেদাও’ অভিযানে নেমেছে। তাই যদি কোনো বাঙালি বিতাড়িত হন তাকে ঠাই দেবে তৃনমূল সরকার। ঠিক এই কথার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা তার সমস্ত রাগ উগড়ে দেন দু’টি ট্যুইট করে।

প্রথম ট্যুইটে তিনি মমতার প্রশংসা করে বলেন যে, মমতা যে সহানুভূতিশীল মনভাব প্রকাশ করেছেন বাংলা ভাষায় কথা বলা ৪০ লক্ষ মানুষের উপর সেটা দেখে ভালো লাগল আমার। তিনি ঘোষনা করেছেন যে সমস্ত বিতাড়িত বাঙালিদের তিনি বাংলাতে আশ্রয় দেবেন। তারপর তিনি মমতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে বলেন যে “তার যদি বাঙালিদের প্রতি এতই দরদ থাকে তাহলে আমার প্রতি নেই কেন। ওনার বিরোধী রাজনৈতিক দলইতো বাংলা থেকে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই বিষয়ে উনি কেন এখন চুপ করে আছেন।

তসলিমা নাসরিন ইসলাম সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তার ফলে ১৯৯৩ সালে তাকে দেশছাড়া হতে হয়। সেই সময় তিনি আশ্রয় নেন কলকাতায়। কিন্তু সেখানেও তিনি বেশি দিন থাকতে পারেন নি কারন একাধিক মুসলিম সংগঠন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে তিনি ইসলাম নিয়ে মিথ্যাচরণ করছেন। বিতর্ক কিছুতেই তার পিছু ছাড়ছিল না। তাই তিনি কলকাতা থেকে দিল্লি চলে যান ২০০৭ সালে। বামফ্রন্ট সরকারের ক্ষমতাধীন পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নিতে হয়। শুধু মাত্র জিহাদিদের সমর্থন করার জন্য সেই সময়কার বামফ্রন্ট সরকার মুসলিম সংগঠন গুলির সাথে মিলে তাকে রাজ্য ছাড়া করে।

ঠিক একঘণ্টা পরে তিনি দ্বিতীয় ট্যুইট করেন। সেখানে তিনি বলেন যে ” সকল গৃহছাড়া বাঙালিদের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সহানুভূতি দেখাচ্ছেন সেটা শুধু মাত্র ভোটব্যাংকের জন্য। কারন এই রকম পরিস্থিতি যখন আমার সাথে হয়েছিল তখন কিন্তু উনি একটু প্রতিবাদ করেন নি। তিনি আরও বলেন যে শুধু মাত্র ভোট ব্যাংকের জন্য মমতা তার দেশকে খারাপ পরিস্থিতির দিকে ঠিলে দিচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ত ভুলে গেছেন যে রাজনীতি করা মানে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসুক করে দেওয়া। তা না করে তিনি নিজের জন্য দেশ কে বিপদে ঠিলে দিচ্ছেন।
#অগ্নিপুত্র

Related Post

Open

Close