লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই ১০ টি কেন্দ্রে তৃণমূলকে উপড়ে ফেলে জয়লাভ করতে পারে বিজেপি।

২০১৯ লোকসভা ভোট প্রায় এসেই গেল। দরজার সামনে এসে ঠক ঠক করছে ২০১৯ লোকসভা ভোট। সেই ভোটের কথা মাথায় রেখে সব পার্টি তাদের ভোটের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। সবাই ভোট নিয়ে তাদের পরিকল্পনা স্থির করে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। পিছিয়ে নেই বাংলা বিজেপি। বাকি সব দল গুলির মত তারাও তাদের পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে চলেছে।
বিজেপি নেতৃত্ব আমাদের রাজ্য থেকে ২০১৯ লোকসভা ভোটে ১০ টি আসন পাবার লক্ষ্যে নেমেছিল। কিন্তু রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সাথে মুকুল রায়ের মত একজন নেতা যোগদান করায় সেই সংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বিজেপি আসানসোল, দার্জিলিং লোকসভা আসন তো ধরে রাখবেই সেই সাথে মুকুল রায়ের মত একজন বিশিষ্ট নেতার যোগদানের পর বিজেপি আরও দশটা লোকসভা কেন্দ্রে জিততে আশাবাদী। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই দশটা কেন্দ্র:-

১০) বসিরহাট:-
এই লোকসভায় ভোটের সমীকরনে অনেকটাই বদল এসেছে যখন থেকে এখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী
ইদ্রিস আলি পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ৯২ হাজার ভোট। কিন্তু সমীকরণ অনুযায়ী এই অঞ্চলে তৃনমূল বিরোধী ভোটার বেশি থাকলেও সেটা ভাগ হয়ে যায় বাম ও বিজেপির মধ্যে। সেই ভোটে বাম প্রার্থীর পাওয়া ভোটের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮২ হাজার ভোট। অপ্রত্যাশিতভাবে বিজেপি প্রার্থী সেখানে ২লক্ষ ৩৩ হাজারের মত ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক হিংসার ফলে তৃনমূল বিরোধী দল গুলি ধীরে ধীরে ভরসা হারাচ্ছেন বাম সংগঠন গুলির উপর থেকে। এই লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির সংগঠন বেশ মজবুত হয়েছে বসিরহাট (দক্ষিণ), বাদুড়িয়ার মত এলাকাভুক্ত অঞ্চল গুলিতে। তবে মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে মিনাখা, হাড়োয়া -তে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব চোখে পড়েছে। সেই সুযোগ কেই কাজে লাগিয়ে বিজেপি বাজিমাত করতে চাইছে।

৯) বর্ধমান- দুর্গাপুর:-
আগেরবার বিজেপির ভোটের পরিমান অনেকটা বেড়েছিল এই কেন্দ্রে। বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী আর এস এস সংগঠনের উপর ভর করে এই এলাকাতে লড়েছিলেন। এবং তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোট। এই এলাকায় বিজেপি তিন নাম্বার পজিশনে থাকলেও এবার এখানে পদ্মফুল ফোটার আসায় আছেন বিজেপি। তার অন্যতম কারন হল দুর্গাপুরে মাঝে মাঝেই তৃনমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। এছাড়া এই এলাকায় ভোটার থেকে শুরু করে, এলাকায় নেতা মন্ত্রী সম্ভন্ধে মুকুল রায় খুব ভালো ভাবেই জানেন। এর ফলে এখানে বিজেপির প্রাচার সুবিধাজনক হবে বলে আসা করাই যায়। ফলে এখানে বাজিমাত করাতে বিজেপির বিশেষ কোনো অসুবিধা হবে না।

৮) মালদা:-
২০১৪ লোকসভা ভোটে বিজেপি সবচেয়ে চমকানো ফলটা এখানেই হয়েছিল। অপ্রত্যাশিতভাবেই এখানে বাকি বিরোধী দল গুলিকে পিছনে ফেলে বিজেপি উঠে এসেছিল ২ নং এ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৃনমূল ৪ নং স্থান অধিকার করেছিল। মাঝের এই কয়েকটি বছর বিজেপি কর্মীরা মন দিয়ে কাজ করেছেন মালদাতে। বিজেপি যদি বামেদের ভোটটা দখন করে নিতে পারে তাহলে এখানে পদ্মফুল ফোটানো কেউ আটকাতে পারবে না।

৭) মেদিনীপুর:-
খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্র যেটি এই লোকসভা কেন্দ্রেরই অন্তর্গত, আমাদের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সেই আসনে জিতেই বিধায়ক হয়েছেন। তাই বলাই যায় যে রাজ্যের বিজেপির এত বড় দায়িত্বশীল নেতা যেখানে জিতেছেন সেখানে এবার লোকসভা ভোটে জিততে বিজেপির খুব একটা অসুবিধা হবে না।
৬) বারাসত:-
পিসি সরকারের মত নামকরা একজন ম্যাজিশিয়ান গত বছর এই লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এবং তিনি যথেষ্ট ভালো ফল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। এছাড়াও এখানে পাঁচটা বিধানসভা কেন্দ্রে মুকুল রায় এর দারুন প্রভাব রয়েছে। তাই বিজেপি নেতৃত্ব এখানে জেতার পক্ষে আশাবাদী।

৫) উলুবেড়িয়া:-
এখানে রাজনৈতিক সমীকরণ একেবারে বদলে গিয়েছে সুলতান আমেদের মৃত্যুর পর থেকে। তাই এখানে বিজেপির বাজিমাত করার উপায় হল মুকুল রায় কে ভোট প্রচারে সামনের সারিতে রাখা।
৪) বালুরঘাট:-
জানা যাচ্ছে যে এই কেন্দ্রটি বিজেপি হাতছাড়া করতে চাইছে না। তাই এখানে যাতে অন্য কোনো দল মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে সেই জন্য ব্যাপকভাবে জোর দেওয়া হয়েছে বিজেপির তরফে। এর জন্য এই কেন্দ্রে মুকুল রায় কে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হবে বলা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
৯) রায়গঞ্জ:-
গতবরে এখানে বামেরা জিতেছিলেন। কিন্তু বাম নেতা সেলিম এবার আর সেই গড় ধরে রাখতে পারবে না বলেই ধরনা প্রকাশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে গতবার বিজেপি-র হয়ে দাঁড়িয়ে নিমু ভৌমিক এখানে ২ লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তাই বলাই যায় যে কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা এখানে অনেক কমে গিয়েছে। একদিকে বিজেপির ভোট বৃদ্ধি অন্যদিকে মুকুলের সাংগঠনিক ক্ষমতা এই দুটি কে কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করার আসায় আছে বিজেপি।

২) কোচবিহার:-
দীঘ অনেক বছর ধরে বিজেপি এখানে অনেক ভালো ভালো কাজ করে এসেছে। তার ফলও পেয়েছে গতবারে। এখানে বিজেপি ২ লক্ষ ১৭ হাজার ভোট পেয়েছিল। তাই এবারও এখানে বাজিমাত করার আসায় রয়েছে বিজেপি।
১) আলিপুরদুয়ার:-
এই আসনটাকে নিয়ে অনেক আশা করে রয়েছে বাংলা বিজেপি। এই আসন ভোট ব্যাংকের উর্দে গিয়ে বিজেপির ভালোবাসায় পরিনত হয়েছে এখন। অনেক আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এখানে। আলিপুরদুয়ার কে বিজেপির রাজ্যে প্রবেশ করার দরজা হিসাবে দেখছেন দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ববৃন্দ।

#অগ্নিপুত্র

Related Post

Open

Close