Press "Enter" to skip to content

কংগ্রেস কিভাবে জনগণকে মূর্খ বানিয়ে দেশে শাসন করেছিল তার অসাধারণ বিশ্লেষণ।

আপনারা সকলেই জানেন ২০০৪ এর আগে দেশে বিজেপির সরকার ছিল, শ্রী অটল বিহারি বাজপেয় সেই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সেই সময়েও পাকিস্তান তাদের জঙ্গিপ্রস্তুতকারী কাজ চালিয়ে যেত এবং ভারতীয় জওয়ানদের পেছন থেকে আক্রমন করে পালিয়ে যেত। তখনকার সেই পরিস্থিতি দেখে প্রত্যেক ভারতীয়র রক্ত গরম হয়ে উঠতো। পাকিস্তানের আচরণ এতটাই নীচে নেমে গেছিলো যে আমরা ভারতীয়রা এক সুরে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে জন্য দাবি জানাচ্ছিলাম।

আর সেইমতো যুদ্ধ শুরুও হয়েছিল। যুদ্ধ শুনতে বা পড়তে একটা ছোট বিষয় মনে হলেও যুদ্ধের ভীষণতা সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ নূন্যতমও পরিচিত নয়। যুদ্ধের জন্য একটা দেশ ১০ বছর পিছিয়ে যায়। স্বাভাবিক ভাবেই এমন পরিস্থিতিতে দেশে সাধারণ জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধি ঘটে এবং একই সাথে গরিবি ও বেকার সংখ্যাও বেড়ে যায়। যার ফলে দেশের অর্থনীতির দুর্বলতা একটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এক কথায় দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা পুরোপুরি টলমলিয়ে যায়। ১৯৯৯ এ বাজপেয় আমলে কার্গিল যুদ্ধেও(উল্লেখ্য যুদ্ধে ভারত জয়ী হয়েছিল) এমনটাই ঘটেছিল। যেসব লোকেরা পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যুদ্ধের দাবি জানাচ্ছিলেন তারাই যুদ্ধের পর দেশের খারাপ পরিস্থিতির জন্যে সরকারকে অর্থাৎ বাজপেয়জিকে গালাগালি দিতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন- আপনি ঈদ পালন করেননি, তাহলে কি আমরা আপনাকে হিন্দু নেতা বলতে পারি?” এই প্রশ্নের উত্তরে যোগী আদিত্যনাথ যা উত্তর দিলেন

মূল্যবৃদ্ধি, গরিবি, বেকারত্ব সবকিছুর জন্য বাজপেয় সরকারকে দায়ী করতে শুরু করে। আর এই কারণেই ২০০৪ সালে বাজপেয়জিকে ক্ষমতা থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেইসময় দেশের একটা বড়বর্গ এই ব্যাপারটা বুঝেছিলেন যে ১৯৯৯ এর পর দেশে যে বিপরীত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তার জন্য সরকারের কোনো ভুলনীতি নয় বরং এর কারণ পাকিস্থানের সাথে যুদ্ধ। যার জন্য দেশের সেই বড়ো বর্গ ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় বাজপেয়জিকে সমর্থন করেছিল। ২০০৪ সালে কংগ্রেস নির্বাচন যেতেনি, আসলে কংগ্রেস নির্বাচনে ১৫০ এর আসেপাশে ভোট পেয়েছিল। কিন্তু তখন সমস্থ বিজেপি বিরোধীরা এক হয়ে সরকার বানিয়েছিল। এতদূর পর্যন্ত তো সবকিছু বোঝা সহজ ছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ২০০৪ সালে যে কংগ্রেস কোনোরকমে সরকার বানিয়েছিল তারা কিভাবে পরবর্তী নির্বাচনে অর্থাৎ ২০০৯ সালে কংগ্রেস ২০৬ টি আসন জিতেছিল ?

এই প্রশ্নের উত্তরও আমি আজ আপনাদের বিশ্লেষণ করবো। এই বিষয় আপনারাও জানেন যে ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত কংগ্রেস ব্যাপকভাবে দুর্নীতি করেছিল আর তার লিস্ট আপনারা গুগলেও পেয়ে যাবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কংগ্রেস কিভাবে ২০৬ টি আসন পেয়েছিল। আসলে এইক্ষেত্রে কংগ্রেস দুটো ট্রামকার্ড ব্যবহার করেছিল। প্রথমত নিজেদেরকে নিস্বার্থ দেখাবার জন্য ২০০৪ সালে কংগ্রেস নিজের হাতে রিমোর্ট কন্ট্রোল রেখে আসনে মনমোহন সিংকে বসিয়েছিলেন। এটাই নেহেরু পরিবারের নতুন রাজনীতি ছিল, কারণ আমরা সকলেই জানি যে মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকলেও ক্ষমতা ছিল নেহেরু পরিবারের হাতে। দ্বিতীয় ট্রামকার্ড শাসনের ৫ বছরে অর্থাৎ ২০০৯ সালে খেলা হয়েছিল।

কংগ্রেসকে ২০৬ টি আসনে পৌঁছাবার পেছনে এটাই কংগ্রেস জেতার টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ২০০৯ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস কৃষকদের ৬৫০০০ কোটি টাকার ঋণ মাফ করেছিল। তবে এই টাকা কংগ্রেস তাদের নিজের ঘর থেকে বের করে এনে দেয়নি এটা সেই টাকার কিছু অংশ মাত্র ছিল যা অটলজি ভারতের ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে ছিলেন। আসলে অটলজির জমানো সম্পত্তিকে কংগ্রেস নিজেদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ ঢুকিয়ে তার সামান্যতম অংশ কৃষকদের দিকে ছুড়ে মেরেছিলো যাতে এত কেলেঙ্কারি করার পরেও পুরো ভোট কংগ্রেসের দিকে ঘুরে যায়। সেই একইভাবে মোদীজির আমলেও সরকার এক বিপুল পরিমান খাজানা দেশের জন্য জমিয়েছে। এই সময়েও কংগ্রেস এমন পরিস্থিতি উৎপন্ন করার চেষ্টা করছে যাতে তারা আবার সেই বিপুল অর্থভান্ডারকে আবার লুটে নিতে পারে এবং দেশে শাসন করতে পারে।

আরোও পড়ুন – আবার ইতিহাস গড়লেন মোদীজি

@Admin

you're currently offline