Press "Enter" to skip to content

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন তৃণমূল নেতা, এদিকে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি অনুব্রতর


বীরভূমঃ বঙ্গ রাজনীতিতে হেভিওয়েট নেতা অনুব্রত মণ্ডলের কথাবার্তা অত্যন্ত ঝাঁঝালো। শুধু তাইই নয়, তিনি প্রতিটি বক্তব্যের আগে বা পরে হুমকি দিতে পছন্দ করেন। তাঁর এই চরিত্র রাজ্যবাসী জানে কিন্তু ইদানিং তিনি লাগামছাড়া বোধবুদ্ধিহীনভাবে মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।

সেই ধারা অব্যাহত রেখে মঙ্গলকোটে নেতা খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি ির দিকে আঙুল তুলেছেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। মঙ্গলকোট ব্লকের লাখুড়িয়া অঞ্চলের অঞ্চল সভাপতি অসীম দাসের খুন নিয়ে ইতিমধ্যে জোর তর্কাতর্কি শুর হয়েছে বিজেপি ও তৃণমূলের অন্দরে। সোমবার বোলপুরে নিজের ডেরায় বসে অনুব্রত মণ্ডল অভি তোলেন, “এটা বিজেপির নোংরা খেলা, বঙ্গ বিজেপি নোংরা রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। তিনি বলেছেন, পুলিশকে বলেছি আসল খুনিদের ধরতে। এরপর তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, পুলিশ যদি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে না পারে তবে তৃণমূলের কর্মীরা কিন্তু ওদের ঠিক খুঁজে বের করে নেবে। বিজেপি লাশের রাজনীতি থেকে না সরলে ওরাই বিপদে পড়বে।

তিনি একথাও বলেছেন, বিজেপি যদি ভেবে বসে, তৃণমূল কর্মীদের একতরফা এভাবে মারবো, তাহলে তৃণমূল কর্মীরা কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তখন যেন কোনোভাবেই আমাদের দিকে আঙুল না ওঠে। বঙ্গ বিজেপি কথায় কথায় হাইকোর্ট দেখাচ্ছে, এখানে যাচ্ছে, ওখানে যাচ্ছে। আর এদিকে তাদের কর্মীরা গ্রাউন্ডে অশান্তি করে বেড়াচ্ছে,তখন সেদিকে কারোর চোখ‌ই পড়ছে না। এটা কিন্তু আমরা মেনে নিতে পারবো না।

অনুব্রত উল্টো চাপ দিয়ে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল খুনের রাজনীতি বিশ্ করে না। সব দলেরই নিজের মতো করে রাজনীতি করার অধিকার আছে। তাই বলে যখন তখন মানুষ খুন করে দেব আর তৃণমূল ঠুঁটো জগন্নাথের মতো হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকবে এটা মনে ভাবলে ওরা মূর্খের স্বর্গে আছে। অসীম সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে রাজনীতি করতো। লাখুরিয়া অঞ্চলের ওর নাম ডাক আছে। এই রকম একটা তরতাজা ছেলেকে এই ভাবে খুন করে দেওয়া হবে এটা কিছুতেই মানা যাচ্ছে না। আমরা যা ব্যবস্থা করার করবো।

বিজেপিকে কাঠগড়ায় নিশানা করে অনুব্রত বলেছেন, বিজেপি নির্লজ্জ, ওদের লজ্জা লাগা দরকার। ২১৩টা আসন পেয়েছে। ৭টা আসন এখনও বাকী আছে, ওগুলো পেলে মোট ২২০টা আসন হবে। বাংলার মানুষ এই রায় দিয়েছে। এর পরেও ওদের লাজলজ্জা নেই। এই খুনের রাজনীতি বিজেপি নেতৃত্ব ছেড়ে দিক, এই খুনের রাজনীতি করলে ওরা নিজেরাই সমস্যায় পড়বে। অসীমের পরিবারকে ফোন করে ক্রমাগত ভয় দেখানো হচ্ছে। সেটা আমি বুঝে নিচ্ছি। ময়না তদন্ত হয়ে গেলেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ঘটনার পরই এই কাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিহত তৃণমূল নেতা অসীম দাসের পরিবারের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলেছে তৃণমূলের নেতারাই। নিহত তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির পরিবার এই ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে দায়ী করেছে।

তৃণমূল নেতা অসীম দাসের পরিবার অভিযোগ করে বলেছেন যে, বরাবরই দলের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলতেন অসীমবাবু। আর এই কারণে তৃণমূলের অনেকেই চাইত না যে তিনি দলে থাকুন। এর আগেও দু’বার ওনার উপরে হামলা হয়েছে। এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। এবার তাঁরা খুনই করে দিয়েছে অসীম দাসকে।