Press "Enter" to skip to content

ঘরের শত্রু বিভীষণ! চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে হাজিরা দিলেন বাম নেতারা

[ad_1]

নয়া দিল্লীঃ কয়েকদিন আগে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দিল্লির চিনা দূতাবাস ভার্চুয়াল আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে করোনা মহামারীর মূলচক্রী তথা উৎপাদক দেশ হিসেবে চীনারা সারা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের চক্ষুশূল। এছাড়াও লাদাখে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদে জড়িয়ে চীন যে ভালো কাজ করেনি, সেটা সকলের জানা। আর সেই কারণে ভারতের অনেক জওয়ানও প্রাণ হারিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতীয় বাম নেতারা ভার্চুয়াল সেই আয়োজনে যোগদান করে দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছেন। ফলত, তারা মোদী সরকার তথা বিজেপির রোষানলের মুখে পড়েছে। যদিও এত বিতর্কের মাঝে বামেদের সাফাই, আদর্শের জায়গা বজায় রেখে তারা সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছে।

চলতি বছরেই শতবর্ষে পদার্পণ করেছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। আর সেই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশের ১৬০টি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে শতবর্ষ উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভার প্রধান ছিলেন সিসিপি-র সাধারণ সম্পাদক এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েই বিরোধীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের বামপন্থী নেতারা।

কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরেই চীনে করোনা মহামারীর প্রকোপ উপেক্ষা করে ছিল কার্যত সাজ সাজ রব। আর সেই শতবর্ষ উদযাপনের জন্য ২২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমন্ত্রণ জানায় চীন। অন্যদিকে গত বছর লাদাখে চীনা লাল ফৌজের সঙ্গে সঙ্কটের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও অবনতি হতে শুরু করে।যার পরিপ্রেক্ষিতে তোলপাড় হয়ে যায় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে চীন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় বাম নেতাদের উপস্থিতি মোটেই ভালো চোখে দেখছে না বিরোধীরা।

চীনের শতবর্ষ উদযাপনের ভার্চুয়াল ওই অনুষ্ঠানে ভারত থেকে আমন্ত্রিত হয়ে আলোচনায় হাজির ছিলেন সিপিএম, সিপিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের তিন শীর্ষ নেতা সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা লোকসভার সদস্য ডঃ এস সেন্থিলকুমার এবং জি দেবরাজন। তাদের উপস্থিতি মোটেই ভালো নজরে দেখেনি বিরোধীরা। প্রকাশ্যে তোপ দেগেছেন একের পর এক বিজেপি নেতা। রীতিমতো শানিত ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি সাংসদ অনিল জৈন বলেছেন, বাম নেতাদের মতের ঠিক করতে হবে, তারা কাদের দিকে, ভারত না চীন। এটা তাদের বিশ্বাসঘাতকতারই পরিচয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ বৈঠকে অংশগ্রহণ কখনওই দেশ ও জাতির স্বার্থ হতে পারে না। এর ফলে জনগণের কোনোরকম লাভ হবে না।তাদের এই ব্যাভিচার অবিলম্বে ফাঁস করা উচিত।

সমগ্র ঘটনাকেই ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক বলে সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা রিতা বহুগুনা জোশী। যদিও বামেরা নিজের দেশবিরোধী কার্যকলাপের সাফাই দিয়ে বলেছেন, আদর্শগত বোঝাপড়া আদানপ্রদান চলতেই পারে। সেদিক থেকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, কূটনীতি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। আর সেই আদর্শের জায়গা বজায় রেখে উপযুক্ত মর্যাদা দিতেই তারা সেই বৈঠকে যোগদান করেছিলেন। অন্যদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আমন্ত্রণে সে দেশে যেতে চলেছেন দেশের তিন বাম দলের প্রধান নেতারা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ৫ থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত চীন সফরে হাজির থাকবেন সিপিএম, সিপিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিনিধিরা।

[ad_2]