Press "Enter" to skip to content

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব: পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও মহিলা কর্মাধ্যক্ষকে মারধর করল দলেরই কর্মীরা


নির্বাচনী পরবর্তীকালে শাসকদলের অন্তর্কলহ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় যেসব ঘটনা উঠে এসেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় প্রতিটি ঘটনায় অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। এর ফলে শাসক দলের ইমেজ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

পরিচালিত সমিতির সভাপতি ও আধিকারিককে হতে হয়েছে হেনস্থার শিকার। অফিসে ঢুকে চূড়ান্ত হেনস্থার অভি উঠেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সম্মানীয় সভাপতিকে অফিসের চেয়ার থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে টানতে টানতে বের করে দেওয়া হয়। তাকে বাঁচাতে এসে মার খেতে হয় দুই কর্মাধ্যক্ষকে। চুলের মুঠি ধরে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোঘাট এলাকায়।

আক্রান্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন পাল অভিযোগ করেছেন, নিজেদের দলের এক শ্রেণির কর্মী, সহ-সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুারের অশুভ মদতেই তাদের ওপর এই আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তার বক্তব্য, “কী কারণে এই ভাবে আমাদের হেনস্থা করা হল তা আমার জানা নেই। শুধুমাত্র ক্ষমতা বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করে ওরা আমাদের এভাবে নোংরাভাবে আক্রমণ করেছে।

এদিন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির ঘরে ঢুকে পড়েন তৃণমূল নেতারা। তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে এক মহিলা কর্মাধ্যক্ষের চুলের মুঠি ধরে মারধর করে বের করে দেওয়া হয় অফিস থেকে। ঘটনার জেরে বিডিও অফিস চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষরা গোঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গোঘাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নাম মনোরঞ্জন পাল। আক্রান্ত কর্মাধ্যক্ষের নাম শ্যামলি ঘোষ ও ময়না বাগ। শ্যামলী ঘোষ বনভূমি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ এবং ময়না বাগ স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় শ্যামলী ঘোষ বলেন, আমাকে যে ভাবে অপমান করা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এখানকার প্রাক্তন বিধায়ক, ব্লক সভাপতি নারায়ণ পাঁজার ইঙ্গিতেই পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শ্রীমন্ত রায় তার দলবল সমেত জনা পঞ্চাশেক লোক আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমাকে তীব্র হেনস্থা করা হয়েছে। আমি একজন মহিলা হ‌ওয়া সত্বেও ছেলেদের দিয়ে আমাকে মারধর করা হয়েছে!

শ্যামলী দেবী অভিযোগ করেছেন, আমি ১৯৯৮ সাল থেকে পার্টির সদস্যা।বহু মার, অপমান হজম করেছি। রাতের পর রাত ঘরছাড়া থেকেছি। আর আজ আমার দলের ছেলেরাই আমাকে মারধর করল। এটাই বোধহয় বিনিময়ে পাওনা ছিল। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করছি, যে একজন মহিলার শাসনকালে আমাদের মত অসহায় পার্টি কর্মীদের নিরাপত্তা কোথায়? আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অন্যদিকে, এই বিষয় প্রশ্ন করা হলেও গোঘাটের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল সভাপতি মানস মজুমদার কোন‌ও মন্তব্য করতে চাননি।