Press "Enter" to skip to content

দেশ ত্যাগের আগে নেতাজী দিয়েছিলেন শেষ বক্তৃতা, স্মৃতিতে গ্রামের নাম ‘আজাদ হিন্দ গ্রাম’

একথা সকলেই কমবেশি করে, পরাধীন দেশের অকুতোভয়, অসমবীর এই নেতাকে সেদিন ব্রিটিশের তল্পিবাহক কিছু প্রভাবশালী নেতৃবর্গের অকর্মণ্যতার কারণে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে ছদ্মবেশে মাতৃভূমি ত্যাগ করতে হয়েছিল। তিনি যখন কাবুল, কান্দাহার, ের চরাই-উৎরাই ডিঙিয়ে চলেছেন, তখন ব্রিটিশ গোয়েন্দাকুল তীব্র আত্মশ্লাঘায় দহনসিক্ত। প্রকাশ্যে তারা সুভাষ বোসকে ভগৎ সিং বা যতীন দাসের মতো মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করলেও একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তাদের চোখে ধুলো দিয়ে নেতাজীর অন্তর্ধান ব্রিটিশের পরাজয়ের সমান।

সুভাষচন্দ্র বসু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে এতো প্রাসঙ্গিক থাকা সত্ত্বেও ভারতবর্ষের অনেকেই জানেন না দিল্লিতে একটি গ্ রয়েছে যেখানে সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে আবেগ নজর কাড়ার মতো।

দিল্লির পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত টিকরি কালন গ্রামে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে গ্রামের অনেকেই আবেগ বিগলিত।স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, যে নেতাজী পরাধীন ভারতে তাঁর শেষ ভাষণটি তাদের গ্রামে দিয়েছিলেন, যদিও তিনি কখন কোন বছরে ভাষণ দিয়েছিলেন তা কারও জানা নেই। কেউ কেউ বলছেন যে ১৯৪১ সালে নেতাজী যখন পেশোয়ার হয়ে বার্লিনে ছদ্মবেশে ভ্রমণ করেছিলেন তখন তিনি এই গ্রাম পরিদর্শন করেছিলেন; আবার অনেকে দাবি করেন, যে নেতাজী ১৯৪৪ সালে তাদের গ্রামে আইএনএ (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি) সৈন্যদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলে।

আজ‌ও ২৩ শে জানুয়ারী এই গ্রামে নেতাজীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পূর্ণ দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যার মূলমন্ত্র নেতাজীর সেই স্লোগান तुम मुझे खून दो, मैं तुम्हें आज़ादी दूंगा (tum mujhe khoon do, main tumhe azadi doonga)। গ্রামের মহিলারা নেতাজীকে বরণ করে হরিয়ানভিতে লোকসঙ্গীত গায় এবং উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামের নাম ‘আজাদ হিন্দ গ্রাম’ বলতেই বেশি পছন্দ করে, সেই গ্রামে ছয় একর জমিতে কমপ্লেক্সে রয়েছে সেখানে আইএনএ নামাঙ্কিত একটি জাদুঘর এবং দিল্লী সরকারের নির্মিত সুভাষচন্দ্র বসুর একটি স্মৃতিসৌধ রয়েছে।গ্রামবাসীরা তাদের বিশ্বাস থেকে নেতাজীর স্মৃতিসৌধটি সেই জায়গাতেই নির্মিত হয়েছে যেখানে নেতাজী তাঁর জীবনের শেষ ভাষণ দিয়েছিলেন। কথিত আছে, গ্রামের একটি বড় গাছের নীচে তিনি বক্তৃতা দিয়েছিলেন।২০০০ সালে স্মৃতিসৌধটি তৈরি হওয়ার আগে স্থানীয়রা প্রতিবছর ২৩ শে জানুয়ারী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উক্ত ঘটনাস্থলে একটি “হাভান” আয়োজন করতেন।

নেতাজীকে নিয়ে অন্য এক গল্প‌ও রয়েছে, যা আবার ইতিহাসকে অস্বীকার করে। এই গ্রামের অনেক মহিলা আইএনএর জন্য তাদের গহনা দান করেছিলেন বলে শোনা যায়।শোনা যায়, যে এই গ্রামে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যার সদস্যরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আইএনএতে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন প্রয়াত সুবে সিংহের পরিবার। তাঁর বাড়ি থেকে দূরত্বে আর এক আইএনএ প্রবীণ, প্রয়াত সরুপ সিংহের পরিবার বসবাস করেন।

সরকারের পক্ষ থেকে নেতাজীকে সম্মান জানানো হয়নি বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। তবে তারা সবচেয়ে বেশি আফসোস করে আজাদ হিন্দ গ্রামটির করুণ পরিণতির জন্য। যেখানে প্রতিটি ভারতবাসী এই গ্রামে অবস্থিত আই‌এন‌এর উদ্দেশ্যে নির্মিত ‘ চলো’ জাদুঘরটি নিয়ে গর্ব করতে পারে। হলঘরের বর্ণহীন পলেস্তারা খসা, রংচটা দেয়ালগুলিতে টাঙানো রয়েছে আজাদ হিন্দ ফৌজের নানান ঐতিহাসিক ঘটনার ছবি, যেমন আইএনএ ট্রায়াল, আইএনএ’র মার্চ, দিল্লি চলো অভিযান, আইএনএ-তে নারীর ভূমিকা এবং আজাদ হিন্দ প্রতিষ্ঠিত একটি অস্থায়ী সরকার সম্পর্কিত ছবি রয়েছে।

বিদেশিদের তালিকায় অনেক সুপার হিরো রয়েছে, সে থাকতে পারে, কিন্তু প্রত্যেক ভারতীয়র হৃদয়ে তিনিই সুপার হিরো। তিনিই নেতা, সকলের প্রিয় নেতাজী যিনি দীপ্ত কন্ঠে বলে উঠেছিলেন, “স্বাধীনতা ভিক্ষা করে নয়, ছিনিয়ে নিতে হয়।”