Press "Enter" to skip to content

ধর্ষণ নিয়ে রাজনীতি! নির্যাতিতার পরিবারের পরিচয় ফাঁস করায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে POCSO ধারায় মামলা

নয়া দিল্লীঃ কদিন আগেই এক নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল রাজধানী দিল্লী। এ মাসের শুরুতেই সেখানে এক নাবালিকাকে করে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল শ্মশানের ডোম আর পুরোহিতদের বিরুদ্ধে। এমনকি পরিবারের সহমতি ছাড়াই নির্যাতিতার দেহ দাহ করে দিয়েছিল তাঁরা। এরপরই তপ্ত হয় জাতীয় রাজনীতি।

বিজেপি সমস্ত দলের নেতা-নেত্রীরা নির্যাতিতার বাড়ি গিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেয়। এবং তাঁরা এই ঘটনার জন্য কাঠগড়ায়ও তোলে। নির্যাতিতা দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত আর এই কারণে বিরোধীরা বিজেপির বিরুদ্ধে দলিতদের উপর অত্যাচারেরও অভিযোগ তোলে। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ()।

সেখানে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন, তেমনই বিজেপির বিরুদ্ধে সুরও চড়ান। কিন্তু তিনি সেখানে সবথেকে বড় একটা ভুল করে বসেন। সেই ভুলটি হল, তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন। যা আইন বিরোধী।

এরপর বিজেপিও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব হয়। বিজেপির দাবি, রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক রুটি বেলতে নির্যাতিতা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে দলিতদের উপর অনেক অত্যাচার হচ্ছে, কিন্তু সেটা নিয়ে রাহুল গান্ধীকে কোনদিনও মুখ খুলতে দেখা যায়নি। এমনকি নির্যাতিতার পরিবারের পরিচয় ফাঁস করার জন্য রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতারের দাবি তোলে বিজেপি।

আর এখন নির্যাতিতার পরিবারের পরিচয় ফাঁস করার কারণে চরম ফাঁসলেন কংগ্রেস সাংসদ। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। তিনি এই বিষয়ে দিল্লী পুলিশের কমিশনা রাকেশ আস্থানাকে একটি চিঠিও লিখেছেন।

নির্যাতিতার পরিবারের পরিচয় ফাঁস করার জন্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে পকসো ও জুভেনাইল জাস্টিস আইন ভঙ্গের অভিযোগ তোলে বিজেপি। এছাড়াও জাতীয় নারী ও শিশু সুরক্ষা কমিশন টুইটার কর্তৃপক্ষকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা ের নির্দেশ দেয়।

দিল্লী পুলিশের কমিশনারকে লেখা চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লিখেছেন, ‘দিল্লীর নির্যাতিতার মা-বাবা পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছেন রাহুল গান্ধী। যা পকসো আইনের ২৩ নম্বর ধারার বিরোধী। এ ধরনের ঘটনায় কখনও নির্যাতিতার পরিবারের পরিচয় ফাঁস করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেও তা বলা রয়েছে। তাই অবিলম্বে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”