Press "Enter" to skip to content

বদলি হতে পারেন জগদীপ ধনখড়, বাংলায় নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আসতে পারেন ইনি


নয়া দিল্লীঃ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্যপাল ের সঙ্গে ের সংঘর্ষের ইতিবৃত্ত সর্বজনবিদিত। নির্বাচনের পরে এবং আগে একাধিকবার মমতার সমালোচনায় মুখর হয়েছেন রাজ্যপাল ধনকর। পরবর্তী হিংসা নিয়েও একইভাবে ভীষণ রকম সরব ছিলেন তিনি। এমনকি নারোদা মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর সিবিআই দপ্তরে পৌঁছানো নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। এছাড়া বাংলায় ৩৫৬ ধারা জারি নিয়েও মমতাকে ধমক দিয়েছেন রাজ্যপাল। সে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকেই এবার তলব করল কেন্দ্র। গতকাল রাতেই দিল্লি পৌঁছেছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, আগামী দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে রাজ্যপালের। কিন্তু হঠাৎ এভাবে রাজ্যপালকে দিল্লিতে ডাকার কারণ কি? সূত্রের খবর অনুযায়ী এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যপাল পরিবর্তনের জল্পনাও। কেন্দ্রের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর যেভাবে কাজ করছেন তাতে সম্পূর্ণ খুশি নয় কেন্দ্র। একথা ঠিক যে বিশেষত একুশের নির্বাচনের পর খোলাখুলি নরেন্দ্র মোদীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘর্ষে এই মুহূর্তে উত্তাল রাজনীতি। এরইমধ্যে বাংলার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে রাজ্যপালের আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেই মনে করছে কেন্দ্র।

যদিও বেশ কয়েকবার ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের তলব করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর এবং যথেষ্ট কড়া ভাষায় তাদের সমালোচনা করেছেন তিনি। কিন্তু সূত্রের খবর কেন্দ্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে যেভাবে প্রশাসন চলছে তাতে আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া সম্প্রতি রাজভবনে নিয়োগকে ঘিরেও জগদীপ ধনকরের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। আর সেই কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে রাজ্যপাল পদ থেকে।

কেন্দ্র সরকার এ নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও একটি সূত্র জানাচ্ছে, পরিবর্ত তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। আরিফ সংখ্যালঘু এবং নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে। আর সেই কারণেই বাংলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আরিফের মাধ্যমে বড় বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, রননীতির ক্ষেত্রেও জগদীপ ধনকরের তুলনায় আরও বেশি চরমপন্থী আরিফ। ইতিমধ্যেই কেরলে যথেষ্ট সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। শাহ বানো মামলায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধাচারণ করে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন আরিফ মহম্মদ খান। তার পরেই তিনি যোগ দেন বিজেপিতে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সরকারের তিন তালাক বিলকেও সমর্থন করেন আরিফ। আর সেই কারণেই, তাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে অভিষিক্ত করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আরিফ মহম্মদ খান রাজ্যপাল পদে অভিষিক্ত হলে সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও বাড়বে বৈ কমবে না। অন্য আরেকটি সূত্র অবশ্য বলছে, এখনই জগদীপ ধনকরকে বদল করার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাংলার বর্তমান আইনি পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনার জন্যই তাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে।