Press "Enter" to skip to content

বন্ধুত্বের নাম ধোকা! পাকিস্তানি জনগণের উপর ভুল ভাল ওষুধ টেস্টিং চালাচ্ছে চীন

[ad_1]

করোনা আবহকে কাজে লাগিয়ে নিজের আর্থিক উন্নতি করতে লেগে পড়েছে চীন। বিভিন্ন দেশকে ভ্যাকসিন তৈরির কাচা মাল, ভ্যাকসিন, কোভিড পরীক্ষার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে চিন তার বাণিজ্য একেবারে তুঙ্গে রেখেছিল। যেখানে ডেল্টা, অমিক্রণের কারণে বাকি দেশের অবস্থা খারাপ সেখানে চিনের মুনাফা সর্বোচ্চ। এখন তারা আরো বেশি মুনাফা কামাতে চাই তাদের ঐতিহাসিক ভেষজ ওষুধ বিক্রি করে। সম্প্রতি এক নতুন খবর সামনে এসেছে।

চিন তার ঐতিহাসিক কোভিড19 ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করছে পাকিস্থানের জনসংখ্যার উপর। পাকিস্থানের মতে এই ট্রায়াল সফল হয়েছে। যদিও আমেরিকা, ইউরোপের বিজ্ঞানীরা এই সব ওষুধ ব্যাবহারে সতর্কতা জারি করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন এই ভেষজ ওষুধ সেবন ঠিক নয় এতে অনেক সমস্যা হতে পারে। চিনের দাবী হচ্ছে ভারতের আয়ুর্বেদের মত তাদের ওষুধও খুবই উপকারী যা কভিডের চিকিৎসা সহজেই করতে পারবে।


কিন্তু আয়ুর্বেদ ওই ভেষজ ওষুধের থেকে অনেক শ্রেয়। এমনকি বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর টেড্রস ভারতীয় আয়ুর্বেদকে প্রচার করার জন্য ঐতিহাসিক ভেষজ ওষুধের একটা কেন্দ্র স্থাপন করবেন। বিগত বছরগুলোতে আয়ুর্বেদ যতটা কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে চৈনিক ভেষজ ওষুধের কার্যকারিতা অতটাও প্রমাণিত হয়নি। চিন তাদের ঐতিহাসিক ভেষজ জরিবুটি ব্যাবহার করে ওষুধ বানিয়েছে যা কভিড মোকাবিলায় সক্ষম। চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং নিজেই এই ওষুধের সমর্থনকারী। ভারতের যেমন যোগ ব্যায়াম ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ সারা বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছে তেমনি চৈনিক রাষ্ট্রপতিও তাদের এই ওষুধ দিয়ে সারা বিশ্বে এক নতুন ব্যাবসা করতে চান।

শি জিংপিং নিজেই বলেছেন ঐতিহাসিক চৈনিক ভেষজ ওষুধ এক অমূল্য সম্পদ তিনি চান সারা বিশ্বে এই সম্পদ ছড়িয়ে দিতে। কিন্তু মূল সমস্যা এই যে, বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা বলেছেন যে এই ওষুধগুলো কোভিড মোকাবিলায় ঠিক নয়। ডাব্লিউ এইচ ও অনেক নেতিবাচক মনোভাব সতর্কতা জারি করেছিলেন। পরে এই সতর্কতা কমিয়ে দেওয়াতে আমেরিকার অনেক বিজ্ঞানী বলছিলেন যে ডাব্লিউ এইচ ও এই ওষুধগুলোর বিষক্রিয়া সম্পর্কে ঠিক মত সতর্কতা জারি করছেন না।

এই ওষুধি আদৌ ঠিক মত কাজ করে কিনা তার কোনো সাক্ষ্য নেই। তারপর এই ওষুধি তৈরিতে বাঘ, পাঙ্গলিন, ভল্লুক ও গন্ডারের অংশবিশেষ যা এই সব জীব জন্তুদের জন্যও ক্ষতিকারক। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানীরাও এই ওষুধের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছেন। যুক্তরাজ্যের এক্সেটের নামে একটা বিশ্ব বিদ্যালয় বলছে এই ওষুধ গুলো বিষাক্ত,ভেজাল এবং তাদের অনেক নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

পশিমী দেশগুলো চিনা ওষুধ না কেনায় চিন গালফ দেশগুলোতে নিজের ওষুধ বিক্রির চেষ্টা করে। সবপ্রথম কুয়েতে তারা এই ওষুধের সফলতার প্রমাণ দেখায় এবং কুয়েতের কিছু ওষুধের দোকানে চৈনিক এই ভেষজ ওষুধ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু একটা বৃহৎ পাল্লায় এই ওষুধ কুয়েতেও ব্যাবহৃত হতে দেখা যায় নি। চিন তিন রকমের ওষধি বানিয়েছিল—১. লিয়ান হুয়া যেটি কুয়েতে বিক্রি করে, ২.জিনহুআ যেটি পাকিস্থানের মানুষের উপর পরীক্ষণ চলছে আরেকটা হচ্ছে ৩. সুই বি যেটি একটি ইনজেকশন।

জিনহুআ ওষুধটি পরীক্ষণের সময় পাকিস্থান দেশের যে কোনো মানুষকে এলোপাথাড়ি তোলে এবং তার উপর পরীক্ষণ করে। এখনও পর্যন্ত পাকিস্থান বলেছে এই নিরীক্ষণ সফল হয়েছে। আগত সময়ে সুই বি নামক ইনজেকশনটিও পাকিস্থানে নিরীক্ষণ হতে পারে। আসলে চিন এখানে পাকিস্তানকে ব্যাবহার করছে তার এই ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য এবং বিশ্বকে ওষুধগুলোর ফলগুলো দেখতে চাইছে। যদিও এই ওষুধ গুলোর দীর্ঘমেয়াদী ফল কি হবে তা অদূর ভবিষ্যতেই জানা যাবে।

[ad_2]