Press "Enter" to skip to content

বিশ্রী অবস্থা! ডোমপদে চাকরিপ্রার্থী স্নাতকে ইতিহাসে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত স্বর্ণালী


কিছুদিন আগে খবর ছড়িয়েছিল যে, মেডিক্যাল কলেজে ডোম পদে চাকরির জন্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ইঞ্জিনিয়াররা আবেদন করেছে। যেখানে ওই পদের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাশের যোগ্যতা নির্ধারণ ছিল, সেখানে উচ্চ শিক্ষিতদের হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ায় সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল। আর এরই মধ্যে সেখানে আবেদনকারী এক মহিলা সামনে এসেছেন। যিনি স্নাতকে ইতিহাসে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত। শিবপুরের িন্দা স্বর্ণালী সামন্ত এনআরএস কলেজে ডোম পদে চাকরির জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, খুবই অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন স্বর্ণালী। শিবপুরে দেবব্রতর সঙ্গে অল্প বয়সেই সংসার পাতেন তিনি। তবে বিয়ের পরেও পড়াশোনা ছাড়েন নি। স্নাতকে ইতিহাসে পড়াশোনা করে স্বর্ণ পদক পান স্বর্ণালী। সরকারি পাওয়ার জন্য হাজার চেষ্টা করলেও সফল হন নি তিনি। এরপর বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় রিসেপশানিস্টের কাজ করতে হয় তাঁকে।

স্বর্ণালীর স্বামী দেবব্রত উবের-এর বাইক চালান। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও কোনওমতে সুখে শান্তিতে কাটছিল জীবন। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে ছোট্ট সংসারে নেমে আসে কষ্টের কালো মেঘ। দম্পতির একমাত্র মেয়ের খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্ত করে সংসার টানা খুব কষ্টকর হয়ে উঠেছিল তাঁদের। আর সেই কারণেই এনআরএসে ডোম পদে চাকরির আবেদন করেন স্বর্ণালী।

স্বর্ণালী জানান, চাকরির বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট। তিনি জানতেন না যে, ওটি ডোমপদের বিজ্ঞপ্তি ছিল। যদিও, পরে জানতে পেরেও আর পিছিয়ে আসেন নি তিনি। স্বর্ণালী জানান, একটা চাকরি খুবই দরকার। সরকারি চাকরি হলে নিরাপদ হয়। মেয়েরা সবই পারে। নার্স, আয়া সব কাজ মেয়েরাই করে। তাই ডোমের কাজ পারব না কেন? এই কারণেই আর পিছিয়ে আসিনি।

চাকরির আবেদন করার পর রবিবার এনআরএসে গিয়ে লিখিত পরীক্ষাও দিয়ে এসেছেন স্বর্ণালী। এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। স্বর্ণালী জানান, আমি মনে প্রাণে চাইছি চাকরিটা হয়ে যাক। কারণ চাকরিটা হলে আমার এই পরিবারতা বেঁচে যাবে। নাহলে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।