Press "Enter" to skip to content

‘বেঁচে থাকতে মুসলিম হব না” নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে পায়ে হেঁটে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে প্রবীণ

সাহারানপুরঃ ধর্মান্তকরণ মামলায় হাজার হাজার মানুষের তালিকায় ের সাহারানপুরের এক যুবকের নাম ভুল ভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় তাঁর জীবন নরক হয়ে উঠেছে। সমাজের মানুষ তাঁকে , দেশদ্রোহী আর বলে প্রতারিত করছে। আর সেই কারণেই প্রবীণ নামের ওই যুবক নিজের হারিয়ে যাওয়া সম্মান ফেরত পেটে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার জন্য বেরিয়ে পড়েছে। আর এর জন্য সে ২০০ কিমি পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ঘটনা সাহারানপুরের নাগল থানা এলাকার শীতলাখেড়ির। সেখানে প্রবীণ কুমার নামের এক যুবককে গত মাসে ইউপি এটিএস ধর্মান্তকরণ মামলায় করেছিল। তাঁরা যেই তালিকা পেয়েছিল, সেখানে প্রবীণের নাম ছিল। যদিও, তদন্তে প্রবীণের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে মুক্ত করা দেওয়া হয়। তাঁকে এই মামলায় ক্লিনচিটও দেওয়া হয়েছে।

ধর্মান্তকরণ মামলায় প্রবীণকে নির্দোষ বললেও সমাজের মানুষ তাঁকে বহিষ্কার করেছে। গ্রামবাসীরা প্রবীণকে জঙ্গি আর সমাজ গতিবিধিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করেছে। এমনকি তাঁর বাড়ির দরজাতে জঙ্গি পর্যন্ত লিখে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রবীণ জানিয়েছে যে তাঁকে ষড়যন্ত্র অনুযায়ী ফাঁসানো হয়েছে। সেই জানিয়েছে, না আমি নিজের ধর্মপরিবর্তন করেছি, আর না কারও করিয়েছি। প্রবীণ জানায়, আমি মুসলিম হওয়া নিয়ে কোনদিনও ভাবতেও পারিনা।

আপনাদের বলে দিই, প্রতারিত যুবক একজন কবি/লেখক। সে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ আর নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে দুটি বইও লিখেছে। প্রবীণ জানিয়েছে, সে প্রধানমন্ত্রী মোদী আর মুখ্যমন্ত্রী যোগীর বড় প্রশংসক। আর সেই কারণে সে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে মুসলিম হওয়ার কথা ভাবতেই পারে না।

গত মঙ্গলবার প্রবীণ জেলাশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে অভিযোগ করেছিল। এরপর সে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নিজের দুঃখের কথা জানাতে চেয়ে পায়ে হেঁটে দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। আপাতত সে মুজফরনগরে রয়েছে। ১১ দিনের মধ্যে সে নিজের যাত্রা পূরণ করার আশা জাহির করেছে।