Press "Enter" to skip to content

ভারতের ভয়ে নিজেদের কোম্পানিকে শ্রীলঙ্কা থেকে অন্য দেশে পাঠাল চীন, করল গুরুতর অভিযোগ

[ad_1]

নয়া দিল্লিঃ আন্তর্জাতিক দিক থেকে গত কয়েক মাসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এই বদল ভারত, চীন ও শ্রীলঙ্কার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে এবং এই পরিবর্তনের মধ্যে ভারতের কূটনৈতিক জয়ও লুকিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চীনের ঘনিষ্ঠ থাকা শ্রীলঙ্কা এখন ভারতের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, বলতে গেলে ভারতের ভরসায় আসছে এবং ভারতও এই উপলক্ষের গুরুত্ব বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা বন্দর, অবকাঠামো, জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং উৎপাদন খাতে আরও বেশি ভারতীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। বলে দিই কয়েকদিন আগেই ভারত কলম্বোকে তার ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল পরিচালনা করতে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ঘোষণা করেছিল।

গত শনিবার শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপক্ষে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, এই সময় দুই মন্ত্রী শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রকল্প এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন যা দ্বীপের দেশটির অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে। অর্থনৈতিক প্যাকেজের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাজাপক্ষে শ্রীলঙ্কায় আরও ভারতীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে শ্রীলঙ্কায় একটি অনুকূল পরিবেশ প্রদান করা হবে যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। রাজাপক্ষে শ্রীলঙ্কার সাথে ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং সমর্থনের প্রশংসা করেন।

এই পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এটা দেখেই বোঝা যায় যে, কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিল ভারত। এরপর ক্ষুব্ধ চীন তার বিদেশমন্ত্রীকে শ্রীলঙ্কায় পাঠায়। এরপর পরোক্ষভাবে ভারতকে নিশানা করেন চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সে সময় ওয়াং ই ভারত সরকারকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, চীন ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্কে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। চীনা বিদেশমন্ত্রী কলম্বোতে সাম্প্রতিক ২৪ ঘন্টা সফরের সময় ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দেশগুলির জন্য একটি ফোরামের প্রস্তাব করে বলেছিলেন৷ “কোনও তৃতীয় পক্ষের চীন-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।”

ভারত-শ্রীলঙ্কার ঘনিষ্ঠতায় হতাশ ওয়াং শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বের সাথে দেখা করেন এবং তাদের “বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের” কথা মনে কোরআন। এখন যখন দেখা যাচ্ছে যে, ভারত-শ্রীলঙ্কা কাছাকাছি আসছে, তখন চীনও জ্বালা মেটাতে মন্তব্য শুরু করেছে। চীনা বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, “এটি কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে না এবং কোনও তৃতীয় পক্ষের দ্বারা হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করেছে।”

এই প্রথম নয় যে চীন ভারতকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কলম্বোর চীনা দূতাবাস “তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগের” পরিপ্রেক্ষিতে একটি চীনা কোম্পানিকে উত্তর শ্রীলঙ্কা থেকে মালদ্বীপে তার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থানান্তরিত করার বিষয়ে টুইট করেছিল। যদিও চীনা দূতাবাস তৃতীয় পক্ষের নাম জানায়নি, তবে এটি স্পষ্টতই যে, তাঁরা ভারতকেই উল্লেখ করেছিল, কারণ ভারত জাফনা উপদ্বীপের তিনটি দ্বীপে চীনা প্রকল্পে আপত্তি জানিয়েছিল। আর এটাও স্পষ্ট যে, তাঁরা ভারতের ভয়ে এবং ভারতের আপত্তির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

একদিকে যখন এসব হচ্ছে। তখন অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার মানুষ আনন্দে রয়েছে এবং সেখানকার বুদ্ধিজীবীরা ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে। শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ডব্লিউএ উইজেবর্ধনে শনিবার বলেছেন, “ভারতের আর্থিক প্যাকেজ কিছু সময়ের জন্য শ্রীলঙ্কাকে একটি বড় অর্থনৈতিক সংকট থেকে রক্ষা করেছে।”

এই বিবৃতিটি দ্বীপরাষ্ট্রে প্রায় সমস্ত প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতির মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে তার ক্রমহ্রাসমান বিদেশী মুদা ভাণ্ডার এবং খাদ্য আমদানির জন্য ভারতের তরফ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণের ঘোষণা করার পরে এসেছে৷ শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় হাইকমিশনার গোপাল ওয়াঘলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অজিত নিভার্ড ক্যাব্রালের সাথে দেখা করেছেন। এবং গত সপ্তাহে RBI দ্বারা ৯০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার কর্মকর্তারা ভারতকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।

[ad_2]