Press "Enter" to skip to content

ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেই সুর বদলাল শ্রীলঙ্কা! চীনকে যা বলল, তা কোনদিনও শোনেনি জিনপিং


নয়া দিল্লিঃ যখন থেকে বিশ্ব “-জনিত ” দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, তখন থেকেই ছোট দেশগুলি গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটে ডুবে গিয়েছে। এর উপর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নির্লজ্জ আচরণ করে এবং এভারগ্র্যান্ডকে ডুবিয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে চীন। যে দেশগুলো চীনের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক লাভের আশা করেছিল তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ভারতের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কাও চীনের এইসব অপকর্মের শিকার হয়েছে এবং এখন তাঁর দিকে অন্ধকার অর্থনৈতিক ভবিষ্যত তাকিয়ে আছে।

চীন এবং তাঁর ঋণ ফাঁদ কূটনীতি এই ভিত্তির উপর কাজ করে যে, তাঁদেরই সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে এবং তাঁরা একটি সার্বভৌম সরকারের সমস্ত ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এরফলে শ্রীলঙ্কা চীনের অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও অনুপ্রবেশের শিকার হয়েছে। বেইজিং শ্রীলঙ্কাকে দেউলিয়া করে তাঁকে তাঁদের ট্যাক্স ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। গত কয়েক মাসে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক শ্রেণীর প্রতিবাদী কণ্ঠ এটাই বুঝিয়েছে যে, চীনের প্রতি শ্রীলঙ্কার মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে এবং সেখানে চীনের বিরুদ্ধে একটি অঘোষিত বিপ্লব চলছে।

শ্রীলঙ্কার অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির রাজনৈতিক শ্রেণী এবং এর নেতারা প্রকাশ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে টার্গেট করছেন। জিনপিংকে তাঁর বিভ্রান্তিকর ঋণের ফাঁদ কূটনৈতিক কৌশলের কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির ক্ষতির জন্য অভিযুক্ত করে, শ্রীলঙ্কার আইনজীবী এবং সংসদ সদস্য বিজয়দাসা রাজাপক্ষে সিসিপি নেতাকে ৪৫-দফার ৬ পৃষ্ঠার একটি নিন্দামূলক চিঠি লিখেছেন।

৪৫দফার এই চিঠিতে রাজাপক্ষে চীনের ওয়ান বেল্ট-ওয়ান রোড থেকে পিছু হটতে আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, চীনের বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলকে শক্তিশালী করার অজুহাতে আপনার দেশ ‘ওয়ান বেল্ট-ওয়ান রোড’ নীতি চালু করে আমাদের পুরনো সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন যে, চীন শুধুমাত্র এই দ্বীপ রাষ্ট্র ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই এসেছিল।

রাজাপক্ষে জিনপিংকে নিন্দা করে বলেছেন, “এটা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান যে আমাদের সাথে আপনার বন্ধুত্ব আর অকৃত্রিম এবং স্পষ্ট নয়, বরং আপনি বিশ্বশক্তি হওয়ার আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষা অর্জনের জন্য আমাদের সম্পর্ককে ব্যবহার করছেন। আপনি আমাদের দেশের অন্যান্য শক্তিকে আপনার ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার বানিয়ে আমাদের অঞ্চলের পাশাপাশি বিশ্বের শান্তি বিঘ্নিত করছেন।”

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাম্বানটোটা বন্দর চীনকে উপহার দেওয়া এবং চীনের ঋণ বৃদ্ধির কারণে শ্রীলঙ্কা এখন চীনের অর্থনৈতিক দাস হওয়ার পথে। শ্রীলঙ্কা গত ১৫ বছরের সমস্ত চুক্তির তদন্ত করবে উল্লেখ করে এমপি আরও বলেন যে, “আপনাদের দ্বারা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্ত প্রকল্প আর লেনদেন রদ করা হবে এবং আমরা এই বিষয়ে প্রাপ্ত ঋণ শোধ করতে কোনও দায়িত্ব পালন করব না ও কোনও বাধ্যবাধকতাও বহন করব না। কোনও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে, কোনও অবস্থাতেই এই ধরনের চুক্তির সূচনার তারিখ থেকে ১৫ বছরের বেশির অনুমোদন করা হবে না।”

যেখানে ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর শ্রীলঙ্কার জনসাধারণকে সচেতন করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভারত নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এবং কলম্বো চীনকে উপযুক্ত জবাব দিয়ে ৫ জানুয়ারী বুধবার দ্বীপের উত্তর-পূর্ব ত্রিনকোমালি প্রদেশে যৌথভাবে একটি ট্যাঙ্ক খামার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েলের সহযোগী সংস্থা IOC (LIOC)-কে ত্রিনকোমালি অয়েল ট্যাঙ্ক ফার্মের যৌথ উন্নয়নে ৪৯% অংশীদারিত্ব দেওয়া হবে, আর সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ৫১% অংশিদারিত্বে থাকবে৷

trincomalee oil tank farm

চীন উপসাগরে অবস্থিত, এই তেল ট্যাঙ্ক ফার্ম ট্যাঙ্কটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা একটি রিফুয়েলিং স্টেশন হিসাবে কাজ করার জন্য তৈরি করেছিল। তেল খামারে ১২ হাজার কেজি ধারণক্ষমতার ৯৯টি স্টোরেজ ট্যাঙ্ক রয়েছে। বর্তমানে LIOC 15টি ট্যাঙ্ক পরিচালনা করে, তবে চুক্তিতে যৌথভাবে ৬১টি ট্যাঙ্ক তৈরি করা হবে। বলে দিই, এই চুক্তি গত ৩৮ বছর ধরে আটকে ছিল। যা এখন ্তবায়িত হয়েছে।