Press "Enter" to skip to content

‘ভোটে গোপনে তৃণমূলের হয়েই কাজ করেছি” বিজেপি ছেড়ে TMC তে ফেরার আর্জি প্রাক্তন মন্ত্রীর


ঃ দীপেন্দু বিশ্বাস, সোনালী গুহ, অমল আচার্য, সরলা মুর্মু এঁরা সবাই ভোটের আগে টিকিট না পেয়ে তৃণমূল (All India Trinamool Congress) ছেড়ে বিজেপিতে (Bharatiya Janata Party) দিয়েছিলেন। যদিও, বিজেপিতেও টিকিট মেলেনি। এরপর বাংলায় রেকর্ড আসন নিয়ে তৃণমূল আবারও ক্ষমতায় আসার পর এদের মোহভঙ্গ হয়, আর এঁরা আবার তৃণমূলে ফেরত যেতে চেয়ে কেউ হাইকম্যান্ডকে চিঠি লিখেছেন, আবার কেউ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টুইটারে ট্যাগ করে পোস্ট করেছেন। যদিও, দীপেন্দু বিশ্বাস এখনও তৃণমূলে ফিরে যেতে চেয়ে কোনও পদক্ষেপ নেননি। আর এরই মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবার ফেরত যেতে চেয়ে আবেদন করেছেন।

একুশের নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা (Bachchu Hansda)। বিজেপিতে যোগ দিলেও তিনি টিকিট হাসিল করতে পারেন নি। এরপর নির্বাচনের মধ্যেই তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে বিজেপি ওনাকে ঠিকমতো ব্যবহারই করছে না। তিনি এও অভিযোগ করেছিলেন যে, দলের নেতারা ওনার সঙ্গে যোগাযোগই করছেন না। আর সেই সময় তিনি তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। এমনকি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময় জেলা নেতৃত্ব ওনাকে আর ফিরিয়ে নেয়নি।

এখন তৃণমূল রাজ্যের আবারও ক্ষমতায় ফেরার পর রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাচ্চ হাঁসদা দাবি করছেন যে, তিনি নির্বাচনের সময় গোপনে তৃণমূলের হয়েই কাজ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেই মুহূর্তে দল আমাকে ফিরিয়ে নিলে আমি সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারতাম। বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর আর তপন আসনটি জিতিয়েও দিতে পারতাম। তবে আমি গোপনে দলের হয়ে যেটুকু কাজ করেছি, তাতে দলের অনেকটাই ভালো ফল হয়েছে। এখন দল যদি আমাকে ফিরিয়ে নেয়, তাহলে আমি আরও কাজ করব।”

যদিও, বাচ্চু হাঁসদার এই দাবি মেনে নিতে পারছে না দলের একাংশ। দলের কর্মীদের দাবি, বাচ্চু একাধিক দুর্নীতিতে যুক্ত। আর তাঁর এই দুর্নীতির ফলে নির্বাচনে ওই বিধানসভা আসনে আমরা ২৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে গিয়েছিলাম। লোকসভায় তৃণমূলের আসন হাতছাড়া হওয়ার মূল কারণ এটাই। তৃণমূলের কর্মীদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে বাচ্চু হাঁসদার বদলে কল্পনা কিস্কুকে টিকিট দেওয়ায় তৃণমূল মাত্র ৪ হাজার ২০০ ভোটে হেরেছে। এর থেকেই বোঝা যায় যে, বাচ্চু হাঁসদার কোনও গুরুত্ব নেই এলাকায়। বরঞ্চ ওকে দলে নিলে মানুষ আর কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে।