Press "Enter" to skip to content

মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হয়েছিল মামলা! আদালতের রায় শুনে মুখে হাসি বিজেপির


মিঠুন চক্রবর্তীর জনপ্রিয় সংলাপই যে রাজনৈতিক হিংসার মূল, এই দাবিকে খারিজ করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি। নির্বাচন পরবর্তীকালে জনমানসে হিংসা ছড়ানোর জন্য কোনওভাবেই মিঠুন চক্রবর্তীর ফিল্মি সংলাপ দায়ী নয় এমনই মন্তব্য করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ। ের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আপাতত স্বস্তিতে রয়েছে বর্ষীয়ান এই অভিনেতা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২১ সালের শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ব্রিগেড সমাবেশ সহ একাধিক জনসভাতে তাঁকে গেরুয়া প্রচারে দেখা গিয়েছে। প্রচারে চটকদারি আনতে নিজের একাধিক ছবির সংলাপ টেনে এনেছিলেন তিনি। নির্বাচন পরবর্তীকালে রাজনৈতিক হিংসার অন্যতম কারণ হিসাবে মিঠুনের সেই সব ফিল্মি সংলাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বর্ষীয়ান এই অভিনেতার বিরুদ্ধে মানিকতলা থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় পাল নামের এক ব্যক্তি।

অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, উস্কানিমুলক মন্তব্য, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই সময় হতাশ হয়েছিল গেরুয়া শিবির। তবে এখন আদালতের রায় শুনে মুখে হাসি সমর্থকদের।

এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। আদালত এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তদন্তে নেমে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মিঠুনকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বুধবার এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে বলা হয়, গেরুয়া শিবিরের প্রচারের জন্য মিঠুন তাঁর অভিনীত সিনেমার যেসকল সংলাপ ব্যবহার করেছিলেন, তা কখনোই ভোটপরবর্তী হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী হতে পারে না বলেই মনে করেছেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছেন,জনপ্রিয় সংলাপ হিংসা ছড়িয়েছে, এমন কোনও উদাহরণ আছে কি?

এদিনের শুনানিতে মিঠুনের পক্ষের আইনজীবী বিকাশ সিংকে সেভাবে কোনো প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেনি আদালত। তবে এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কৌঁসুলি শাশ্বতগোপাল মুখোপাধ্যায়ের সামনে একাধিক প্রশ্ন করেছেন বিচারপতি চন্দ। এপ্রসঙ্গে উদাহরণ দিতে গিয়ে ১৯৭৫ সালের জনপ্রিয় হিন্দি ছবি “শোলের” প্রসঙ্গ টেনে এনে বিচারপতি চন্দ বলেছেন, শোলের আমজাদ খানের ডায়লগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বহু সিনেমায় বিভিন্ন জনপ্রিয় ডায়লগ শোনা গিয়েছে, আমি জানতে চাই সেটা থেকে আদেও কোন‌ও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে কিনা?

মিঠুনের জনপ্রিয় একটি সংলাপই যে হিংসার প্রকৃত কারণ হয়ে উঠতে পারে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিচারপতি চন্দ। সরকারি কৌঁসুলির উদ্দেশ্য তিনি বলেছেন, মিঠুন চক্রবর্তীর ডায়লগটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, তিনি স্বীকার‌ও করে নিয়েছেন যে তিনি ওই ডায়লগ দিয়েছেন। তাহলে এর পরেও কি তদন্তের প্রশ্ন থেকে যায়?

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে অশান্তি ছড়ানোর সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর এই ডায়লগের কোনো সম্পর্কই থাকতে পারে না। আগামী মঙ্গলবার দুপুর দুটোয় এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সেদিন এবিষয়ে তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে পেশ করার আদেশ বলবৎ করেছেন বিচারপতি চন্দ।