Press "Enter" to skip to content

রামায়ণ কিভাবে একটা দেশের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল জানলে প্রত্যেক হিন্দুর বুক গর্বে ফুলে উঠবে।

ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একটা দেশ যেটা প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের সমূহ। এই দেশে বিশ্বের সবথেকে বেশি মুসলিম বসবাস করে। অর্থাৎ বিশ্বের সবথেকে বড়ো মুসলিম দেশ হলো ইন্দোনেশিয়া। ভারতের মতোই এই দেশ বহু বছর ধরে পরাধীন ছিল। ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৩৫০ বছর ধরে ডাচেদের অধীনে ছিল। দ্বিতীয়বিশ্ব যুদ্ধের পর ইন্দোনেশিয়া দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ডাচেদের থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার সময় ইন্দোনেশিয়া দেশে এমন এক ঘটনা ঘটেছিল যা জানার পর আপনিও অবাক হবেন।

আসলে বহুসংঘর্ষের পর ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপগুলো স্বাধীনতা পেলেও একটা দ্বীপ তখনও স্বাধীনতা পায়নি। ডাচেদের বক্তব্য ছিল যে ওই দ্বীপ কখনো ইন্দোনেশিয়ার অংশ ছিল তার কোনো প্রমান তারা দিতে পারেনি। তাই এই দ্বীপ ডাচেদের অধীনেই থাকবে। তাই ইন্দোনেশিয়া এই বিষয় নিয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্র সঙ্ঘে উপস্থিত হয়। সংযুক্ত রাষ্ট্র সঙ্ঘও ইন্দোনেশিয়াকে প্রমান পেশ করার জন্য বলে। সেই সময় ইন্দোনেশিয়া যা করেছিল জানলে প্রত্যেক হিন্দুর বুক গর্বে ফুলে উঠবে। সেই সময় ইন্দোনেশিয়ার লোকজনেরা ওই দ্বীপের প্রচলিত রামকথাকে দস্তাবেজ হিসেবে সংযুক্ত রাষ্ট্রের কাছে পেশ করে।

দস্তাবেজ নিয়ে উপস্থিত ইন্দোনেশিয়ার লোকজনেরা সংযুক্তরাষ্ট্রকে জানায় যে বানররাজ সুগ্রীব সীতা মা এর খোঁজের জন্য সমস্থ দিশায় দূত প্রেরণ করেছিল। সেই দূতেদের কিছুজন এই দ্বীপেও উপস্থিত এসেছিল এবং তারা আর ফিরে যায়নি কারণ সুগ্রীব মহারাজ নির্দেশ দিয়েছিল যারা সীতামাকে খুঁজে পাবে না তারা যেখানে যাবে সেখানেই যেন থেকে যায় আর সেই আদেশ মেনেই আগত দূতেরা এখানেই থেকে যায়, যাদের বংশধর আমার। পরে সংযুক্তরাষ্ট্র সেই দস্তাবেজকে মান্যতা দিয়ে ওই দ্বীপ ইন্দোনেশিয়াকে প্রদান করে। এর অর্থ এই যে হিন্দুসঙ্গস্কৃতির চিহ্ন বিশ্বের সমস্থ ভূভাগে পাওয়া যায়।

ভারতের সুদূর পূর্বে থাকা সুমাত্রা, জাভা, মালেশিয়া থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা, চীন এমনিই আমেরিকা ও ইউরোপের সভ্যতার সাথে রাম যুক্ত রয়েছেন। শ্রী রাম এই ধরাধাম ছাড়ার পরেও তার জীবনীকে কলমবদ্ধ করা হয়েছে যাতে মনুষ্য জীবন,সমাজ জীবন, রাষ্ট্রজীবন সবক্ষেত্রেই তার জীবনের থেকে প্রেরণা লাভ করতে পারে। আজ ভারতকে রামের দেশ বলতে অনেকের কষ্ট হয় কিন্তু একথা কখনই অস্বীকার করা যাবে না যে ভারতের সঙ্গস্কৃতির পুরোটাই ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

আজ বিশ্বব্যাপী ভারতের সঙ্গস্কৃতীর এত সুনাম সমস্তটাই ভগবান রামের প্রেরণা ছাড়া কিছুই নয়। রাম নাম ও রামকথা আজ ভারতকে যে গৌরব দিয়েছে তা কখনোই কেউ ভারতকে দিতে পারেনি। আজ যদি কেউ ভগবান রামকে ছাড়াই ভারতকে বিশ্বগুরু বানানোর কথা ভাবে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন এই যে ভগবান রামকে ছাড়া কেমন ভারত আর কেমন বা গুরুতা?

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.