Press "Enter" to skip to content

লন্ডনে মোদীজি বললেন এমন কিছু কথা শুনলে প্রতিটি ভারতীয় মোদীজির ভক্ত হয়ে যাবে !!

দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাল লন্ডনে এক ঐতিহাসিক বক্তব্য রাখলেন যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিভিন্ন চর্চা শুরু হয়েছে। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বের দরবারে তোলার জন্য একটা ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ভারত কি বাত সবকে সাথ’। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে শুরু করে দেশের অগ্রগতির কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন প্রসূন যোশী মহাশয়। আজ আমরা আপনাদের কাছে অনুষ্ঠানের বিশেষ কিছু বার্তা আপনাদের কাছে তুলে ধরবো যা জানার পর আপনারাও মুগ্ধ হবেন।

 

  • রেলওয়ে স্টেশনে চা বিক্রি করে জীবন শুরু এবং রয়েল প্যালেস থেকে  এখানে অনুষ্ঠানে আসা এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে মোদীজি বলেন, রেলস্টেশন থেকে রয়েল প্যালেস এর যাত্রা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিন্তু রয়েল প্যালেস আমার নয় এটা তো একটা ব্যাবস্থা। আমি ১২৫ কোটি ভারতবাসীর একজন কর্মী মাত্র।
  • ভারতের পরিবর্তন সংক্রান্ত একটা দেখানো হয় মোদীজি সহ সমস্থ দর্শককে। ভিডিও দেখার পর মোদীজি বলেন লোকতান্ত্রিক দেশে যখন মানুষ কোনো সিধান্ত নেয় তখন একজন চা বিক্রেতাও লন্ডনের রাজ প্রসাদে কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
  • মোদীজি আপনি এত পরিশ্রম করেন তাও দেশের মানুষ কেন আপনার কাছে সমস্থ কিছু দাবি করে?প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত যুক্তির সাথে এই প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কাজ করে মানুষ তাকেই কাজের জন্য ডাকে। এক পরিবারের ৩ ছেলে থাকলে  লক্ষ্য করবেন, পরিবারের বাবা মা সব বিষয়ে ৩ ছেলেকে ডাকলেও কাজের সময় বিশেষ একজনকে ডাকে। মানুষ তার কাছেই দাবি করে যে তাদের আশা পূরণ করতে সক্ষম হয়।
  • দেশের জনগণের সাথে কাজ করা ও একজন শাসক হিসেবে কাজ করা এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য দারুনভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
  • ভারতে ব্যাবস্থায় সিনিয়র সিটিজেনদের(বয়স্ক ব্যাক্তিদের) জন্য বিশেষ ছাড় থাকে। আমরা(সরকার) একবার বলেছিলাম যাদের সামর্থ আছে তারা এই  বিশেষ সুবিধা ছেড়ে দেন না কেন? কিন্তু আমরা এই বিষয়ে কোনো আইন তৈরী করিনি। তার ফলাফল এই যে এখণ পর্যন্ত ৪০ লক্ষ বয়স্ক ব্যাক্তি এসি কোচ এর সুবিধা নেবেন না কারণ তারা এই খরচ নিজে চালাতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, কিন্তু আমি যদি এই বিষয়ে আইন তৈরী করতাম তাহলে দেশজুড়ে আন্দোলন হতো,রাস্তায় আমার কুশপুতুল পোড়ানো হতো।দেশে সৎ ব্যাক্তির অভাব নেই শুধু মানুষকে বোঝাতে হবে এবং তাদেরকে একত্রিত করতে হবে।সরকারের শাসক হওয়ার অহংকার ত্যাগ করে মানুষের সাথে কাজ করাটাই  দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
  • সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর উপর প্রশ্ন করা হলে মোদীজি বলেন, ‘ভারত বাদল চুকা হ্যায়(ভারত পরিবর্তন হয়ে গেছে)’। ইতিহাস সাক্ষী আছে ভারত কখনো অন্যের জমির উপর লোভ করেনি বিশ্বযুদ্ধেও ভারত জমির জন্য লড়াই করেনি। ভারতের সংস্কার অনেক উন্নত সংস্কার, কিন্তু কেউ যদি পেছন থেকে হামলা করে সেনাদের হত্যা করে তাহলে তাদের জেনে রাখা দরকার এটা মোদী, ইটের জবাব পাথর দিয়ে দেওয়া হবে(ইয়ে মোদী হ্যায়, ইট কা জবাব পাত্থর সে দেনা জনতা হ্যায়)।

  • যারা সেনার উপর প্রশ্ন তোলে তাদের বিষয়ে আপনি কি বলবেন? মোদীজি বলেন, আমি এই মঞ্চ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য করতে চাই না তবুও একটা কথায় বলবো “ তাদের সুবুদ্ধি দিক।”
  • স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও কোনো সরকার শৌচালয় এর উপর কোনো নজর দেয়নি। একজন মা শৌচকর্ম এর জন্য রাতের অন্ধকার থেকে সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে(সকাল হলে জঙ্গলে শৌচকর্ম করা হবে এই ভেবে) এর জন্য একজন মাকে কতটা শারীরিক যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তা একমাত্র সেই বোঝে। তাই এই বিষয়ের উপর আমরা জোর দিয়ে দেশের সমস্ত বাড়িতে আমরা শৌচালয় তৈরীর জন্য ব্যবস্থা করেছি যার অনেকাংশ আমরা সম্পূর্ণ করে ফেলেছি।
  • ধর্ষণের ব্যাপারে বলতে গিয়ে মোদীজি বলেন, ধর্ষণ নিয়ে রাজনীতি করা একদম অনুচিত। আমার সরকারের আমলে এত ধর্ষণ হয়েছে আপনার সরকারের আমলে এত ধর্ষণ হয়েছে এইসব বলা ঠিক নয়। ধর্ষণ ধর্ষণই হয়।
  • সবসময় দেশের মেয়েদেরকে প্রশ্ন করা হয় তারা কোথায় গিয়েছিল কেন গিয়েছিল। এই প্রশ্ন প্রতেক ছেলেকেও করা উচিত। দেশ বদলাতে হলে মানসিকতা বদলাতে হবে।
  • বিরোধীদের সমালোচনাকে আপনি কিভাবে দেখেন? মোদীজি বলেন, লোকতান্ত্রিক দেশে সমালোচনা খুবই প্রয়োজন। বিরোধীরা সমালোচনা করলে তবেই সরকার তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরো ভালো পরিষেবা দিতে পারবে। কিন্তু সমালোচনার নামে অন্যকিছু করা লোকতান্ত্রিক দেশে মানায় না।
  • আপনি কি চান, ইতিহাস আপনাকে কেমন ভাবে স্মরণ করুক? মোদীজি বলেন, আপনারা কেউ ের লেখকের নাম বলতে পারবেন? কেউ উত্তর দিতে না পারায় মোদীজি বলেন যে মহান বেদের উপর ভারতের সঙ্গস্কৃতি দাঁড়িয়ে সেই মহান লেখককে ইতিহাস মনে রাখেনি সেখানে মোদীর মতো ছোট খাটো মানুষকে ইতিহাসে তুলে রাখার প্রয়োজন নেই। আমি ইতিহাস বইয়ের পাতার অংশ হতে কাজ করছি না। সবাই যেরম নিজের কাজ করে আমিও সেভাবে নিজের কাজ করছি। আমি চাই আমার দেশকে ইতিহাস বার বার স্মরণ করুক।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.