Press "Enter" to skip to content

হাইকোর্টে মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারের, করোনায় ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার জন্য খেল জোর ধমক


কোভিড মহামারির প্রথম পর্বে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছিল দেশের প্রায় সব রাজ্য সরকারই। তালিকায় ছিল সরকারের নামও। নবান্ন তরফে জানানো হয়েছিল, প্রথম সারির কোন কোভিড যোদ্ধা সংক্রমিত হলে বা ভয়ংকর মহামারীতে তার মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য। এক্ষেত্রে সংক্রমিত হলে এক লক্ষ টাকা এবং কোভিডে মৃত্যু হলে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বারবার আবেদন জানিয়েও ক্ষতিপূরণ পাননি পরিবারগুলি।

সেই সূত্র ধরেই ইতিমধ্যেই একটি মামলাও দায়ের হয়েছে ে। এ মামলাতেই এবার বিচারপতিদের চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলো রাজ্যকে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে মামলাকারী আইনজীবী জোভেরিয়া শাব্বা জানান , “গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে উল্লিখিত পরিবারগুলি রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও টাকা পায়নি।”

বিচারপতিদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেওয়া হবে। এতেই আরও ক্ষুব্ধ হয় বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্য সরকারি চূড়ান্ত সমালোচনা করে তারা প্রশ্ন করেন, “দিয়ে দেব।এই কথার কোনও যুক্তি নেই। কেন দেননি এখনও টাকা?” এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি সরকার পক্ষের আইনজীবী। যার জেরে আরও ক্ষুব্ধ হন বিচারপতিরা। স্পষ্ট জানানো হয়, “রাজ্য কি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে চাইছে? এই অতিমারীর সময় কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করব না।”

এই মামলার আগামী শুনানি রয়েছে ১২ আগস্ট। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এর আগে কোভিড ক্ষতিপূরণ নিয়ে ে ধাক্কা খেতে হয়েছে কেন্দ্র সরকারকেও। ২০০৫ বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুসারে করোনায় মৃতদের পরিবারগুলিকে চার লক্ষ টাকা  ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। যদিও কেন্দ্র জানিয়েছিল সকলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এটা জাতীয় বিপর্যয়। কিন্তু সেই যুক্তি মানতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। পরিষ্কার জানানো হয়েছিল প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবার একইভাবে হাইকোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকারও।