Press "Enter" to skip to content

হলো অপেক্ষার অবসান!পাকিস্তানের বুক চিড়ে বেরিয়ে এলো সবার অভিনন্দন

এত মানুষের ভালোবাসা কি আর বৃথা যায়? শুধু দেশ না বিদেশেরও সবাই অপেক্ষা করছিল ভারতের মাটিতে কখন পা রাখবে অভিনন্দন বর্তমান। এই নামটা দুদিন আগে কেউ শোনেনি। কিন্তু দুদিন ধরে ফেসবুক, টুইটার, ইলেকট্রনিক মিডিয়া সমেত দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে একটাই নাম, সেটা হল ‘অভিনন্দন”।

আর হবেই না কেন? একটা ৬০ বছর পুরানো সেকেন্ড জেনারেশন এর এয়ারক্রাফট নিয়ে পাকিস্তানের অত্যাধুনিক এফ ১৬ বিমান যেটা আবার ফোর্থ জেনারেশন এর। সেটাকে ধাওয়া করে তাঁকে ধ্বংস করে পাকিস্তানে ফেলে দিয়েছে যে, তাঁর নাম সবার মুখে থাকবে না কেন?

ভারতীয় বায়ুসেনার প্রতিটা পাইলটই দুর্দান্ত এবং অসীম সাহসী। তাঁর জন্যই বিশ্ব জুড়ে সব দেশই ভারতীয় বায়ুসেনাকে স্যালুট করে। তবে অভি একটু ভিন্ন। যার স্ত্রী থেকে শুরু করে গোটা পরিবার দেশের হয়ে লড়েছে। তাঁর মানসিকতাটা তো একটু অন্যরকম হওয়ারই কথা।

মিগ ২১ নিয়ে এফ ১৬ কে তাড়ানর সময় অভি ঠিক করে নিয়েছিল, ওদের এদেশে ঢুকতে দেবনা। প্রাণ গেলেও যাবে। এদেশকে রক্ষার দ্বায়িত্ব আমাদের হাতে। আর সেরকম কথা মাথায় নিয়েই এফ ১৬ কে তাড়া করতে করতে চলে গেছিলেন পাকিস্তান সীমান্তের ভিতরে।

কিন্তু বিমান সাথ না দেওয়াতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে প্যারাসুট নিয়ে ল্যান্ড করতে হয় ওনাকে। সেখানে ওনার আহত শরীরের উপর চলে পাশবিক অত্যাচার। তবুও বন্দুক হাতে থাকলেও কোন নিরীহ গ্রামবাসীকে তাক করে গুলি চালাননি উনি।

শেষে পাকিস্তানি সেনা ওনাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ওনার নাম আর পেশা জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেন, কিন্তু ওনার অভিযান সমন্ধ্যে জিজ্ঞাসা করলেই বলেন, ‘আমি এগুলো বলব না” হ্যাঁ শত্রুদের হাতে গিয়েও যেই সাহসিকতা উনি দেখিয়েছেন সেটা গর্ব করার মতন।

তারপর ভারত থেকেও শুরু হয় ওনাকে ফিরিয়ে আনার কাজ। পাকিস্তান থেকে ওনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য শর্ত রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু কম্যান্ডার অভিনন্দনের মতই মাথা নোয়ায় নি ভারত সরকার। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বিনা শর্তে আর অক্ষুণ্ণ অবস্থায় ফেরত দিতে হবে অভিকে। নাহলে বাকিটা ভারত বুঝে নেবে।

ভারত সরকারের এই হুঁশিয়ারির পর পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অভিকে ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। উনি এও বলেন এটা শান্তির জন্য করলাম আমরা। কিন্তু কোন শান্তি? পুলওয়ামা হামলার পর থেকে প্রতিদিন যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করাটা শান্তি?

অভিনন্দনকে গ্রেফতার করার পর কয়েকশ বার সীমান্তে ভারতীয় সেনার উপর ফায়ারিং করাটা শান্তি? নাকি ভারতের বায়ুসীমা লঙ্ঘন করে সেনা ছাউনি গুলো নিশানা করাটা শান্তি? পাকিস্তান বারবার শান্তির কথা বলে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেই চলেছে।

আর এই জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের সাথে কোন কথাবার্তা চালাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান যতই বলুক তাঁরা শান্তির জন্য অভিনন্দনকে ছেড়েছে। সেটা কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ ভারত পুলওয়ামা হামলার পর যা চাপ দিয়েছে। সেটা পাকিস্তানের আশা ছিলনা। তাঁরা জানে যে তাঁরা ভারতের সাথে লড়তে পারবে না। তাই তাঁরা সবার সামনে শান্তির কথা বলে পিছন দিক থেকে ছুড়ি মেরেই চলেছে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সাফ কথায় জানিয়ে দিয়েছে, এটা নতুন ভারত। এই ভারত সন্ত্রাসবাদের বদলা সুদ সমেত নেবে। তবে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসাতে গোটা দেশ জুড়েই খুশির হাওয়া।

Be First to Comment

Leave a Reply