Press "Enter" to skip to content

অধীর চৌধুরীর সেই পাঁচটি কথা, যেগুলো কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই হাতিয়ার করে নিলেন মোদী

লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের চর্চায় ৬০ এর বেশি সাংসদ অংশ নিয়েছিলেন। একদিন আগেই কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী মোদী সরকারের উপর আক্রমণ করে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, যে সেটা বিজেপির কাছে শাপে বর হয়ে যায়। অধীর চৌধুরীর ওই বয়ানের জন্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে আরও সহজ হয়ে যায়।অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছিলেন, কংগ্রেস এত উঁচু যায়গায় আছে, যে তাঁরা কখনো পড়ে যায় না। কিছুটা টালমাটাল হতে পারে। উনি বলেছিলেন, আজ আমাদের ৫২ জন সাংসদ আছে, পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে না, কিন্তু আমরা উঁচু থেকে নামিনি।.     অধীরের এই বয়ানের জন্যই কংগ্রেসকে আক্রমণ করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আরও সহজ হয়ে যায়। সদনে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমাদের কেউ উঁচু থেকে নামাতে পারবে না, এরকম ভুল ধারনা আমরা আমাদের মাথায় রাখিনা। আমরা কারোর অস্তিত্ব মেটাতে আমাদের সময় নষ্ট করিনা। আমরা আমাদের অস্তিত্ব বাড়ানর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিই।”

কংগ্রেসকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘ আপনারা এতটাই উঁচুতে চলে গেছেন যে, আপনাদের মূল থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে। আপনাদের এই উচ্চতা আমার কাছে খুবই ভালো ব্যাপার, কারণ আপনারা আপনাদের পায়ের তলায় মাটি হারিয়ে ফেলেছেন। আমাদের স্বপ্ন উঁচুতে যাওয়া না, আমরা মাটিতে থেকে কাজ করতে চাই, এরফলেই দেশ মজবুত হবে।”অধীর রঞ্জন নিজের ভাষণে বলেছিলেন, কয়লা, টুজি দুর্নীতিতে আপনারা কাউকে গ্রেফতার করতে পারেন নি। আপনাদের সরকার ছয় বছর ধরে আছে। এরপরেও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত রাহুল আর সোনিয়া গান্ধী বাইরে কি করে আছে? ওদের জেলে ঢোকানো হচ্ছে না কেন? আমরা চাই দেশের আইন আরও মজবুত হোক, দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মঙ্গলবার অধীর চৌধুরীর এই বয়ান নিয়েই কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এমারজেন্সি চলছে না। আর আমরা আইন মেনে চলি। যারা আজকে জমানত নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাঁরা ইঞ্জয় করে নিক। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের মধ্যে থেকেই ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।অধীর চৌধুরী কংগ্রেস নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী আর নরেন্দ্র মোদীর তুলনা করে বলেন, ইন্দিরা গান্ধী মা গঙ্গার মতন, আর নরেন্দ্র মোদী নর্দমা। ওনার এই মন্তব্যের জেরে সদনে চরম হাঙ্গামা হয়। এবং পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে উনি ক্ষমাও চান।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এটা ভালো কথা বলা হয়েছে। কংগ্রেস এখনো নির্বাচনী সভায় করা তাঁদের প্রচারের ভাষাই বলে যাচ্ছে। সবাই সবার মতো এজেন্ডা নিয়ে চলে, এই নিয়ে আমি কিছু বলব না।অধীর চৌধুরী কংগ্রেসের শাসনকালে দেশে কি কি হয়েছে, সেটার ব্যাখ্যা দেন। উনি বলেন, দেশে পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের শিলন্যাস জওহর লাল নেহেরু করে গেছিলেন। দেশে মিসাইল সিস্টেম আর টেলিকম কংগ্রেস এনেছিল। এর সাথে RTI, RTE, MGNREGA কংগ্রেসের দান।. অধীর চৌধুরীর এই বয়ানের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশকে এমারজেন্সিও কংগ্রেস দিয়েছিল। দেশে সংবিধানের হত্যা কংগ্রেস করেছিল। দেশের মিডিয়াকে চুপ করে কংগ্রেস রেখেছিল। দেশকে জেলখানা বানিয়ে রেখেছিল কংগ্রেস।

অধীর চৌধুরী বলেছিলেন, দেশের উন্নতি আর ইতিহাসের মান সন্মান না দিলে সেটিকে ধোঁকা বলা হবে। উনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে একবারও নেহেরুর নাম নেওয়া হয়নি, আমাদের ভালো লাগত ওনার নাম নিলে, ওনার নাম নিলে আপনারা ছোট হয়ে যেতেন না।

অধীর চৌধুরীর এই বক্তব্যের জবাবে নরেন্দ্র মোদী বলেন, আপনারা তো নিজের ভাষণে নরসিমহা রাও থেকে শুরু করে মনমোহন সিং এর নাম পর্যন্ত নেননি, কিন্তু আমি সর্বদা প্রাক্তন সরকারকে শ্রেয় দিয়েছি। আমরা কারোর যোগদান কখনো অস্বীকার করিনি। সওয়াশো কোটি দেশবাসীর মধ্যে উনারাও আসেন, আর সবার জন্যই দেশ এগিয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদী শেষে বলেন, এখন দেশকে কর্তব্য পূরণ করার দিশায় এগিয়ে যেতে হবে, তাহলেও নেহেরুজির স্বপ্ন পূরণ হবে।