Press "Enter" to skip to content

কর্ণাটককে কেন্দ্র করে অমিত শাহের ভবিষ্যতবাণী সত্য হতে চলেছে তার প্রমান মিললো আবারও।

কর্ণাটককে কেন্দ্র করে সঠিক হতে চলেছে তার প্রমান মিললো আরো একবার। আসলে কয়েকমাস আগে হওয়া কর্নাটক নির্বাচনে বিজেপি সবথেকে বেশি সংখ্যক সিট পাবার সত্ত্বেও সেখানে সরকার গঠন করে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার। এই দুই দল একে অপরের শত্রু বলেই জানা যায়। কিন্তু শুধু মাত্র বিজেপিকে হারানোর জন্য তারা জোটবদ্ধ হয়। যদিও প্রথম থেকে এটা পরিষ্কার ছিল যে এই জোট সরকার খুব একটা সুবিধার হবে না। কারন রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দুটি পার্টি কখনোই একসাথে ঘর করতে পারেনি আর এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হল না। সময় বাড়ার সাথে সাথে কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের মধ্যে বিরোধ আরও চরম আকার ধারন করে।

সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডি কুমারস্বামী নিজেই একথা স্বীকার করেন। কুমারস্বামী বলেন, তিনি ক্ষমতায় আছেন বলে রাজ্যের মানুষ খুশি হলেও তিনি নিজে একদম খুশি হতে পারছেন না। জোট সরকারের ফলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা তার কাছে ভগবান বিশ্বনাথের মত বিষপান করতে বাধ্য হবার মত ঘটনা। এই কথা বলতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেললেন। জেডিএসের একটি সভা ছিল বেঙ্গালুরুতে সেখানেই তিনি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন সেই সময় তিনি বলেন যে আমি ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী হতে চেয়েছিলাম। তার জন্য তিনি যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই গুলি রেখেও ছিলেন। কৃষিঋণ মকুব করার জন্য তাকে অনেক মানুষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু এখন মুখ্যমন্ত্রী হবার পরে তিনি খুশি হতে পারছেন না। তিনি দাবি করেন যে এখন তিনি এই পদ ছেড়ে দিতেও রাজি আছেন। কারন তিনি মনে করেন যে কর্নাটকের মানুষ এখন অব্দি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জেডিএসকে দেয়নি।

এবার কর্নাটকের বিধানসভা ভোটে কোনো দল পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নি। কিন্তু বিজেপি সেখানে একক দল হিসাবে সবথেকে বেশি আসন পায়। তাই বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেস-জেডিএস জোট বেধেঁ সরকার গঠন করে। এবং জেডিএসকে মুখ্যমন্ত্রীর আসন গ্রহণের প্রস্তাব দেয় কংগ্রেস। কিন্তু এরপরই শুরু হয় বিবাধ বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মতের অমিল শুরু হয় যেমন কৃষিঋণ মকুব, দফতর বাঁটোয়ারা, পেট্রোল-ডিজেলের দামের মত বেশ কিছু ইস্যুতে জেডিএস-কংগ্রেস দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। এই অশান্তি মেটাতে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর সাথে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন। কিন্তু সেই বৈঠকে যে কোনো সুরাহা হয়নি সেটা কুমারস্বামীর সেই দিনের কান্না দেখেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।
#অগ্নিপুত্র