Press "Enter" to skip to content

ইন্দিরা গান্ধীর বিরোধীতা করতে যখন গরুর গাড়ি নিয়ে সাংসদে পৌঁছেছিলেন অটলজি। তখন যা ঘটেছিল…

পূর্ব প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মানুষকে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে ব্যাক্তিগত জীবন সবক্ষেত্রেই খুব উজ্জ্বল ছিল এনার যাত্রা। অটলজি এমন একজন নেতা ছিলেন যার প্রভাব অন্য দলেও ছিল এবং অন্য পার্টির নেতারাও উনার কথা খুব মনোযোগ সহকারে শুনতেন। সরকারের বিপক্ষে থাকাকালীন অটলজি এমন এমন কাজ করেছেন যে সরকারকে বড়ো সমস্যায় ফেলে দিতো। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা অটলজির খুব সন্মান করতেন। অটলজির জীবনে এমন কিছু ঘটনা আছে যার সম্পর্কে খুব কম মানুষ জানেন।

আজ যেমন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ে বিরোধীরা বিজেপিকে ঘিরে ফেলেছে তেমনি এক সময় ছিল যখন পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে অটল বিহারী বাজপেয়ীজি সরকারকে কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিতেন। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে অটল বিহারী বাজপেয়ী পেট্টোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরোধিতায় নেমে ছিলেন। অটলজি সেই সময় এমনভাবে বিরোধিতা করেছিলেন যে আজও দেশের মানুষ সেই ঘটনাকে ভুলতে পারে না। সেই সময় অটল বিহারী বাজপেয়ী পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধির বিরোধের জন্য গরুর গাড়ি নিয়ে সাংসদে পৌঁছে গেছিলেন।

১২ নভেম্বর ১৯৭৩ এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী অটল বিহারী বাজপেয়ীজির এই নতুন বিরোধের পদ্ধতি এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারকে সাংসদে বাকি দলগুলির ক্ষোপের শিকার হতে হয়েছিল। সেই সময় বিজেপি জনসঙ্ঘ নামে পরিচিত ছিল এবং জনসঙ্ঘ খুব ছোট একটা পার্টি ছিল। এই জনসংঘের নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী ও উনার দুই সহযোগী পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গরুর গাড়িতে করে সাংসদে পৌঁছে যান। এই প্রতিবাদের পদ্ধতি নতুন হলেও এতটাই জোরালো ছিল যে ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত বাধ্য হন জনগণকে বোঝাতে।

ইন্দিরা গান্ধী সেইসময় জনগণকে পেট্রোল ও ডিজেল বাঁচিয়ে যাতায়াত করার কথা বলেন এবং নিজে ঘোড়ার গাড়ি ব্যাবহার করে পেট্রোল ডিজেল বাঁচানোর দৃষ্টান পেশ করতে বাধ্য হন। সেই সময় জনসঙ্ঘ এতটাই ছোট দল ছিল যে অন্যান্য দল হাসাহাসি করতো, কিন্তু অটলজি তার নিষ্ঠার সাথে দলের ভীত এতটাই শক্তিশালী করে তোলেন যে আজ বিশ্বের সবথেকে বড়ো পার্টিতে পরিণত হয়েছে বিজেপি। আজ শ্রদ্ধেয় অটলজি সর্গবাস করেছেন। উনার জন্য আজ পুরো দেশ শান্তি কামনা করছে ও শোক পালন করছে।