Press "Enter" to skip to content

দুর্দান্ত কাজের জন্য বিজেপির ঘাঁটি আসানসোলে আবারও জিততে পারেন বাবুল সুপ্রিয়।

আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৯ শে হতে চলেছে লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে মাথায় রেখেই দেশের সকল স্তরের রাজনৈতিক দল গুলি তাদের নিজের নিজের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। একদিকে যেমন দেশের জাতীয় দল গুলি তাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সেইরকমই পিছিয়ে নেই আঞ্চলিক দল গুলি। তারাও তাদের নিজেদের মতন করে দল গুছিয়ে গুটি সাজাচ্ছেন। এইরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একটি সমীক্ষা উঠে আসছে। সেখানে আলোচনা করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রটিকে নিয়ে। আপনাদের জানিয়ে রাখি যে, এই কেন্দ্রে ২০১৪ সালে বিজেপি বিপুল পরিমানে মানুষের সমর্থন পেয়ে জয়লাভ করেছিল। এবার আসুন দেখে নেওয়া যাক এবার লোকসভা নির্বাচনে কেমন ফল হতে চলেছে এই কেন্দ্রটিতে। আধেও কি বিজেপি তাদের জমি ধরে রাখতে পারবে? নাকি অন্য কেউ নিয়ে যাবে জয়ের শিরোপা।

লোকসভা কেন্দ্র আসানসোল :-
গতবারের নির্বাচনে অর্থাৎ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃনমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন দোলা সেন। অপর দিকে আসানসোল কেন্দ্রে বিজেপি গায়ক বাবুল সুপ্রিয়কে লোকসভা প্রার্থী করেছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে, তৃণমূলের নির্বাচিত প্রার্থী দোলা সেন পেয়েছিলেন ৩,৪৯,৫০৩ গুলি ভোট। অপর দিকে তার প্রতিদন্ধি বিজেপি প্রার্থী প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৪,১৯,৯৮৩ টি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ৭০,৪০৮ গুলি বেশি ভোট পেয়ে পরাজিত করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দোলা সেন কে।

এখানে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় জয়লাভ করার পর তাকে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির তরফ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বাবুল সুপ্রিয় নিজে এই লোকসভা কেন্দ্রের বসবাসকারী সকল মানুষ কে তার পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। এবং সেই সাথে তিনি এলাকাজুড়ে উন্নয়নের কথাও বলেন। তিনি এলাকাবাসীর সমস্ত বিপদে তাদের পাশে থাকার কথাও জানান। তিনি এই চার বছরে তিনি তার কথা রেখেছেন বলেই জানা যাচ্ছে। তাই ফের এবার লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি এখানে জিততে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আসুন দেখে নেওয়া যাক বিজেপি এখানে আবার জয়লাভ করার পিছনে কি কি কারন উঠে আসছে :-

১) এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়ের এখানে একটা ভালো নাম রয়েছে। তিনি গায়ক হিসাবেও এই এলাকাভুক্ত মানুষ এর কাছে বেশ জনপ্রিয়।
২) এখানে বিজেপি জয়লাভ করার পর থেকে একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করেই চলেছেন।
৩) আসানসোল বাসীরা বলেছেন যে, আমাদের সমস্ত বিপদে আমরা এলাকার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় কে সবসময় পাশে পেয়েছি।
৪) যেকোনো রকম বিপদে বাবুল সুপ্রিয় সবার আগে ছুটে যান এলাকাবাসীর কাছে। এই মহৎ গুন তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এই এলাকায়।


৫) এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাটের ব্যাপক ভাবে উন্নতি হয়েছে।
৬) আসানসোল দুর্গাপুরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়কে অনেকগুলি ফ্লাইওভার নির্মাণ করে পরিবহন ব্যবস্থাকে উন্নত করার ব্যাবস্থা করেছেন।
৭) বিভিন্ন রাস্তাঘাট আগে অন্ধকার ছিল সেই সমস্ত রাস্তাঘাট গুলিতে এলিডি লাইট বসিয়ে দিয়েছেন। ফলে এখন আর সেই সমস্ত রাস্তাঘাট পারাপার করার সময় জনগনকে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় না। এলাকার গ্রামগুলিতেও বেশকিছু সোলার লাইট লাগিয়ে মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

৮) এছাড়াও রানিগঞ্জ দাংগার সময় যখন তৃনমূল পার্টির কোনো নেতা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন নি। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন নি সাধারণ মানুষের দিকে, সেই সময় বাবুল সুপ্রিয় সেখানে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পরিস্থিতি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সেই দাংগার সাথে যুক্ত ছিল তৃনমূল পার্টির এক মুসলিম নেতা তাই তৃনমূল সেই দাংগা কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। রানীগঞ্জ হিংসার মূল অভিযুক্ত ছিল ইন্তেখাপ খান নামে এক তৃণমূল নেতা। যার জন্য এলাকায় তৃণমূলের ভোটের উপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি আসানসোল হিংসাতেও তৃণমূলের শাসনের ব্যর্থতার জন্য হিন্দুদের পলায়ন করতে হয়েছিল।

৯) এছাড়াও বাবুল সুপ্রিয়র নেতৃত্বে আসানসোলের অনেক স্কুল, কলেজ এমনকি হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নতি হয়েছে। পরিবহন ব্যাবস্থার উন্নতি হয়েছে। যেগুলি তৃনমূল সরকার করতে ব্যার্থ হয়েছিল সেগুলি খুব ভালো ভাবেই করে দেখিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়।

১০) এছাড়াও এমন কিছু বিশেষ ট্রেন যেগুলি আসানসোল স্টেশনে দাঁড়াতো না, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সেগুলিকে আসানসোল স্টেশনে দাঁড় করানোর ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন।

উল্লেখিত এই সকল কারন গুলির জন্য আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রটি ফের একবার দখল করতে পারে বিজেপি এমনি পরিসংখ্যান উঠে আসছে। কারন গত ৪ বছরে বিজেপি এখানে যেসমস্ত কাজ গুলি করেছে, মানুষের সমস্যার সমাধান করেছে। সেগুলি বিগত ৭ বছরেও করে উঠতে পারে নি তৃনমূল। তাই পরিসংখ্যান বলছে লড়াই টা হাড্ডাহাড্ডি হলেও শেষ হাসি বিজেপিই হাসবে।
#অগ্নিপুত্র