Press "Enter" to skip to content

ফণী ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে বাংলার দিকে! বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ১০৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র সরকার।

মানুষ নিজেকে যতই শক্তিশালী মনে করুক কেন, বাস্তব এটাই যে পঞ্চতত্ব থেকে শক্তিশালী এই বিশ্বে কিছুই নেই। আকাশ, মাটি অগ্নি, বায়ু,জল, এইসব যখনই নিজের রুদ্ররূপ ধারণ করেছে তখনই পৃথিবী প্রলয় দেখেছে। এখন এমনি একটা প্রলয়ের সম্মুখীন হতে চলেছে ভারত। ফণী নামক এক সাইক্লোন খুব শীঘ্রই ভারতের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে। ভারতের ৪ টি রাজ্যে তামিল নাড়ু, অন্দ্রপ্রদেশ,পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা এই ফণী ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়তে চলছে। বৃহস্পতিবারের শেষ আপডেট অনুযায়ী, বিশাখাপত্তনম ও পুরী থেকে যথাক্রমে ২৩৫ ও ৫৫০ কিমি দূরে স্থিত থেকে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করছে সাইক্লোন ফণী।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ফণী ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের জেলার উপরেও পড়বে। খবর অনুযায়ী, শুক্রুবার থেকে প্রকান্ড ঝড়ো হাওয়া ও ব্যাপক ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে দিয়ে ফণী সাইক্লোন হামলা করবে। দক্ষিণবঙ্গের জেলা গুলোতে ঝড়ো হাওয়ার গতি ১০০ কিমি পর্যন্ত থাকতে পারে বলে অনুমান। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ২০০ কিমি থাকতে পারে বলে অনুমান। যদিও পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ের গতি ১০০ থেকে ১১৫ কিমির মধ্যে থাকবে। সাইক্লোনের বিপর্যয়কে লক্ষ রেখে উপকূলীয় এলকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফণী ঘূর্ণিঝড় এর রুদ্ররূপকে লক্ষ করে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ধ্বজা বদল করা হয়েছে। ফণী ঝড়ের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সবথেকে বেশি পড়বে। দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হুগলি ও হাওড়া জুড়ে ভারী বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফণীকে লক্ষ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি সতর্ক রয়েছে। দিল্লী থেকে লাগাতার রাজ্যগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ফণী তার ফনা তোলার আগেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল এসে পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশে।

NDRF এর ৬ টি,১২ টি ও ২৮টি টিম এসে পৌঁছেছে যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যায়। কেন্দ্র থেকে মোট ১০৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই তিন রাজ্যের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য  ২৩৫.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে খবর। ফণী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব রেলযাত্রার উপরেও পড়তে পারে এর জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ টিম। ফণী সাইক্লোনের তান্ডবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এর জন্য প্রশাসনকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। মৎসচাষীদেরকে এবং পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে বারণ করা হয়েছে।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

you're currently offline