Press "Enter" to skip to content

মমতার পাড়ায় প্রভু শ্রী রাম চন্দ্রের মূর্তি বসানোর ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়

‘বাঙ্গাল মে আব জয় শ্রী রাম ‘ Jai Shri Ram” চল রাহা হেয়”। হ্যাঁ এরকম ট্রেন্ড সোশ্যাল মিডিয়া আর রাস্তা ঘাটে। চারিদিকে এখন একটাই স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম – জয় শ্রী রাম”। আর এই স্লোগান শুনেই হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে তৃণমূল নেতা কর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীর (Mamata Banerjee)। এবার সেই হার্টবিটকে আরেকটু বাড়িয়ে দিলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। তিনি এবার রাজ্যের মমতা ব্যানার্জীর পাড়ায় প্রভু শ্রী রাম চন্দ্রের মর্মর মূর্তি গড়ার ডাক দিলেন।

এই বিতর্ক শুরু হয়েছে লোকসভা নির্বাচন থেকে। ঝড়ের সাথে মোকাবিলা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো যখন খড়গপুর থেকে চন্দ্রকোনা রোডের দিকে একটি দলীয় সভায় উপস্থিত হতে যাচ্ছিলেন, তখন মমতা ব্যানার্জীর কনভয় দেখে একদল জয় শ্রী রাম এর ধ্বনি দেয়। মমতা ব্যানার্জী তৎক্ষণাৎ লেডি ডনের ম্মত গাড়ি থেকে নেমে স্লোগানকারীদের তাড়া দেন। স্লোগানকারীরা পালাতে নিলে মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘অ্যাই অ্যাই পালাচ্ছিস কোথায়? আয় এদিকে হরিদাসপাল।” স্লোগানকারীরা পালিয়ে গেলে মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘দেখেছেন! আমাকে কিভাবে গালাগালি দিচ্ছে?” মমতা ব্যানার্জীর কাছে ‘জয় শ্রী রাম” ধ্বনিটা দাঙ্গার প্রতীক এবং গালাগালি।

মমতা ব্যানার্জী মাঝে মধ্যেই এই হরিদাসপাল কথাটা ব্যাবহার করে থাকেন। এর আগে উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও হরিদাসপাল বলে সম্বোধন করেছিলেন। ওই ঘটনার পর মমতা ব্যানার্জীর কনভয়ের সামনে স্লোগান দেওয়া ৩ বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবং ওই এলাকায় এক বিজেপি নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছিল তৃণমূলের কর্মীরা।

ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুদিন আগে নৈহাটিতে একই ঘটনার সন্মুখিন হতে হয় মমতা ব্যানার্জীকে। নৈহাটিতেও মমতা ব্যানার্জীর কনভয় দেখে ‘ জয় শ্রী রাম ” বলে স্লোগান দিতে থাকে জনতা। আর সেবারও তিনি লেডি ডনের মতো গাড়ি থেকে নেমে স্লোগানকারীদের হুমকি দেন। এরপর ভাটপাড়া সংলগ্ন এলাকা থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ এই জয় শ্রী রাম স্লোগান দেওয়ার জন্য।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ মমতা ব্যানার্জীকে ১০ লক্ষ জয় শ্রী রাম লেখা পোস্ট কার্ড পাঠানোর উদ্যোগ নেন। এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এই ঘটনার পর মমতা ব্যানার্জীর পাড়ায় একটি শ্রী রাম চন্দ্রের মর্মর মূর্তি বানানোর আবেদন করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় লেখেন, ‘কালিঘাট – এর মোড়ে শ্রীরামচন্দ্রর একটি মর্মর মূর্তি বানানর জন্য সরকারি ভাবে আবেদন করা হোক | দেখি দিদিমনি সরকারিভাবে না বলার সাহস দেখতে পারেন কিনা !! জয় শ্রীরাম”

এর থেকে একটাই ব্যাপার পরিস্কার যে, রাজ্যে নির্বাচন শেষ হলেও রাজনৈতিক আবহাওয়া এখনো বেশ গরম। নির্বাচন নিয়ে অশান্তি তো আমরা দেখেইছি। এবার জয় শ্রী রাম বললেও মার খেতে হচ্ছে, এমনকি খুনও হতে হচ্ছে তৃণমূলের হাতে। এররাজ্যে নির্বাচনি প্রচারে বেড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে ‘ইনশাল্লাহ, আল্লাহ তালা” বললেও কিছু হয়না। কিন্তু কেউ যদি একবার জয় শ্রী রাম বলে দেন … তাহলেই আর রক্ষে নেই!

Comments are closed.