Press "Enter" to skip to content

দলের নেতা ও বিধায়কের দুর্নীতির কথা ‘দিদিকে বলো”তে তুলে ধরায়, বেধড়ক মারধর তৃণমূলের কর্মীকে

স্ট্যাটের্জিক প্রশান্ত কিশোরের কথা শুনে ‘দিদিকে বলো” কর্মসূচী শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল। এই কর্মসূচীতে রাজ্যের কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে, এবং কোন তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরা ঠিকঠাক কাজ করছেন না অথবা কাটমানি খেয়ে বসে আছেন সেই নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীকে অভিযোগ জানানোর জন্য শুরু করেছেন প্রশান্ত কিশোর। এই কর্মসূচী চালানো এবং আসন্ন বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পায়ের তলায় জমি ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েকশ কোটি টাকার চুক্তি করে বিহার থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে। কিন্তু প্রশান্ত কিশোর হয়ত জানেন না, এরাজ্যে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি এবং শাসক দলের নেতা, নেত্রীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা গণতন্ত্র বিরোধী। আর এই ছবিই দেখা গেলো শিল্পাঞ্চল দুরগাপুর থেকে।

তৃণমূলের বিধায়ক বিশ্বনাথ পড়িয়াল ও দুর্গাপুর বোরো ৪ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর  চন্দ্রশেখর ব্যানার্জীর দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে ‘দিদিকে বলো” তে ফোন করেছিলেন দলের একনিষ্ঠ কর্মী টোটন দাস। আর এতেই চরম বিপত্তি নেমে আসে ওনার জীবনে। দলের নেতারা এই খবর পাওয়া মাত্রই ওনাকে হুমকি দেওয়া শুরু করে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দিদিকে বলার সময় দিদিই নাকি টোটন দাসের প্রাণহানি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন! পরে দিদির পরামর্শ অনুযায়ী, পুলিশের কাছে যান টোটন দাস।

পুলিশ টোটন দাসের সমস্ত অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে, দুই পক্ষকেই মিটমাট করে নেওয়ার জন্য থানায় ডাকেন। আর সেই সময় টোটন দাসের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বিধায়ক গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা। মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয় টোটন দাসের মুখ। রক্তাত্ব অবস্থায় অসহার টোটন দাস সাংবাদিকদের কাছে সমস্ত কিছু খুলে বলেন। উনি এও বলেন যে, দিদিকে বলার পর থেকেও তৃণমূলের নেতারা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। এই ঘটনার পর তৃণমূলের কর্মীরাই ‘দিদিকে বলো” কর্মসূচী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে দুর্নীতির কথা জানালে যেখানে জীবন নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়, সেরকম লোক দেখানো কর্মসূচী পালন করার মানে কি?