এবার ব্রিজ ভেঙে পড়ার ইস্যুতে দিলীপ ঘোষ এমন প্রশ্ন করলেন যার কোনো উত্তর নেই দিদির কাছে।

গত ৪ ই সেপ্টেম্বর মাঝের হাট ব্রিজ ভেঙে পরে। ক্ষতি হয় অনেক মানুষের, প্রান যায় বহু। কিন্তু তারপর থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তার দায় এড়িয়ে চলেছেন, কখন সেই দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন সিপি.আই.এম এর উপর তো কখন এইসবের জন্য দায়ী করছেন মেট্রো প্রকল্পকে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর সব মন্তব্যের জবাব খুব ভালো করেই দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী এই দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন যে, কংগ্রেসের আমলে মাঝের হাট ব্রিজ তৈরি হয়েছিল তাই এর দায় অনেকটা কংগ্রেসের রয়েছে। কারন তারা ভালো করে ব্রিজ সংস্কার না করেই সেটা পিডব্লুডিকে হস্তান্তর করে দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যের পরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি। তিনি কটাক্ষের শুরে বলেন যে, তাহলে এরপর যদি হাওড়া ব্রিজের কিছু হয় তাহলেতো মাননীয়া তার জন্য দায়ি করবেন ইংরেজদের।

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মাঝের হাট ব্রিজ বিপর্যয় ইস্যুতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সেখানে তিনি বলেন যে, কোথাও রেল, কোথাও সেনা আবার কোথাও পোর্টট্রাস্ট এইসব কিছুর জন্য ব্রিজ সারাই করতে অসুবিধা হচ্ছে রাজ্য সরকারের। তৃনমূল নেত্রীর এই মন্তব্যেকে দিলীপ বাবু কটাক্ষ করে বলেন যে, উনি প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর এই সামান্য বিষয় নিয়ে সরকারি দফতর গুলির মধ্যে তিনি সমন্বয় স্থাপন করতে পারছেন না। আসল ব্যাপার হল মুখ্যমন্ত্রী কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে রাজ্যের মধ্যে অনেক লোক বাইরে থেকে এসে বসবাস করছে তারা ব্রিজের তলায় থাকছেন এবং রান্নাবান্না করে ব্রিজের ক্ষতি করছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য কে বেশ ভালো ভাবেই কাজে লাগান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন যে, এই কারনেই এরাজ্যে এন.আর.সি করাতে চাইছে বিজেপি। এন.আর.সির মাধ্যমে সহজেই বাইরে থেকে আসা বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করা যাবে। আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছি যে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েছে আমাদের রাজ্যে, একবার এন.আর.সি করা হলে তাদের বার করে দিতে আর কোনো অসুবিধা হবে না।

এই দিন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, আমরা অনেক গুলি ব্রিজ সংস্কার করার জন্য কমিটি গঠন করেছি কিন্তু ব্রিজের নীচে বসবাস করা মানুষজনের জন্য এটা সম্ভব হচ্ছে না। তাদেরকে সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে সমস্ত ব্রিজের উপর দিয়ে ১০ চাকা ও ২০ চাকা লরি উঠা বন্ধ করে দিয়েছি। দিলীপ ঘোষ এই মন্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ করেছেন, তিনি বলেছেন যে এগুলি কোনো বাস্তব সমাধান নয়। যেসকল ব্রিজের অবস্থা সত্যি খুব খারাপ হয়ে পড়েছে সেগুলি দ্রুত কাজ শুরু করুক রাজ্য সরকার। দরকার পড়লে অন্য ব্রিজ তৈরি করা হোক। কিন্তু এই ভাবে লরি আটকে কোনো সমাধান হবে না।

পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: ব্রিজ ভাঙার জন্য প্রধান দায়ী কে বলে মনে করেন?

#অগ্নিপুত্র

Leave a Reply

you're currently offline

Open

Close