Press "Enter" to skip to content

ভোট অধিকার বাতিল হবে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ যাওয়া ৪০ লক্ষের জানালো নির্বাচন কমিশন।

অনেক বিতর্ক আর জটিলতা সৃস্টি হয়েছিল নাগরিকপঞ্জি এর তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে। কিন্তু সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে প্রকাশ করা হয়েছে সেই নাগরিকপঞ্জি এর তালিকা। সেই তালিকায় নাম নেই প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের যারা অবৈধ ভাবে ১৯৭১ এর পর প্রবেশ করেছিল ভারতবর্ষতে। যদিও উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে যাদের নাম বাদ গেছে তাদের আরো কয়েকবার সুযোগ দেওয়া হবে। এবার সেই নাগরিকত্ব বিতর্কের সাথে যুক্ত হল নুতন বিতর্ক সেটা হল ভোটাধিকার বিতর্ক। এনআরসি তাদের তালিকা প্রকাশ করার পর রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতবর্ষে লোকসভা ও বিধানসভা এই দুটি নির্বাচন প্রক্রিয়া চালনা করা হয় সম্পূর্ন অন্য একটি সংস্থার মাধ্যমে।

তাই নাম না থাকা নাগরিকরা ভোট দিতে পারবেন কি না সেই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেন নি। ঠিক এই ঘটনার পরই ও.পি রাওয়াত যিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তিনি এক সংবাদ মাধ্যমকে একটি সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন শুধু মাত্র ভারতবর্ষের নাগরিকদেরই ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। যারা ভারতবর্ষের নাগরিক নয় তারা কোনো পরিস্থিতিতেই ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন না। সুতরাং, তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে সেই তালিকায় নাম না থাকা লোকেরা ভোট দিতে পারবেন না। আপনাদের জানিয়ে রাখি ৪০ লক্ষ সংখ্যা এতটাই বিশাল যে তারা যখন তখন সরকার পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখবে। আর বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে এইভাবে কোনো প্রকারেই ক্ষমতা ছেড়ে দেবে না কেন্দ্র।

এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অসমের নির্বাচন কমিশনের কাছে ৭–১০ দিনের মধ্যে একটি রিপোর্ট চেয়েছেন। এনআরসি নিয়ে শাসক দলের উপর ইতিমধ্যেই চড়াও হয়েছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃনমূল, সিপিএম সব দল বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন এই ইস্যু নিয়ে। দেশের লোক হয়েও তাদের কে রিফিউজি হয়ে থাকতে হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই রকম অবস্থা সৃস্টির জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে দায়ী করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

মনে করা হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা সম্পূর্নভাবে ঘোষণা করার পর কেন্দ্র একটা ডিটেনশন এরিয়া গঠন করতে পারে এবং সেই সঙ্গে তাদের ভোটের অধিকার বাতিল করে বাংলাদেশের সরকারের সাথে লাগাতার কথাবার্তা চালাতে পারে।

#অগ্নিপুত্র