Press "Enter" to skip to content

সালিশি সভায় এক লক্ষ টাকা দিতে না পারায় বিষ খেয়ে আত্মঘাতী এগরার কৃষক

সালিশি সভার প্রচলন বাংলায় বছর বছর ধরে চলে আসছে। তবে এই নিয়ে প্রশাসনের কোন হেলদোল এখনো দেখা যায়নি। আর এবার এই সালিশি সভার জন্যই রাজ্যের এক কৃষক বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় সালিশি সভার বিচারের পর এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে না পেরে, আত্মহত্যা করলেন এক কৃষক। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এগরার কামারডিহি গ্রামের বাসিন্দা বৃন্দাবন প্রধানকে সালিশি সভায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার নিদান দেন গ্রামের মাতব্বরেরা। আর সেই টাকা দিতে না পারায় আত্মঘাতী হন তিনি।

স্থানীয় সুত্র অনুযায়ী, বছর পাঁচেক আগে বৃন্দাবন প্রধানের বাবা রামনাথ প্রধান ওনার কিছু জমি মৌখিক ভাবে ওনার তিন ছেলের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে যান। কিন্তু বাবার মৌখিক ভাগ না মেনে বৃন্দাবনের দুই দাদা সেই জমি দখল করে সেখানে পান চাষ করা শুরু করে দেন। জমির ভাগ না পেয়ে বৃন্দাবন ক্ষোভে ফেটে পড়ে ওই জমির কিছু অংশে পানের বরাজ ভেঙে দেন।

বৃন্দাবনের এহেন কাজের পর তাঁর দুই দাদা চরম রেগে গিয়ে ববৃন্দাবনকে বকা ঝকা এবং মারধর করে। এই ঘটনার পর বৃন্দাবনের দাদারা গ্রামের মোড়লদের কাছে গিয়ে বিচার চান। বৃন্দাবনের দুই দাদার অনুরোধে গ্রামের মোড়লরা বৃন্দাবনকে নিয়ে বিচারে বসেন।

মাতব্বরদের বিচারে ঠিক হয় যে, পানের বরাজে ভাঙচুর করার জন্য বৃন্দাবনকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। গরিব চাষি বৃন্দাবন এই টাকা দেবে কোথা থেকে? মাতব্বরদের নির্ধারণ করা টাকা দিতে পারবে না বলেই অবশেষে বৃন্দাবন মৃত্যুর পথ বেছে নেয়। বৃন্দাবনের স্ত্রী কল্পনা প্রধান এবং ওনার বিবাহিতা মেয়ে বেলা জানা এবং গ্রামবাসীরা এই ঘটনার দায় সরাসরি গ্রামের মাতব্বরদের উপরে চাপিয়ে বলেন, মাতব্বরদের চাপেই বৃন্দাবন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল।