Press "Enter" to skip to content

বাবা বিজেপি করে, তাই তিন বছরের অসুস্থ শিশুকে রাস্তায় ফেলে মারল তৃণমূলের নেতারা!

এই রাজ্যে সবথেকে বড় অপরাধ হল, বিজেপিকে সমর্থন করা। আর সেই অপরাধে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কখনো মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আবার কখনো হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এমনকি কিছু কিছু সময় তো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বাদ দিয়ে সোজা শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে! কারণ তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আগেই বিজেপি করার অপরাধে সাজে হিসেবে তাঁকে হয় গলায় দড়ি দিয়ে গাছে ঝুলিয়েছে, নাহলে বিদ্যুতের খুঁটিতে! আর এর পিছনের প্রধান কারণ হল, তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর বলেছেন ‘বিজেপি হল অগণতান্ত্রিক দল” আর তাঁর জন্যই তৃণমূলের নেতারা তাঁদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যু দণ্ড দেয় !এবারের ঘটনা আরও মর্মান্তিক, এবার বাবা বিজেপি করে, আর সেই অপরাধে মায়ের কোল থেকে অসুস্থ তিন বছরের শিশু কন্যাকে ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে লাথি মারল তৃণমূলের নেতা!

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ভালুকাবাজারে। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।ওই তিন বছরের শিশু কন্যার বাবা স্থানীয় মণ্ডল কমিটির সম্পাদক দেবাশিস পাশমান। আর ওনার জন্য এবারের নির্বাচনে এলাকায় বিজেপির ভোট বেড়েছে। সেই কারণেই অসুস্থ তিন বছরের শিশুকে রাস্তায় ফেলে মারল তৃণমূলের নেতারা। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতার স্ত্রীকেও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তৃণমূলের নেতারা।

মারধরের সময় বিজেপি নেতার স্ত্রীর চেঁচান শুনে ছুটে আসে স্থানীয় লোকজন। আর স্থানীয়দের আসতে দেখেই ঘটনাস্থল থেকে ছুটে পালায় তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ হালদার। তৃণমূল নেতার মারে আহত শিশুকে প্রথমে ভালুকাবাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়।তবে মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে, সিটি স্ক্যান করানোর জন্য ওই শিশু কন্যাকে মালদহে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি করেছে বিজেপি। এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। চাঁচল থানার এসডিপিও  সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘এই ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। সবকিছু তদন্তের পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিজেপি নেতা দেবাশিস পাশমান এর স্ত্রী মিনতিদেবীও স্থানীয় বিজেপি নেত্রী। তিনি গত পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতিতে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তিনি হেরে যান। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, অমিত শাহ এর মালদা সফরে বিজেপি নেতা দেবাশিস এর বাড়িতেই খাওয়া দাওয়া সেরেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। আর তারপর থেকেই প্রায় রোজই তৃণমূলের নেতারা ওই বিজেপি নেতাকে হুমকি দিত।