Press "Enter" to skip to content

জামা মসজিদে ত্রিরঙ্গা তুলতে গেলে কট্টরপন্থীরা যা করলো জানলে আপনি রেগে উঠবেন।

আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল ১৫ ই অগাস্ট ১৯৪৭ সালে। তাই এই দিন টিকে সারা দেশের মানুষ স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করে আসছেন। এই বছর আমাদের দেশের স্বাধীনতা ৭২ বছরে পা দিল। সারা দেশজুড়ে এই দিনটিতে দেশের জাতীয় পতাকা তুলে পালন করা হল। দেশের সকল শ্রেণির, সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এই দিনে এক হয়ে উদযাপন করলেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী সহ সকল প্রকার উচ্চব্যাক্তিত্ব এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন দেশের পতাকা তোলার মধ্যদিয়ে।
তবে এইসব কিছুর মধ্যে দিল্লীর জামা মসজিদে পালন করা হয় নি দেশের স্বাধীনতা দিবস। সেখানে দেশের জাতীয় পতাকা তোলা হয় নি। তাই সেখানে বিজেপি নেতা আইপি সিং তার দলিয় কর্মীদের নিয়ে ঢুকে পরেন এবং দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

এই ঘটনা ঘটার পরেই সেই ভিডিও প্রকাশ করেন সোশ্যাল মিডিয়াতে উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী আইপি সিং। প্রথমে মসজিদের কিছু ব্যাক্তি তাকে সেই কাজে বাঁধা দেয়। কিন্তু তাদেরকে গুরুত্ব না দিয়ে সেই স্থানে দেশের পতাকা ওড়ান বিজেপি নেতা আইপি সিং। সেই সাথে তিনি ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিয়ে সেখানে উপস্থিত সকলকে উজ্জীবিত করেন। কিন্তু জানলে অবাক হবেন দেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যখন সকলে মিলে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিচ্ছিলেন তখন কিছু কট্টরপন্থী শাহী ইমাম জিন্দাবাদ বলে চিৎকার করছিল যা অতি লজ্জাজনক ব্যাপার।

এমনকি এই কট্টরপন্থীরা মসজিদ প্রাঙ্গনে দেশের পতাকা ফেরাতেও বাধা দেয়। তারপর সেই বিজেপি নেতা দাবি করেন যে দেশের নাগরিক হিসাবে দেশের পতাকা উত্তোলন করার অধিকার সকলের আছে আর সেটা যেকোনো জায়গাতে করা যেতে পারে। এর জন্য কারুর অনুমিত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন যে যেহেতু দেশের পতাকা উত্তোলনের বিষয় নিয়ে ব্যাপারটি ঘটেছে তাই এর বিরোধীতা করার সাহস পাই নি মসজিদ কমিটি।

ভারতের মতো দেশে যেখানে হিন্দু সংখ্যাবহুল হওয়া সত্ত্বেও ধর্মনিরিপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধা পাওয়া যে দেশের ভবিষ্যতের জন্য খারাপ লক্ষণ তা অস্বীকার করা যায় না। কিছু মানুষের মধ্যে যে হারে দেশের পতাকার প্রতি কট্টরপন্থা বেড়ে চলেছে তা আবার দেশকে ভাগ হওয়ার পথে ঠেলে দিতে পারে। তাই কট্টরপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই এই মুহূতেই অতি কঠোরতার সাথে দেশদ্রোহী মনোভাবকে নষ্ট করে দেওয়া উচিত প্রশাসনের।
#অগ্নিপুত্র