Press "Enter" to skip to content

ICS এ মেধা তালিকায় র‍্যাঙ্ক করেও চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। কিন্তু অনেক ভারতীয় জানেনা কারন

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস (Subhas Chandra Bose) প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়ে বাস করেন ! সময় সময়ে যে সব ব্যাক্তিরা ভারতের (India) সেবার জন্য দাঁড়িয়েছেন তাদেরকে পুরো দেশ সমর্থন করেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যখন দেশকে স্বাধীন করার জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন তখনও পুরো দেশ উনাদের সমর্থনে দাঁড়িয়ে ছিল। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে বিকল্প ছিল ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে মোটা টাকা কামিয়ে ভোগবিলাসের জীবন যাপন করার। কিন্তু সেই বিকল্পকে ছুঁড়ে ফেলে উনারা ভারত মাতাকে ইংরেজ শাসন থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই চালিয়ে ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মুখে একটাই কথা ছিল- আমরা এই লুটতন্ত্রের অংশীদার হতে চাই না, আমাদের পূর্ন স্বাধীনতা চাই। আর যে স্বাধীনতা সাংগ্রামী এই কথা সর্বপ্রথম বলেছিলেন উনার নাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। (Subhas Chandra Bose) !

নেতাজির জীবনের একটা বড় বিড়ম্বনা ছিল, উনাকে ICS পরীক্ষায় পাশ হতে হয়েছিল উনার পিতার ইচ্ছার পূর্তির জন্য। নেতাজির বাবা চাইতেন উনার ছেলে কালেক্টর হোক, কিন্ত নেতাজি মোটেও এতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু বাবার কাছে নিজের যোগ্যতাকে প্রমান করতে নেতাজি ICS এর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সেই সময়কালে ICS পরীক্ষা দেওয়ার জন্য লোকজন ৪ বছর ধরে পড়াশোনা করতো। কিন্তু নেতাজি মাত্র ৭ মাস পড়াশোনা করে ওই পরীক্ষার মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে ছিলেন। সেই সময় ICS পরীক্ষায় ভারতীয় ছেলে মেয়েরা পাশ পর্যন্ত করতে পারতো না। কারণ ইংরাজি সিলেবাসের উপর পরীক্ষা হতো। নেতাজির ICS পরীক্ষা পাশ হওয়া সংক্রান্তে একটা মজাদার ঘটনাও রয়েছে।

নেতাজি (Netaji) লন্ডন গিয়েছিলেন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নিয়ে ICS পরীক্ষায় বসেছিলেন। যেদিন রেজাল্ট বেরিয়েছিল সেদিন নেতাজির সাথীরা ফলাফল দেখতে গেছিলেন কিন্তু নেতাজি যাননি। নেতাজির সাথীরা ফলাফলের তালিকায় উনার নাম দেখতে পাননি। তারা এসে নেতাজিকে বলেন, তোমার নাম তালিকায় নেই তুমি পাশ করোনি। নেতাজি উত্তরে বলেন ঠিক আছে। সন্ধ্যে বেলায় ব্রিটিশ গভর্মেন্ট ডিপার্টমেন্টের একজন সেক্রিটারি নেতাজিকে এসে বলেন, তোমার নাম পাশের তালিকায় নেই। টপারদের লিস্টে আছে, সেই লিস্ট এখনও দেওয়া হয়নি।

এবার নেতাজি চিন্তায় পড়ে যান যে পরীক্ষায় পাশ হওয়া মানে কালেক্টর হতে হবে। কালেক্টর হওয়ার অর্থ দেশের টাকা লুটতে হবে এবং ইংরেজদের সেই টাকা দিতে হবে। উনার মনের মধ্যে দ্বন্দ সৃষ্টি হয় এই ভেবে যে এই লুটতন্ত্রে সামিল হবেন নাকি লুটতন্ত্রের বাইরে থেকে দেশের জন্য কাজ করবেন। শেষমেষ উনার মন জানায় যে, তোমার জন্ম লুট করার জন্য নয় বরং দেশকে মুক্ত করার জন্যই তোমার জন্ম। তাই নেতাজি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। যখন নেতাজি ইস্তফা লিখেছিলেন তখন পুরো ব্রিটিশ সিস্টেমে ভূমিকম্প তৈরি হয়ে গেছিল। কারণ ভারতের কেউ ততদিন অবধি সাহস করেনি ইস্তফা দেওয়ার। আর নেতাজি সেটাই করে সকলকে চমকে দিয়ে ছিলেন।

ইস্তফাতে নেতাজি লিখেছিলেন এই সিস্টেম বা তন্ত্রের মধ্যে আমি সামিল হতে পারবো না কারণ আমার ভারত মাকে লুটে নেওয়ার জন্য এই তন্ত্র তৈরি হয়েছে। আর আমি আমার দেশকে লুটবো এটা আমার মন আমাকে অনুমতি দেয় না। নেতাজি সবকিছু ছেড়ে চলে এলেন ভারতে। ঘটনা নেতাজির বাবার বুকে যেন বজ্রপাতের মতো পড়েছিল। কিন্তু নেতাজি বাবাকে বোঝান যে যতদিন এই তন্ত্র আমার দেশকে লুটবে ততদিন আমি এইন তন্ত্রকে লাথি মারবো। নেতাজি ICS এর চাকরি ছেড়ে ভারতে আসছেন এটা শীঘ্রই ভারতের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। লন্ডন থেকে এসে যেদিন নেতাজি বোম্বাইতে পৌঁছেছিলেন সেদিন ভারতের বিশাল ভিড় নেতাজিকে দেখার জন্য, নেতাজিকে সমর্থন জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে পড়েছিল। সেইদিনই নেতাজি বলেছিলেন, এবার ভারত স্বাধীন হবেই।

কারণ শুধু আমাকে সমর্থন করতে যদি এত মানুষ চলে আসে তাহলে আমি গ্রামে গ্রামে যখন যাবো তখন জনসমর্থনের জোয়ার চলে আসবে। নেতাজির জন্য দেশের মানুষ কিভাবে এক হয়ে সংগ্রাম শুরু করেছিল তা বর্তমানে ভারতের পাঠ্যপুস্তকে পোড়ানো হয় না। নেতাজিকে সমর্থন করার জন্য ভারতের মা, বোনরা তাদের গয়না অলঙ্কার সব আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্য দান করেছিল। দেশের যুবকরা আজাদ হিন্দ ফৌজ এ যুক্ত হওয়ার জন্য এবং দেশের জন্য প্রাণ বলিদান দিতে একজোট হয়ে পড়েছিল। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে নেতাজির কাছে এসেছিলেন। মা বলেন আমার ছেলেকে আপনার সেনায় যুক্ত করে নিন। নেতাজি বলেন আপনি তো চোখে দেখতে পান না। এরপর যুবক উত্তরে বলেন, আমি দেখতে পায় না কিন্তু আপনার ফৌজে যোগ দিতে পারলে শত্রুদের কমপক্ষে ১ গুলিও নিজে খেয়ে কম করে দেব। নেতাজির জন্য দেশ কিভাবে একজোট হয়েছিল তার এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যা ভারতের ইতিহাসে আজ পড়ানো হয় না।

you're currently offline