Press "Enter" to skip to content

ISF-র সঙ্গে বেইমানি বামেদের! প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চাপ! TMC কে ভোট দেওয়ার আহ্বান আব্বাসের প্রার্থীর



কৃষ্ণগঞ্জঃ ভোটের ঠিক একদিন আগেই সংযুক্ত মোর্চার ঐক্যে বড়সড় ফাটল দেখা গেল। কৃষ্ণগঞ্জের ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের প্রার্থী অনুপ কুমার মণ্ডল তাঁর সমর্থক এবং অনুগামীদের এক হয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভোট দেওয়ার আবেদন জানালেন। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী অনুপ কুমার মণ্ডলের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানের পরই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শুধু তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেই চুপ থাকেন নি তিনি, পাশাপাশি অনুপ কুমার সংযুক্ত মোর্চার শরীক দল CPIM এর প্রার্থী ঝুনু বৈদ্যর বিরুদ্ধে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন।

এটাই প্রথম না যে সংযুক্ত মোর্চায় এমন ফাটল দেখা দিল। এর আগেও বহুবার এরকম ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষত নদীয়া জেলার একাধিক প্রার্থী নিয়ে সংযুক্ত মোর্চার মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। আর এরই মধ্যে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী অনুপ কুমার মণ্ডল বাংলার বিধানসভার মহাজোটের ফাটলের চিত্র আবারও উজাগর করেছেন।

কৃষ্ণগঞ্জ আসনটি সংযুক্ত মোর্চার ইন্ডিয়ান সেকুলার দলের জন্য বরাদ্দ ছিল। সেই হিসেবে ওই কেন্দ্র থেকে আব্বাস সিদ্দিকীর দলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন অনুপ কুমার মণ্ডল। কিন্তু সংযুক্ত মোর্চার শরীক দল সিপিআইএম জোট প্রার্থীকে ওভারটেক করে নিজেদের প্রার্থী দেন। এরপরই চটে যান আইএসএফ প্রার্থী অনুপ কুমার মণ্ডল। আর এই ঘটনার জেরে সংযুক্ত মোর্চার শরীকদের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী অনুপ কুমার মণ্ডল বলেন, কৃষ্ণগঞ্জে জোট প্রার্থী হিসেবে আমার নাম ঘোষণা হয়। আমি মনোনয়নও দাখিল করি। এরপর বামেরা আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে ওঁরা নিজেদের মতো করে ঝুনু বৈদ্যকে প্রার্থী করে দেয়। এরপর আমি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

অনুপবাবু বলেন, সিপিআইএম এই কেন্দ্রে ঝুনু বৈদ্যকে প্রার্থী করায় না আমি সংযুক্ত মোর্চার অন্যান্য শরীকদের ভোট পাব, আর না ঝুনু বৈদ্য এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করতে পারবেন। জোট শরীকের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হয়ে গেলে বিজেপির লাভ হবে। তাই সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে রোখার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের হাত শক্ত করা ভালো। আর এই কারণে আমি আমার সমর্থক এবং অনুগামীদের তৃণমূলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। ভোটে আমার জমানত জব্দ হলেও দুঃখ পাব না। কিন্তু সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে রোখা খুব দরকার।

এই বিষয়ে সিপিএম প্রার্থী ঝুনু বৈদ্য বলেন, ‘উনি নিজের মতো করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে আমার অথবা আমাদের কিছু করার নেই। তবে থানায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা নিয়ে আমি কিছু জানিনা।” বিজেপির প্রার্থী আশিসকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সংযুক্ত মোর্চায় কি হয়েছে, কি হবে জানিনা। তবে এলাকার মানুষ সোনার বাংলা গড়তে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন।”

আরেকদিকে, ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ডঃ তাপসকুমার মণ্ডল জানান, ‘অনুপবাবুর মন্তব্যকে স্বাগত জানাই। অন্য বিরোধীরাও যদি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়, তাহলেও স্বাগত জানাবো। বিজেপি বিগত দুই বছর এলাকার মানুষকে ঠকিয়েছে। এবার তাঁদের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।”