প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত ইসলামপুরের দারিভিট !

গ্রামের চারিদিক এই মুহূর্তে কাশফুলে ছেয়ে রয়েছে। পুকুরের জলে ফুঁটে রয়েছে পদ্মফুল। পুজোর আনন্দে মেতে উঠার কথা সমগ্র গ্রামবাসীর। কিন্তু এই গ্রামে নেই কোনো আনন্দ। পুজোর প্রস্তুতি এক ধাক্কায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কারন সম্প্রতি এই গ্রামেরই দুই ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে। তাই অন্য জায়গার মত এখানে নেই পুজোর কোনও আনন্দ। এলাকাবাসীদের কারুরই জানা নেই সেখানে কি এই বছর পুজো হবে নাকি বন্ধ থাকবে পুজো।

মোট তিনটি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় এই দারিভিট এলাকায়। তিনটি পুজোর মধ্যে রয়েছে একটি পারিবারিক পূজা। যেই পূজাটি রাজেশ সরকারের বাড়িতে হয়। এই রাজেশ সরকারই কিছুদিন আগে পুলিশ এর গুলিতে মারা যান। প্রতিমা, ঢাক সহ পুজোর সব কিছুর বায়না হয়ে গেলেও ঘরের ছেলের এইভাবে মৃত্যুতে বন্ধ হয়ে যায় বাড়ির পুজো। পুজো শুরু হওয়ার আগেই যে বাড়ীতে বিসর্জনের
বাজনা শোনা যায় সেখানে পুজো হওয়া কিভাবে সম্ভব। তাই এবারের পুজোটি সম্পূর্ণভাবে রাজেশের মৃত্যুকে বুকে নিয়ে তার শোকের মধ্যে দিয়েই কাঁটবে সমগ্র গ্রামবাসীর।

বাকি দুটি পূজার মধ্যে মাথতারাতে হয় ছোট দুর্গা মা এর পুজো। আর দারিভিট কাণ্ডের ঘটনাস্থল বাজার কমিটির তরফে হয় সবচেয়ে বড়ো দুর্গাপূজা। কিন্তু গ্রামের দুই ছাত্রের মৃত্যুতে সেই পুজা কমিটি গুলি এখন কোনো প্রস্তুতি শুরু করেন নি। সুবোধ মজুমদার যিনি বড়ো পূজা কমিটির অন্যতম সদস্য তিনি জানান যে, এলাকার ছাত্র রাজেশের মৃত্যুতে আমরা সকল এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। এই অবস্থাতে দাঁড়িয়ে জমজমাট ভাবে পুজো করার কথা আমরা ভাবতে পারি না। কিন্তু ছোটো করে মা দুর্গাদেবীর পুজো করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে আমাদের মধ্যে।

কিন্তু তিনি দুঃখের সাথে জানিয়ে দেন যে পুজো হলেও এবারে তেমন কোনো ধুমধাম থাকবে না। সব কিছুর বাজেট কমিয়ে দেওয়া হবে। গান-বাজনা সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে। কারন এবার এই মৃত্যুর জন্য এলাকাভুক্ত কোনো মানুষের মনে সেইরকম হুচুক নেই। কেনাকাটার তেমন বাহার নেই। পুজোয় কেনাকাটা বন্ধ থাকার কারনে ব্যাবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। সব দিক দিয়ে বিচার করলে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, এবার এই এলাকাজুড়ে পুজোর তেমন কোনো পরিস্থিতি নেই।

এই পরিস্থিতির জন্য কি প্রশাসন দায়ী নয়?
#অগ্নিপুত্র

you're currently offline

Open

Close