Press "Enter" to skip to content

লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বলেছিলেন-“আমার পাকিস্থানের লাহোর চাই”! ভারতীয় সেনা বীরত্বের পরিচয় দিয়ে তা উনাকে উপহার দিয়েছিল- Bengali News

১৯৬৪ সালের জুন মাসে যখন মাত্র ৫ ফুট উচ্চতার ব্যাক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছিলেন তখন অনেকে কল্পনাও করতে পারেনি যে ভারত একজন মহান ও প্রগতিশীল প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতের মহানতম প্রধানমন্ত্ৰীদের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি ২ বছর সামান্যতম সময় অপচয় না করে ভারতের জন্য কাজ করেছিলেন। ভারতকে স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করার জন্য কাজ করতেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ভারতের সর্বকালীন সাহসী প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী যিনি ‘জয় জওয়ান জয় কিষান’ শ্লোগান দিয়ে নতুন যুগের জন্য ডাক দিয়েছিলেন।

যখন ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে তখন পাকিস্থান হাইটেক কামান ও ট্যাংক এ সমৃদ্ধ ছিল যা ইউনাইটেড স্টেট থেকে তারা লাভ করেছিল। পাকিস্থানের কাছে অত্যাধুনিক পেটন ট্যাঙ্ক ছিল যার মধ্যমে পাকিস্থান সহজেই ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে ভারতীয় সৈনিকদের উপর আক্রমণ করতে পারতো। এই কারণ পাকিস্থান ভারতের সাথেও যুদ্ধ নিয়ে খুব আত্মবিশ্বাসী হয়েও ছিল। অন্যদিকে কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারের করে যাওয়া ভুলের জন্য ভারতের কাছে ছিল ইউরোপিয়ান ট্যাঙ্ক যেগুলি ২ য় বিশ্বযুদ্ধ প্রাক্কলে ব্যাবহৃত হয়েছিল।

যাইহোক তাসত্বেও ভারতীয় সেনা পাকিস্থানকে যোগ্য জবাব দিতে সক্ষম হয়েছিল। দুই দেশের দ্বন্দ শুরুর প্রথম দিকে ভারত যুদ্ধ এড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল যার জন্য পুরো বিশ্ব ভাবতে শুরু করেছিল পাকিস্থান ভারতকে হারিয়ে দিচ্ছে। যার জন্য পাকিস্থান আরো উৎসাহিত হয়ে ভারতের উপর আক্রমণ শুরু করেছিল। এরপরেই প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতীয় সেনা অফিসারদের সাথে এমার্জেন্সি মিটিং ডাকেন। শাস্ত্রী বলেছিলেন, ” অনেক হয়েছে! পাকিস্থান লাগাতার আমাদের এলাকায় অনুপ্রবেশ করছে, এবার সময় হয়েছে পুরো বিশ্বকে ভারতের শক্তি দেখানোর।

খবর - লাল বাহাদুর শাস্ত্রী - Lal Bahadur Shastri
লাল বাহাদুর শাস্ত্রী – Lal Bahadur Shastri

আমরা লাহোর চাই যা তোমরা আমাকে এনে দেবে।” ঠিক এই কথায় বলেছিলেন সাহসী প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী যিনি কখনো ভারত দেশকে অন্য কোনো দেশের কাছে ঝুঁকে থাকা ব্যাপার মেনে নিতে পারতেন না। এরপর ভারতীয় সেনা এ.বি তারাপোরের নেতৃত্ব ১৯৬৫ এর যুদ্ধ জয়লাভ করে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রাজস্থান থেকে পাঞ্জাব সমস্থ এলাকা দিয়ে ভারতীয় সেনাকে আক্রমণ করার নির্দেশ দেন যার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না পাকিস্তান। পাকিস্থানের বহু পেটন ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় সেনা এবং একই সাথে ২৮ টি ট্যাঙ্ক দখল করে নেয়।

শিয়ালকোটে বড়ো যুদ্ধের সাথে সাথে ভারতীয় সেনা লাহোর পর্যন্ত ঢুকে যায় এবং পাকিস্থানে একটা বড়ো হারের সম্মুখীন করে দেয়। শেষ মেস পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি যুদ্ধ বিরামের ঘোষণা করে এবং ইউনাইটেড নেশনের দখলদারির জন্য পাকিস্থান সেবার ভারতের রুদ্ররূপ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। জানিয়ে দি, ১৯৬৫ সালে ভারত খুবই আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল কারণ ভারত তখন শুধুমাত্র খাদ্য আমদানির উপর দাঁড়িয়ে ছিল এবং দুই বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬২ সালে ভারত এক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল।

খবর - লাল বাহাদুর শাস্ত্রী - Lal Bahadur Shastri
লাল বাহাদুর শাস্ত্রী – Lal Bahadur Shastri

এরজন্য মহান প্রধানমন্ত্রী শাস্ত্রীজি দেশবাসীকে একদিনের জন্য উপবাস থাকার অনুরোধ করেছিলেন যাতে ভারতের আর্থিক ভারসাম্য ঠিক থাকে। শাস্ত্রীজি নিজে সপ্তাহের প্রত্যেক সোমবার উপবাস থাকতেন সাথে দেশবাসীরাও সোমবার উপবাস পালন করতো। উল্লেখ্য বিষয় এখনো ভারতের অনেক পরিবার সোমবার দিন উপবাস পালন করে এবং তাদেরকে উপবাসের কারণ জিজ্ঞাসা করলে শাস্ত্রীজির কথা স্মরণ করে ঘটনা বিবৃতি করেন। এটা সত্য যে শুধু মাত্র কিছু কথার মাধ্যমে লালবাহাদুর শাস্ত্রীজির অবদান উল্লেখ করা অসম্ভব।