এক কনের দ্বিতীয়বার বিয়ে দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী!

হ্যাঁ ব্যাপারটা প্রায় সেরকমই। তবে কনের বিয়ে না, ব্যাপারটা হল সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন নিয়ে। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে এসে ময়নাগুড়িতে একটি জনসভা করেন। জন সভায় লোক ও ছিল দেখার মতন। সেদিন তিনি নানান ইস্যু নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে আক্রমণ করেন।

তবে জনসভার আগে তিনি জল্পাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করেছিলেন। আর যত গণ্ডগোল সেটা নিয়ে। বিদত ২০ বছর ধরে আটকে থাকা একটা প্রজেক্টের উদ্বোধন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর হয়ত খুব একটা ভালো লাগেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেছিলেন যে, ওই সার্কিট বেঞ্চ যৌথ ভাবে উদ্বোধন করার কথা ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী একাই সেটার উদ্বোধন করে দেন।

Churabhandar: Prime Minister Narendra Modi being garlanded by party activists during ‘Save Democracy’ rally at Churabhandar, Maynagiri in Jalpaiguri district of West Bengal, Friday, Feb 8, 2019. (PTI Photo/Swapan Mahapatra) (PTI2_8_2019_000222B)

আর রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ টাকা দিলাম আমি, জমি দিলাম আমি, আর উদ্বোধন করবেন উনি? বর-কনে নেই, ব্যান্ডপার্টি এসেছে। উনি কে! গাঁয়ে মানে আপনি মোঁড়ল” মাননীয়ার মতে প্রধানমন্ত্রী জলপাইগুড়িতে বর কনে ছাড়াই ব্যান্ডপার্টি বাজাতে এসেছিলেন।

আর তাই তিনি উদ্বোধন হওয়া সার্কিট বেঞ্চের আবার ও উদ্বোধন করবেন। মমতা ব্যানার্জীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধন অগণতান্ত্রিক লেগেছে। কিন্তু ওনার নেতৃত্বে থাকা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস যখন ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা” এর নাম মুছে ‘বাংলা গ্রামীণ সড়ক যোজনা” লিখে দিয়েছিল। তখন সেটা ওনার কাছে অগণতান্ত্রিক লাগেনি

এমনকি বাবুল সুপ্রিয়র নেতৃত্বে দুর্গাপুর-পানাগড় বাইপাস তৈরি হওয়ার পর যখন উদ্বোধনের দিনে, তৃণমূলের নেতা শ্রী মলয় ঘটক এবং ওনার অনুগামীরা ওই সড়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র আগে ওই সড়ক উদ্বোধন করে দিয়ে গেছিলেন। তখনও ওনার কাছে সেটা অগণতান্ত্রিক লাগেনি।

আবার আরেকদিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যের কোটি মানুষকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকা ভালো কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো জনমুখী প্রকল্প থেকে রাজ্যবাসীকে দূরে রাখা ভালো না।

তাই এরজন্য উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পের আবার নতুন করে উদ্বোধন করাকে, এক কনের দ্বিতীয়বার বিয়ে দেওয়ার কথা বলা যেতেই পারে।

Leave a Reply

you're currently offline

Open

Close