চীনের খেলা শেষ করার কাজ শুরু! ১৮৩০ কোটি টাকায় সম্পূর্ণ হবে ভারত সরকারের এই প্রজেক্ট।

ভারত সরকার দেশকে বিকশিত করার জন্য পুরোজোর লাগিয়ে দিয়েছে। কোনো দেশ কতটা উন্নত হবে তা অনেকটা নির্ভর করে সেই দেশের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে পরিবহনের ব্যাবস্থার উপর। এমনকি আজ আমেরিকা দেশ তার সড়ক ব্যাবস্থার উপরে ভিত্তি করেই সুপার পাওয়ার শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ সড়কের উপরে কাজ করার সাথে সাথে এবার পার্শবর্তী দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নজর দিতে শুরু করেছে। ভারত সরকার তিনটি দেশের সাথে জুড়ে যাওয়ার জন্য হাইওয়ে তৈরি করতে চলেছে। এর জন্য সরকার ১৮৩০.৮৭ কোটি টাকার মঞ্জুরি দিয়ে দিয়েছে। এই হাইওয়ে প্রজেক্ট তিনটি ভাগে তৈরি করা হবে। সড়কের দু ভাগ নির্মাণের জন্য ভারত, মায়ানমার সরকারকে আর্থিক সাহায্য করবে। এর জন্য ভারতের তরফ থেকে ১৯৩.১৬ কোটি টাকা প্রথম ধাপে জারি করা হয়েছে।

এই তথ্যের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় রোড পরিবহন মন্ত্রী সংসদেই উল্লেখ করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানসুখ লাল মান্ডভে সম্প্রতি এই ইস্যুতে সাংসদে বক্তব্য রেখেছেন। ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডকে জুড়ে দেওয়া এই ১৩৬০ কিমি লম্বা হাইওয়েকে তিন দেশ মিলিত হয়ে নির্মাণ করবে। ভারত এই হাইওয়ের দুই ভাগ নির্মাণ করবে। হাইওয়ের কেলভা-যানগি সেকশন এর নির্মাণের জন্য ভারত সরকার ১৯৩.১৬ কোটি টাকা জারি করেছে। এই সেকশন এ ১২০.৭৪ কিমি রোড নির্মাণ হবে। যার মধ্যে ৬৯ টি ব্রিজের নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।

এছাড়া আরো একটা সেকশন ১৪৯.৭০ কিমি লম্বা তামো কিয়ং কলভা নির্মাণ ভারত করবে। এই দুই সেকশন এর নির্মাণের জন্য ভারতের মোদী সরকার মায়ানমার সরকারকে আর্থিক সাহায্য করবে। এই হাইওয়ে এর মাধ্যমে ভারত বড়সড়ো লাভ উঠিয়ে নিতে পারবে। কারণ এই প্রজেক্ট সম্পুর্ন হলে চীনের বৃদ্ধি পাওয়া প্রভাবকে কমানোর সাথে সাথে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও ভারত লাভবান হতে পারবে। এতদিন অবধি থাইল্যান্ড, মায়ানমারের বাজার কবজা করে রেখেছে চীন, তবে এবার ভারত সেই বাজারে চীনকে টক্কর দিতে প্রস্তুত নিচ্ছে।

দীর্ঘ সময়কাল থেকে চীনের সরকার থাইল্যান্ড, মায়ানমার ও বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতকে ঘিরে চলেছে। চীন থাইল্যান্ড এর মধ্যে দিয়ে ওয়ান রোড ওয়ান বেল্ট প্রোজেক্ট নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের বৃদ্ধি পাওয়া প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ভারতের এই প্রজেক্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে মোদী সরকার তীক্ষ্ণ কূটনীতি প্রয়োগ করে মালদ্বীপ ও মায়ানমারকে চীনের প্রভাব থেকে বের করে এনে ভারতের ছত্রছায়ায়  এনেছে। তবে চীনের প্রভাবকে লাগাতার কাউন্টার না দিলে ভারতকে বড় বিপদের মুখে নিয়ে যেতে পারে। তাই বিকাশ ও সমতা দুই বজায় রেখে মোদী সরকার এই প্রজেক্টকে বেছে নিয়েছে।

Leave a Reply

you're currently offline

Open

Close