Press "Enter" to skip to content

বড় খবর – কেবল আট-দশটি নয়, বিশ-বাইশ জনের বেশি তৃণমূলের বড় নেতা সংস্পর্শে আছে মুকুল রায়ের !

কিছুদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির তরফ থেকে তাদের তপসিয়ার তৃণমূল ভবনে একটি বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। তিনি মুকুল রায় কে সরাসরি নাম না করলেও গাদ্দার বলে মন্তব্য করেন, এবং তিনি বলেন যে, বিজেপির তরফ থেকে আমাদের দলের ৮-১০ জনকে লাগাতার ফোন করা হচ্ছে, কে কার সাথে ফোনে কথা বলছেন রাতে আমি সেটাও জানি।

Mukul Roy - মুকুল রায়

কিন্তু এইসব ব্যাপারে মমতা প্রকাশ্যে কিছু বলেনি তাই বিজেপির তরফ থেকেও এখনো অব্দি এই ব্যাপারটি নিয়ে কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া মেলে নি। তবে সেইদিন মমতা ব্যানার্জি কারোর নাম না নিয়েও যাকে গদ্দার বলে মন্তব্য করেছিলেন এবার সেই মুকুল রায়ই তাকে উচিৎ জবাব দিলেন দেবীপক্ষের শুভক্ষনে। মুকুল বাবুর কথায় ওদের সঠিক ধারনা নেই, মাত্র ৮-১০ জন কেন আমার সাথে টাচে আছেন খুব কম হলেও ২০-২২ জন তৃণমূল নেতা, সাংসদ। সব কিছু সঠিক সময়ে বোঝা যাবে।

MAmata Banerjee - মমতা ব্যানার্জী

প্রসঙ্গত, এইদিন ফোনে কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে মমতা দলের নেতা তথা উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক হায়দর আজিজ সফি-কে বলেন যে, কি দাদা আপনাকে ফোন করছে তো? সাফি সাহেব হ্যাঁ বলে সম্মতি দেন। কিন্তু মুকুল বাবুর ঘনিষ্ঠ মহলের কথায় শুধুমাত্র সাফি সাহেব নয়, মুকুল বাবুর সাথে যোগাযোগ আছে তৃণমূলের নামকরা সাংসদদের এমনকি মমতা মন্ত্রিসভার বেশ কিছু মন্ত্রীও।

এখন প্রশ্ন এটাই যে তাহলে শাসক দলের কোন কোন নেতার যোগাযোগ রয়েছে মুকুল বাবুর সাথে? নাকি এটা শুধু কথার কথা?

এই প্রসঙ্গে মুকুল বাবু বলেন যে, আপনারা ভালো ভাবেই জানেন যে, এখন তৃনমূলের জেলাস্তরের নেতারা তৃনমূলের উপর ভরসা হারিয়ে বিজেপিতে যোগদান করছেন। তিনি উদাহরণ হিসাবে বলেন যে, জগন্নাথ গোস্বামী বিজেপি-তে যোগদানের কথা যিনি ছিলেন ঘাটালের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা। সেই সাথে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন মহেশতলার স্থানীয় বহু তৃণমূলকর্মী।

Mukul Roy - মুকুল রায়
Mukul Roy – মুকুল রায়

বিজেপি যে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের ঘর ভাঙতে প্রস্তুত সেটা আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফ সে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায়ের উপরই।

রাজ্যের শাসক দলের বেশ কয়েকজন বড় বড় নেতা দাবি করেছেন যে মুকুল রায়ের হাত ধরে উত্থান হওয়া বেশ কয়েকজন নেতা এখন অব্দি জেলাস্তরের শাসন ভারে রয়েছেন। কিন্তু তাদের দল ছাড়ার সম্ভাবনা কম হলেও তাদের নিয়ে মমতার বেশ চিন্তা আছে। এছাড়াও এখনো বেশকিছু বিক্ষুব্ধ নেতা রয়েছে যাদের পঞ্চায়েত ভোটে সমিতির কোন ভাগ দেওয়া হয় নি। কার্যত সেইজন্যই তৃণমূল শিবিরে এখনো পর্যন্ত ভয়ের সঞ্চালন হয়েছে সেই জন্যই মমতাকে আলাদা করে কোর কমিটির বৈঠক করতে হল। এই দিন মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন যে দলের বেশ কয়েকজন নেতা দলের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তবে যারা পঞ্চায়েত ভোটের টিকিট পাননি দল তাদের নিয়েও চলতে চায়।
কিন্তু মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতাদের সাথে মুকুলের ক্রমাগত ফোনে যোগাযোগ তৃনমূল শিবিরে বেশ চিন্তা বাড়িয়েছে। কারন মুকুল বাবু যাদের তুলে এনে ক্ষমতায় বসিয়েছেন তারাও যেকোনো মুহুত্তে তাদের পুরোনো গুরুর আদর্শ মেনে বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন।
#অগ্নিপুত্র