Press "Enter" to skip to content

“NHRC এর সদস্যদের সাথে কেন্দ্র সরকারের যোগ আছে”- অভিযোগ মমতা সরকারের

পশ্চিমবঙ্গে ী পরবর্তীকালে জাতীয় (NHRC) একটি রিপোর্ট পেশ করে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে হাইকোর্টে হলফনামা জমা দিয়েছে রাজ্য। হলফনামার ছত্রে ছত্রে ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের রিপোর্টে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেছে রাজ্য। এককথায় রাজ্য কমিশনের রিপোর্ট মানতে নারাজ।

নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারের পেশ করা রিপোর্টে কমিটির প্রতিটি সদস্যদের নাম ধরে ধরে গোটা বিষয়টির স্বছতা বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে ও কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অভিযোগ করা হয়েছে, কমিশনের এক সদস্য রাজীব একসময়ে বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বে ছিলেন, আইবি ডিরেক্টর হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। পূর্বে আতিফ রশিদ এবিভিপির হ্যান্ডেল সামলাতেন, তাকে বিজেপির হয়ে দিল্লি পুরসভার নির্বাচনী ময়দানেও দেখা গিয়েছে। আরেক জন সদস্য রয়েছে যিনি বিজেপির মহিলা নেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছে মানবাধিকার কমিশনের দল। মানবাধিকার কমিশন বিশেষ দল ঘনিষ্ঠ পক্ষপাতদুষ্ট।

ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক মামলায় বৃহত্তর বেঞ্চ NHRC কে জানিয়েছিল আলাদাভাবে সঠিক তদন্ত করে তারপর সেই রিপোর্ট জমা দিতে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সাড়ে তিন হাজার পাতার যে রিপোর্ট NHRC দাখিল করেছে, সেখানে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে, রাজ্যের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার নিজেদের ভুল না শুধরে পাল্টা দাবি করেছে, মানবাধিকার কমিশনের দলে বাছাই করে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য সম্পর্কে নেতিবাচক রিপোর্ট তৈরির জন্যই এই নিয়োগ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে রাজ্যের তরফে বক্তব্য, হাইকোর্ট কমিশনকে ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগ খতিয়ে দেখে শুধুই রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিল, তখন কোন ক্ষমতাবলে কমিশন সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করতে পারে?

ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে কার্যত রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় হতে শুরু হয়েছে ২ রা মের পর থেকে। স্বচ্ছ বিচারের দাবিতে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। হাই কোর্ট প্রথমদিকে একটি কমিটি গঠন করে ঘরছাড়াদের অবিলম্বে ঘরে ফেরানোর নির্দেশ দেয় কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ফলে, ফের হাই কোর্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর নির্দেশ দেয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে হাই কোর্টে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করা হয়। তাতে আরও বিতর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর‌ই রাজ্য সরকার নিজেদের পিঠ বাঁচাতে পাল্টা হলফনামা জমা দিয়েছে।