Press "Enter" to skip to content

NRC এর পর এবার জম্মুকাশ্মীরে ধারা ৩৭০ এর ৩৫-A বিলুপ্তির কথা ভাবছে মোদী সরকার!

কেন্দ্র সরকার অসমে নাগরিক পুঞ্জের তালিকা প্রকাশ করার পর সারা দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনা। দেশের রাজনীতি এখন NRC ইস্যু নিয়ে তোলপাড়। কিন্তু কেন্দ্র সরকার এই বিতর্ক কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এই এত কিছু আলোচনা বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্র সরকার এবার নিতে চলেছে আরও বড় এক সিদ্ধান্ত।  ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫ নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।   তবে কি এবার জম্মু- কাশ্মীরে বিলোপ পেতে চলেছে সংবিধানের ধারা নং ৩৫ সেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে আর কিছু দিনের মধ্যেই। সুনীল শেট্টি যিনি বিজেপির মুখপাত্র তিনি জানান যে এই বিষয়টি নিয়ে অর্থাৎ সংবিধানের ধারা নং ৩৫ নিয়ে সব বিরোধী দল গুলির সাথে আলোচনা করতে রাজি আছে বিজেপি। তিনি বলেন যে এই ইস্যুতে দেশের সব বিরোধীদের মতামত শোনা হবে। বিজেপি মুখপাত্র সুনিল বাবু এই দিন এনসি ও কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন যে,  মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বিরোধীরা এই ”অনুচ্ছেদ ৩৫ ইস্যু নিয়ে।

তিনি মনে করছেন যে এই অনুচ্ছেদটি বিলোপ করার ফলে বিশেষ লাভবান হবেন সেই এলাকাভুক্ত মানুষজন। ৩৭০ ধারার অংশ ৩৫A অনুযায়ী একদিকে যেমন বাইরের রাজ্যের লোকজন জম্মুকাশ্মীরে জায়গা কিনতে পারেন না তেমনি যদি কোনো পুরুষ বা মহিলা বাইরের রাজ্যে বিয়ে করেন তাহলে তারও জম্মুকাশ্মীরের সম্পত্তি থেকে অধিকার শেষ হয়ে যায়।  ‘We the Citizens’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টের জনস্বার্থ মামলা করেছে অনুচ্ছেদ ৩৫এ বিলোপের আর্জি জানিয়ে। এই সংস্থাটি কিছুটা আরএসএস ঘেঁষা বলে জানা যাচ্ছে।  উপত্যকায় শুরু হয়ে গিয়েছে বিক্ষোভ এই অনুচ্ছেদ কাযকর রাখার দাবি জানিয়ে। তাই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই অনুচ্ছেদ নং ৩৫ এ নিয়ে শুনানি থাকলেও জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল এনএন ভোরা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শুনানি পিছিয়ে দেবার জন্য আবেদন করেছিলেন।

এখন জনতা যেভাবে বিক্ষোভ মুখি হয়ে আছেন। এই পরিস্থিতিতে অনুচ্ছেদ ৩৫এ নিয়ে শুনানি হলে রাজ্যে যে অশান্তি আরও বাড়বে তা বলাই যায়। এবং কিছু দিন পরেই রাজ্যে পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন তাই আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আর্জি জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এই শুনানি নিয়ে দুইদিনব্যাপী বন্ধের ডাক দিয়েছে কাশ্মীরে ফলে সেখানকার সাধারন জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

হিন্দুবহুল জম্মুর জনগণ একদিকে যেমন ৩৭০ ধারার অংশ ৩৫ A বিলুপ্তি করার সমর্থনে রয়েছে তেমনি কাশ্মীরের কট্টরপন্থী নেতারা ৩৫A বিলুপ্ত হলে দাঙ্গা করার হুমকি দিয়েছে। আপনাদের জানিয়ে রাখি কাশমীরেট বিচ্ছিন্নবাদী নেতাদের উদেশ্য যেকোনো প্রকারে কাশ্মীরকে আলাদা করার ইসলামিক রাজ্য করে ফেলা। আসলে এই কট্টরপন্থী বিচ্ছিন্নবাদী মুসলিম নেতারা ভারতকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে সম্পুর্ন ইসলামিক ভারতবর্ষ গঠনের স্বপ্ন দেখে। শুনানিকে কেন্দ্র করে অমরনাথ যাত্রাও ব্যাহত হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেই দিকে নজর রেখে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো উপত্যকা অঞ্চল।
#অগ্নিপুত্র