Press "Enter" to skip to content

আবারও দেশকে ডোবানোর প্ল্যান করেছে গান্ধী পরিবার! মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ৭২০০০ টাকা দিয়ে হতে পারে দেশের বহু সমস্যার সমাধান!

লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ভোটারদের মন জয় করার জন্য এক বড় কৌশল আপন করেছেন। রাহুল গান্ধী ‘ন্যায়” প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। সেই প্রকল্প অনুযায়ী দেশের পাঁচ কোটি পরিবার প্রতি বছর ৭২,০০০ টাকা পাবে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে। আর এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন কেন্দ্রে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার গঠন হবে।

রাহুল গান্ধীর এই প্রকল্পে প্রতি বছর ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা দেশের খরচ হবে। এটা কিন্তু কোন ছোট অর্থ না! এই টাকা দিয়ে দেশের অনেক বড়বড় সমস্যার সামাধান হতে পারে। রাহুল গান্ধী ওনার ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধী এবং বাবা রাজীব গান্ধীর মতনই দেশ থেকে দারিদ্রতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে কংগ্রেস এই দেশে ৬০ বছর শাসন করে দেশ থেকে দারিদ্রতা না দূর করতে পারলেও, নিজেদের পকেট যে ভরে নিয়েছে সেটা বোঝাই যায়। আসুন দেখে নিই প্রতি বছর ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে ভারতে কি কি সমস্যা দূর করা যেতে পারে। 

৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে কৃষকেরা পেতো ৩০ হাজার টাকা

মোদী সরকার অন্তিম বাজেটে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার জন্য বাজেটে ৭৫ হাজার কোটি টাকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই যোজনার মাধ্যমে দেশে ১২ কোটি ক্ষুদ্র আর সীমান্ত কৃষককে ৩ টি কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

যদি রাহুল গান্ধীর ‘ন্যায়” প্রকল্পের ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকার অনুমানিত বাজেটের তুলনা করা হলে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার বাজেটের থেকে সেটি ৫ গুণ বেশি। আর এজন্যই বলা যেতে পারে যে, ১২ কোটি কৃষক প্রতিবছর ৬ হাজারের যায়গায় পাঁচ গুণ বেশি ৩০ হাজার টাকা করে পেতো।

৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা থাকলে জাপানের থেকে ঋণ নিতে হতনা। 

২০২২ সালে জাপানের সাহাজ্য নিয়ে মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত দেশের সর্বপ্রথম বুলেট ট্রেন চালানো হবে। ওই ট্রেন ৫০৮ কিমির দূরত্ব মাত্র ৩ ঘণ্টায় পার করবে। বুলেট ট্রেনের প্রোজেক্টে মত ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারিত করা হয়েছে।

যদি রাহুল গান্ধীর ‘ন্যায়” প্রকল্পের ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকার অনুমানিত বাজেটের তুলনা করা হলে, ওই টাকা দিয়ে ভারত সরকার ৫০০ কিমি দূর পর্যন্ত তিনটি লাইনে বুলেট ট্রেনের প্রোজেক্ট বিস্তার করতে পারবে। আর এরজন্য ভারত সরকারের জাপানের থেকে ঋণ নেওয়ার কোন দরকার নেই। আপনাদের জানিয়ে রাখি ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছে জাপানের থেকে, আর এই ঋণ ০.১% সুদের হারে আগামী ৫০ বছরে শোধ করতে হবে।

৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা থাকলে শেষ হয়ে যেত RBI আর সরকারের বিবাদ

গত বছর রিসার্ভ ব্যাংক অগ ইন্ডিয়া আর ভারত সরকারের মধ্যে চলা বিবাদ শিরোনামে চলে এসেছিল। এই বিবাদের সবথেকে বড় কারণ হিসেবে ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকাকে দেখানো হয়। আসলে, মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয় যে, সরকার ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা ফান্ড চাইছে, আর আরবিআই সেটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত না। আরেকদিকে রাহুল গান্ধীর এই ‘ন্যায়” স্কিম ও ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকার।

৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা থাকলে আধাসামরিক বাহিনী পুরো পেনশন পেতো

বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে আধাসামরিক বাহিনী পুরানো পেনশন প্রকল্প অনুযায়ী পেনশনের দাবি জানাচ্ছে। আর এটা নিয়ে দেশের আধাসামরিক বাহিনীর অনেক সংগঠনই প্রদর্শন করেছে দেশ জুড়ে।

যদি রাহুল গান্ধীর ‘ন্যায়” প্রকল্পের ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকার অনুমানিত বাজেটের তুলনা করা হলে, দেশে আধাসামরিক বাহিনীদের জন্য পুরানো পেনশন প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। আপনাদের জানিয়ে রাখি, ২০১৭-১৮ তে আধাসামরিক বাহিনীদের পেনশনে ১,৫৬,৬৪১.২৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

তাছাড়াও রাহুল গান্ধী এর স্কিমের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের দেওয়া ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন” এর বাজেট ও বাড়ানো যেতে পারে। কারণ মোদী সরকার আসার পরে এই  ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন স্কিম চালু হয়। আর এই স্কিমের মাধ্যমে এখনো পর্যন্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা থাকলে দ্বিগুণ হত ডিফেন্স বাজেট

পাকিস্তান আর চীনের সাথে উত্তেজনা দেখে বর্তমানে ভারত ডিফেন্স সেক্টরে ৩ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করছে। যদি রাহুল গান্ধীর ‘ন্যায়” স্কিম এর বাজেটকে এখানে ঢালা হয় তাহলে, ডিফেন্স সেক্টরের বাজেট দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

আর তাঁর সাথেই ভারতেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র আরও মজবুত হয়ে যাবে। আপনাদের জানিয়ে রাখি, গোটা বিশ্বে সুরক্ষা বাজেটে খরচ করার মধ্যে সবথেকে এগিয়ে আমেরিকা, চীনের দ্বিতীয় স্থানে আছে। বর্তমানে ভারতের থেকে আমেরিকা, চীন, রাশিয়া আর সৌদি আরব এগিয়ে আছে।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.