Press "Enter" to skip to content

ভারতকে বিশ্বগুরু করার জন্য RSS কিভাবে এগিয়ে চলেছে জানলে আপনিও গর্বিত হবেন।

আজ থেকে প্রায় ৯২ বছর আগে যে সঙ্ঘের চারা গাছ ডক্টর হেডগেওয়ার রোপণ করেছিলেন তা যে আজ এত বিশাল একটা বৃক্ষে পরিণত হবে এটা কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। কেউ এটার আভাস পর্যন্ত পায়নি যে সঙ্ঘের শাখা দেশের ভেতরে নিজেদের শাখা এমন শক্তভাবে জমিয়ে নেবে যা পরবর্তীকালে দেশের দিশা ও দশা সমস্তকিছুই নির্ধারণ করবে। সঙ্ঘের সাধনা আজ রঙ দেখাচ্ছে যার কারণেই হিন্দুস্থানের রাষ্ট্রপতি হোক বা প্রধানমন্ত্রী সকলেই শাখার পাঠশালা থেকে বেরিয়েছেন। আজ সঙ্ঘের সাথে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা যুবকদের মধ্যে প্রবল হচ্ছে। এমনিতে বিশ্বের ৪০ টি দেশে সঙ্ঘের শাখা লাগানো হয়। কোথাও ই শাখা লাগানো হয় কোথাও বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগ হন। দেশেই প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি স্বয়ংসেবক রয়েছে।

রোজ প্রায় ৫০ হাজার শাখা লাগানো হয়। সঙ্ঘ  থেকে কত দ্বিগজ বেরিয়েছেন তার সমস্ত কিছুই আপনাদের জানাবো তবে তার আগে সয়ংসেবকদের অনুশাসন সম্পর্কে একটু জানিয়ে দি। সঙ্ঘ সংস্কার, রাষ্ট্রবাদ, সমাজসেবার ভাবনার প্রাথমিক পাঠশালা। পূর্ব প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ উপরাষ্টপ্রতি ভেঙ্কাই নাইডু, গোয়ার মুখমন্ত্রী মনোহর পারিকর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গাতকরি, বিজেপি নেতা মুরলি মনোহর জসী, মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফোড়নবিশ, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি, বিজেপির দ্বিগজ নেতা রাম মাধম এর মত বহু ব্যাক্তিরা সঙ্ঘ থেকেই বেরিয়েছেন।

যদি কেউ সঙ্ঘের সাথে জুড়তে চাই তাহলে তাকে সঙ্ঘের শাখায় যোগদান করতে হয় যা সকাল ও সন্ধ্যে এই সময় হয়ে থাকে। শাখায় ধজ্জ প্রণামের পর খেলাধুলা ও ব্যায়াম শেখানো হয়। শাখায় সামিল হওয়ার পরই আপনাকে স্বয়ংসেবক হিসেবে গণনা করা হয়। এর পর সঙ্ঘের তিন প্রশিক্ষন শিবির হয় , সবার প্রথমে আইটিসি অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষা বর্গ যেখানে ৭ দিন ধরে স্বয়ংসেবকদের প্রশিক্ষন দেওয়া হয় যার পর সঙ্ঘ শিক্ষা বর্গ প্রথম বর্ষ অর্থাৎ ওটিসি ফার্স্ট ইয়ার হয় যেখনে ২০ দিন ধরে স্বয়ংসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফার্স্ট ইয়ার এর পর ২০ দিনের আরো একটা প্রশিক্ষণ হয় যেটাকে ওটিসি সেকেন্ড ইয়ার বলা হয়। এরপর হয় ওটিসি থার্ড ইয়ার যা সবথেকে দীর্ঘ সময় ৩০ দিনের হয় যা সঙ্ঘের হেডকোয়াটার নাগপুরে করা হয়।

যারা ওটিসি থার্ড ইয়ার করে নেন তারা অনেকেই সঙ্ঘ প্রচারক হয়ে যান। এবার আপনাদের জানাই, সঙ্ঘ প্রচারক কাদের বলা হয়। আসলে সঙ্ঘ তাদের বিস্তারের জন্য প্রচারক নিযুক্ত করে। প্রচারক এর নিযুক্তি ক্ষেত্র, প্রান্ত, বিভাগ, জেলা ও নগরে হয়ে থাকে। যেসব স্বয়ংসেবক প্রচারক হিসেবে সময় দেন তাদের প্রথম নিযুক্তি বিস্তারক রূপে হয় এরপর তাদের প্রমোনশন হয়। এমনটা নয় যে সঙ্ঘের প্রচারক শুধু সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবেই থেকে যাবেন। ক্ষমতা ও যোগদানের ভিত্তিতে তাদের নিযুক্তি সঙ্ঘের যেকোনো সংগঠনে করা যেতে পারে যেমন বিজেপি, মজদুর, বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরং দল। আপনাদের জানিয়ে রাখি RSS এর ২০ এর বেশি আরো সংগঠন রয়েছে। সঙ্ঘ প্রচারক হওয়ার জন্য অনেক সাধনা করতে হয় কারণ প্রচারক হওয়া কোনো মুখের কথা নয়। অনেক শর্ত পালনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় সঙ্ঘ প্রচারক। সঙ্ঘের প্রচারক থাকাকালীন কোনো ব্যক্তি না বিয়ে করতে পারে না পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারে। প্রচারক কোনো বেতন পান না শুধু মাত্র তার প্রয়োজনীয় খরচের টাকা পান মাত্র।

সঙ্ঘ কার্যালয়ের আরো একটা বিশেষ বিষয় এই যে সেখানে কোনো রান্না ঘর থাকে না।ভোজনের জন্য প্রচারকদের বিভিন্ন পরিবারের কাছে যেতে হয়। এই নিয়ম এই জন্যেই তৈরি করা হয়েছে যাতে পরিবারের মধ্যে গিয়ে পরিবারকে সঙ্ঘের সাথে জুড়তে পারা যায়। এখন আপনাদের জানায় যে এত বড়ো একটা সংঘটন চালানোর জন্য টাকা কোথায় থেকে আসে। আসলে সঙ্ঘ গেরুয়া পতাকাকে নিজেদের গুরু মনে করে এবং বছরে একবার গুরুদক্ষিণের আয়োজন করা হয়। এই কার্যক্রমে প্রত্যেক স্বয়ংসেবক তাদের নিজেদের মতো করে গুরুদক্ষিনা প্রদান করে। এই দক্ষিণ একটা বন্ধ কাগজের মধ্যে দিতে হয়। কোনো স্বয়ংসেবক একটা ফুল থেকে শুরু করে যতইচ্ছা পরিমান দক্ষিনা প্রদান করতে পারে।

এই গুরুদক্ষিণ সঙ্ঘের যোগান দেওয়ার একমাত্র রাস্তা। আরএসএস এর লক্ষ জাতপাত থেকে উপরে উঠে জটিভিত্তিকে ভেঙে পড়া হিন্দু সমাজকে এক করা। সঙ্ঘের এই ৯৩ বছর অতিক্রম করা কোনো সহজ ব্যাপার ছিল না। কংগ্রেসের চোখের বলি এই RSS এর উপর বহুবার ব্যান লাগানো হয়েছে। সর্বপ্রথম গান্ধীজির মৃত্যুর পর RSS এর উপর ব্যান লাগানো হয়েছিল। অপপ্রচার করা হয়েছিল যে RSS এর ব্যাক্তি গান্ধীকে হত্যা করেছে । পরে অবশ্য আদালতে সত্য সামনে এলে ব্যান সরে যায়। যদিও সেই সময়েও কংগ্রেসের জওহরলাল নেহেরু সঙ্ঘের উপর ব্যান সরিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না। এরপর ১৯৭৫ এ এমার্জেন্সির সময় সঙ্ঘের উপর ব্যান লাগে।

সেই কালো সময়ে নরেন্দ্র মোদীজি সঙ্ঘের প্রচারক ছিলেন এবং তিনি গ্রেপ্তারি থেকে বাঁচবার জন্য লুকিয়ে সঙ্ঘের প্রচার চালাতেন। বলা হয় সময় তার হিসেব ঠিক নিয়ে নেয়। আজ সেই সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক দেশের প্রধানমন্ত্রী, ওই সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক দেশের রাষ্ট্রপতি , ওই সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক দেশের উপরাষ্ট্রপতি এছাড়া শাসন ক্ষমতায় থাকা এমন অনেক দ্বিগজ রয়েছেন যারা সঙ্ঘ থেকে বেরিয়েছেন। সঙ্ঘের সফর এখনো জারি রয়েছে। ভারতকে বিশ্বগুরু করার জন্য সঙ্ঘ দিনে দ্বিগুণ ও রাতে চারগুন গতিতে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।