Press "Enter" to skip to content

ভারতের বুদ্ধিজীবীরা ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে প্রকৃতপক্ষে হিন্দুবিদ্বেষী

ইদানীং এক শ্রেণীর মানুষ হঠাৎই গেল গেল রব তুলে সোচ্চার হয়ে উঠেছে হিন্দুত্ব নিয়ে। এরা নিজেদের মানবতাবাদী তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ উদারচেতা বুদ্ধিজীবী বলে দাবি করেন। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সঙ্গীতের আধ্যাত্মিক পরিধি ছাড়িয়ে এক শ্রেণীর সবজান্তা বিদ্বজ্জন রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়েছে। এই বোদ্ধাদের জ্ঞানের পরিসীমা নিয়ে সন্দেহ হয়। হিন্দুত্ব নিয়ে তারা উন্নাসিকতা প্রকাশ করে প্রচারের প্রতিযোগিতায় খবরের কাগজের শিরোনামে স্থান পেতে ব্যস্ত। আসলে হিন্দুত্ব নিয়ে বিভ্রান্তির শুরু সংবিধানে রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মনিরপেক্ষ কথাটি সংযোজনের পর থেকেই। জেনে রাখা দরকার যে সংবিধান প্রণেতারা কিন্তু এই ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটি কখনো কোথাও উল্লেখ করেননি। এদেশের ইতিহাস বলে ভারত সর্ব ধর্মের সমন্বয়ে বিশ্বাসী। তাই স্বভাবতই ভারত ধর্মনিরপেক্ষ। হিন্দুত্ব কোনো ধর্ম নয়, এক জীবনপদ্ধতি। প্রকৃত অর্থে হিন্দুত্ব সম্পর্কে না জেনে এই শ্রেণীর লোক ইচ্ছাকৃত ভাবে ধর্মের তকমা লাগিয়ে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষ পোষণ করে চলেছে। হিন্দুত্ব নাকি ভারতের বহুমাত্রিকতার উপর আঘাত। এদের অজ্ঞতা প্রথমেই দূর হওয়া উচিত এই জেনে যে, হিন্দু বা হিন্দুত্ব-এর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, যেহেতু এটা কোনো ধর্ম নয়। প্রত্যেক ধর্মের প্রবর্তক বা প্রতিষ্ঠাতা আছে। খ্রিস্টান, মুসলমান, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা আছে। হিন্দু ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নেই।
বাস্তবিক অর্থে ভারত এমন একটি দেশ যেখানে প্রাচীনকাল থেকেই বহু জাতিমত-পথ ও ধর্মের সমাবেশ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বহিরাগত আগাসী শক্তি বলপূর্বক এদেশের মানুষকে ধর্মান্তরিত করা সত্ত্বেও এক সময় তাদেরকেই আত্মসাৎ করে নিয়ে ভারত এক বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সমন্বয় সৃষ্টি করেছে যা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল ভারতের অন্তরাত্মার আধ্যাত্মিক শক্তি সেই সনাতন ঐক্যের বাণী বসুধৈব কুটুম্ব—‘সমস্ত বিশ্ব এক পরিবার। বেদ উপনিষদের সেই শিক্ষা সর্বজনীন সুখ ও সমৃদ্ধি কামনাই হিন্দু সংস্কৃতি ও জীবন শৈলীর মূল সুর। এই ‘হিন্দুত্ব’ই সনাতন শাশ্বত ভারতীয় সত্তা যা প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধির নির্যাস। হিন্দুরা বিশ্বাস করে সব ধর্ম সত্য সব ধর্মের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর। উপলব্ধি সম্ভব। ভারত আত্মার এই মূল সুর । হলো দেশকে মাতৃভূমি জ্ঞানে শ্রদ্ধা ও পূজা। করা। হিন্দুত্বের ভৌগোলিক বিস্তার এককালে ছিল সুদূর ইরান ও আফগানিস্তান থেকে পূর্বের ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ফিলিপিন্স এমনকী জাপান-সহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত। যুগ যুগ ধরে এত বহিঃশত্রুর অত্যাচার আগ্রাসনের। পরেও হিন্দুত্ব স্বমহিমায় আজও বিরাজমান। কারণ হিন্দুত্ব কাউকে অশ্রদ্ধা করে না, অন্য কোনো ধর্মকে অস্বীকার করে না। ইতিমধ্যে অনেক ধর্মের উদয় ও অবলুপ্তি ঘটেছে, কিন্তু হিন্দুত্ব বিলীন হয়ে যায়নি।
হয়তো অনেকেই অবগত আছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণনামের প্রসার। পাশ্চাত্যের কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের বেদ মন্ত্র পাঠের প্রচলন আছে। এমনটি এদেশে হলে ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারীরা হৈ হৈ করে উঠবে। যোগী ঋষিদের নির্দেশিত‘যোগ’ক্রিয়া যা আজ বিশ্ব বন্দিত, কিন্তু কী অদ্ভুত পরিহাস, কেউ কেউ এর মধ্যে ধর্মের গন্ধ খুঁজে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে প্ররোচিত করে তার বিরোধিতায়। বহু প্রাচীনকাল থেকেই মুসলমান। প্রধান দেশেও হিন্দুদের রামায়ণ মহাভারত জনপ্রিয়। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতকে বিশ্ব দরবারে উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যায় বিদগ্ধ মুসলমান সঙ্গীতকারদের। তাহলে ‘হিন্দুত্ববাদ’-এর প্রতি এত অনীহা বা বিদ্বেষ কেন—কীসের আতঙ্ক?
রাজনৈতিক স্বার্থ লোলুপ ষড়যন্ত্রের বলি হতে চলেছে বিশ্ব গৌরবান্বিত এই সনাতন ঐতিহ্যমণ্ডিত হিন্দুত্ব। এর অস্তিত্বকে বিপন্ন করার জঘন্য ও গভীর চক্রান্ত চলছে। এক শ্রেণীর লোক বিশেষ করে সেই স্বঘোষিত বিদ্বজ্জন বলে যারা নিজেদের জাহির করে, তারা নিজেদের হিন্দু বলতে কুণ্ঠিত বোধ করে কেননা তাহলে যে লোকে সাম্প্রদায়িক বলবে এই আশঙ্কা। এদের যে প্রমাণ করতে হবে এরা সেকুলার তা না হলে নিজের বৈশিষ্ট্য যে বজায় থাকে না। একজন হিন্দু নিজেকে হিন্দু বলে গর্ব করাই তো স্বাভাবিক। এর মধ্যে অনীহা বা দ্বিধা কেন? সেখানেই তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সুতরাং হিন্দুর সমৃদ্ধ। সংস্কৃতি, ঐহিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার সুরক্ষায় সচেষ্ট হওয়া অপরিহার্য নয় কি? ধর্মের রঙে কেন একে কলুষিত করার চক্রান্ত ? কার বা কাদের নির্দেশে ও স্বার্থে এই আতঙ্ক ছড়ানো?

you're currently offline