Press "Enter" to skip to content

চাঞ্চল্যকর তথ্য! সাধারণ মানুষের করের টাকাতেই হয়েছিল জোট সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, গোপন মমতার খরচ..

এবার সবার সামনে চলে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জোট সরকারের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাজ্যের কোষাগার থেকেই। রাজ্যের গরিব মানুষজন দের করের টাকাতেই হয়েছিল সেই অনুষ্ঠান। প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা খরচা করা হয়েছিল সেই শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে যার পুরোটাই গিয়েছিল রাজ্যের কোষাগার থেকে এমনই তথ্য উঠে আসছে তথ্য জানার অধিকার আইন থেকে। এই বিষয় টি সবার সামনে চলে আসতেই চারিদিকে এটা নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে সমালোচনা। দেশের বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা সেই দিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। অনেক বিজেপি বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীও সেই দিনের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। এবং জানা গিয়েছে যে, সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ব্যক্তিদের আপ্যায়নের জন্য যে বিপুল পরিমানে অর্থ খরচ হয়েছিল সেই সমস্তটাই গিয়েছিল সরকারি কোষাগার থেকে সাধারণ মানুষের ট্যাক্স এর টাকা থেকে।

সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সকল রাজনৈতিক ব্যাক্তি দের পিছনে কত টাকা খরচ হয়েছিল তার হিসাব চলে এসেছে সবার সামনে। দেশে বিজেপির গেরুয়া ঝড় ঠেকাতে সকল অবিজেপি দল গুলি হাতে হাত মিলিয়ে ছিল। নিজেদের শত্রুতা ভুলে সপা এবং বিএসপি কে যেমন এক হতে দেখা গিয়েছিল ঠিক তেমনি এক মঞ্চে ছিলেন ও সিতারাম ইয়েচুরি। জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী যিনি জেডি(এস) এর বিধায়ক এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডাঃ জি পরমেশ্বর যিনি হচ্ছেন কংগ্রেসের বিধায়ক তাদের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান হয়েছিল গত মে মাসের ২৪ তারিখ। মাত্র ৭ মিনিট সময় লেগেছিল এই দুই ব্যক্তির শপথ গ্রহন করতে। আর মাত্র এইটুকু সময়ের জন্যই খরচ হয়েছিল বিপুল পরিমানে অর্থ।

এন চন্দ্রবাবু নাইডু যিনি হচ্ছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তিনি মাত্র ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ছিলেন বেঙ্গালুরুর তাজ ওয়েস্ট এন্ড হোটেলে। আর এইটুকু সময়েই তার জন্য বিল হয়েছিল আট লক্ষ ৭২ হাজার ৪৮৫ টাকা। তিনি খরচের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল খরচ করেছেন ৭৬ হাজার ২৫ টাকা তিনিও ওই একই পরিমান সময় কাটিয়েছিলেন। একই হোটেলে ছিলেন কামাল হাসান যিনি অভিনেতা থেকে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে এসেছেন। তাঁর জন্য এক লক্ষ দুই হাজার ৪০ টাকা খরচ করা হয়েছিল কর্ণাটকের সরকারি কোষাগার থেকে।

সপা দলের নেতা অখিলেশের বিল হয়েছিল ১ লক্ষ দুই হাজার ৪০০ টাকা এবং বিএসপি-র শীর্ষ নেত্রী মায়াবতী খরচ করেছেন ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৪৪৩ টাকা। উত্তর প্রদেশের এই দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য কর্ণাটক সরকারকে খরচ করতে হয়েছিল প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। সীতারাম ইয়েচুরি যাকে বলা হয় সর্বহারার দল সিপিএম নেতা তিনি মাত্র ৬৪ হাজারেই থেমে গিয়েছিল তার খরচ অবশ্য লক্ষ পেরোয়নি। কিন্তু বাম নেতা পিনারাই বিজয়ন যিনি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তিনি আবার বিল করেছেন এক লক্ষ দুই হাজার ৪০০ টাকা। হেমন্ত সোরেন যিনি ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তিনিও সেই দিনের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি ওই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য জোট সরকারের হাতে ৩৮ হাজার ৪০০ টাকার বিল ধরিয়েছেন। অপর দিকে বাবুলাল মারান্ডি তিনিও ঝাড়খণ্ডের অপর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তার জন্যও থাকা খাওয়া বাবদ একদিনের জন্য খরচ লেগেছিল ৪৫ হাজার ৪৯২ টাকা। কর্ণাটকের জোট সরকারকে একই পরিমানে অর্থ খরচ করতে হয়েছিল এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসির জন্য। এই যাবতীয় তথ্য কর্ণাটক সরকারের স্টেট হসপিটালিটি অর্গানাইজেশন এর তরফে প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও তারা তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এর ব্যাপারে কোনও তথ্য প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নয়।

#অগ্নিপুত্র