Press "Enter" to skip to content

রাজ্যে ১ বছরের RSS এর শক্তি বেড়ে দ্বিগুন! চিন্তায় শাসক দল, উৎসাহী বিজেপি।-Bengali News

দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু ভোটের পর সেই সব ভুলে যায়। কিন্তু সরকার এরকম করেন না তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সাহায্য করে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। পদ্ম শিবির স্থানীয় যেকোনো ইস্যুতে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সাধারণ মানুষকে এবং সাধারণ মানুষের কাজে নিজেদের পুরোপুরি ভবে উৎসর্গ করেন এভাবেই তারা নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ কে। তবে রাজ্যে যেভাবে দ্রুত গতিতে দিনের পর দিন ঘাঁটি শক্তিশালী হচ্ছে এর পেছনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থার। বিগত ১ বছরে এর শাখা বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে রাজ্যে এমন বেশ কয়েকটি জেলা রয়েছে যেখানে বিজেপি’র ভিত ততটা শক্তিশালী নয়, কিন্তু সেখানে আরএসএস তাদের প্রভাব বিস্তার যথেষ্ট পরিমানে করেছে। জঙ্গলমহলে পঞ্চায়েত ভোটের সময় সেই সব কিছুর প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আরএসএস এর প্রভাব থাকার জন্যই বিজেপি সেখানে যথেষ্ট পরিমাণে সাফল্য পেয়েছে। ঠিক একইভাবে লোকসভা ভোটেও বিজেপি একই কৌশল অবলম্বন করে রাজ্যে বাজিমাত করতে চায়।

দক্ষিণবঙ্গের মত এখন উত্তরবঙ্গে ও বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে আরএসএস। আরএসএস এর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের 150 টি সক্রিয় শাখা শুধুমাত্র উত্তর দিনাজপুর জেলাতেই বর্তমান। আরএসএস আগে থেকেই তাদের সংগঠনটি মজবুত করে ফেলেছিল উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে দাড়িভিটে। তার ফলে দাড়িভিট স্কুল কান্ডের তৃনমলের উপর মানুষের ক্ষোভ বিজেপির পক্ষে যথেষ্ট লাভ হয়েছে। সেখানকার মানুষ এখন বিজেপির দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। শুধুমাত্র ইসলামপুর নয় চাকুলিয়া, হেমতাবাদ, গোয়ালপোখর, করণদিঘি সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এখন সঙ্ঘের ঘাঁটি দারুন শক্ত।

আরএসএস এর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এত বড় রাজ্যটিকে তারা সমান দুটি ভাগে ভাগ করে নিয়েছে উত্তর ও দক্ষিণে। কারণ এর ফলে প্রচারকার্য চালানো অত্যন্ত সুবিধাজনক হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে যেখানে গত বছরে আরএসএস এর শাখার সংখ্যা মাত্র হাজার খানেক মত ছিল সেটা এ বছর বেড়ে ২০০০ এর কিছু বেশি হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ সাধন পাল যিনি একজন আরএসএস নেতা তিনি বলেন যে, মানুষ এখন দিনের পর দিন আর.এস.এস দিকে ঝুঁকছে তার ফলে আগের ৬০০ টি আর.এস.এস শাখা এখন বেড়ে হয়ে গিয়েছে ১২০০ এর মতন। তিনি আরও বলেন যে প্রচার কাজের সুবিধার জন্য উত্তরবঙ্গের জেলা গুলিকে দুইভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।

কেমন ভাবে কাজ করছে সঙ্ঘ?

সঙ্ঘ নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, এলাকার যেসমস্ত মানুষজন তাদের রোজকার খাবারটা জোগাড় করতে অক্ষম তাদের মুখে খাবার তুলে দেয় সঙ্ঘ। এমনকি যেসমস্ত গ্রামবাসীরা ঠিকঠাক মত চিকিৎসা করাতে পারেন না তাদের চিকিৎসা করানোর দায়িত্বও নিয়েছেন আর.এস.এস। গরিব পরিবার গুলির ছেলেমেয়ে দের স্কুলে পড়াশোনার দায়িত্ব থেকে শুরু করে উপযুক্ত বয়সে তাদের বিয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা সমস্ত কিছু করছে আর.এস.এস। আর এর ফলেই আর.এস.এস স্থানীয় মানুষজন দের কাছে খুব সহজের সমর্থন আদায় করে নিচ্ছেন। আর.এস.এস এখন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জনজাতি, আদিবাসী এবং চা-বাগানের শ্রমিকদেরও যথেষ্ট খেলায় রাখছেন। তাদের যেকোনো রকম বিপদে সবার আগে ছুটে যায় আর.এস.এস।

কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে আমাদের রাজ্যে আর এস এস এর শাখা সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা অত্যন্ত হারে বেড়ে গিয়েছে। সাধন পাল এই দিন বলেন যে আমাদের সুন্দর আদর্শের সঙ্গে এখন অনেক মানুষই একমত। সংঘের সদস্য হবার প্রবণতা এখন দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের যুবক-যুবতীদের মধ্যেও, ফলে এখন প্রায় দিনই তারা যোগদান করছেন আর এস এস এর এর সদস্য রূপে। তার কথাই এখন দেশের প্রায় জায়গার মানুষ বলে থাকেন যে আমরা বাঙালি, আমরা বিহারি, আমরা গুজরাতি, আবার অনেকে বলেন যে আমরা খ্রিষ্টান, আমরা হিন্দু, আমরা মুসলমান কিন্তু কেউই এ কথাটি বলেন না যে আমরা হলাম ভারতবাসী। তাই আমরা সমগ্র উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে এই কথাটি প্রচার করছি এবং ভারতবাসী হিসেবে একে অপরের পাশে থেকে সমাজ কে আরও সুন্দরতম করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

বিজেপির কি কিছু সুবিধা হচ্ছে আর.এস.এস সংগঠন মজবুত হওয়াতে? এই প্রশ্নের উত্তরে সাধন পাল বলেন যে, আমাদের ভালো কাজ করাতে যদি কোনো দলের সুবিধা হয় তাহলে এতে খারাপতো কিছু নেই।

আরও জানা গিয়েছে যে, উত্তরদিনাজপুরের ঘটনায় নুতন করে আন্দোলন করার কথা ভাবা হচ্ছে রাজ্য বিজেপির তরফে। সেখানে গিয়ে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ আরও কয়েকজন বিজেপি নেতার সভা করার কথা রয়েছে। এবং প্রচারে জোর বাড়ানোর জন্য বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ জির আসার কথাও রয়েছে।
#অগ্নিপুত্র