Press "Enter" to skip to content

সর্দার প্যাটেল পেলেন যোগ্য সন্মান! খন্ড খন্ড হয়ে যাওয়া ভারতকে এক করেছিলেন প্যাটেল।

আজ ৩১ শে অক্টোবর সর্দার প্যাটেলের জন্মজয়ন্ত্রী, আজকের দিনে ১৮৭৫ সালে ভারতপুত্র সর্দার বল্লভাই প্যাটেল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আজকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে শুধুমাত্র শুভজন্মদিন জানিয়ে দিলেই হবে না বরং উনার অবদানগুলিকে স্মরণ করার দিন আজ। সর্দার প্যাটেল একজন সাধারণ ব্যাক্তির মধ্যে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন কিন্তু কংগ্রেস উনাকে সমস্ত ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভাই প্যাটেল, চন্দ্রশেখর আজাদের মতো ব্যক্তিদের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ভরপুর প্রয়াস করেছে কংগ্রেস। জানিয়ে দি স্বাধীনতা লাভের সময় ভারত প্রায় ৫৬২ ভিন্ন ভিন্ন রাজা, মহারাজের এলাকায় খণ্ডিত হয়েছিল। এরপর সর্দার বল্লভাই প্যাটেল তার কূটনীতি ও বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সকলকে নিয়ে অখন্ড শক্তিশালী ভারত গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু এতে সমস্যা এই ছিল যে হিন্দু রাজার সকলে সর্দার বল্লভাই প্যাটেল ডাকে নিজেদের পূর্বপুরুষের রাজত্ব ত্যাগ করে ভারতের সাথে এক হয়ে  গেলেও মুসলিম নিজামরা এতে রাজি হননি।

বিশেষ করে হায়দ্রাবাদের নিজাম ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার বিরোধ করে। হায়দ্রাবাদের নিজাম পাকিস্থানকে জানায় যে তারা পাকিস্থানের অংশ হতে চাই, অর্থাৎ দক্ষিণ পাকিস্থান নামে পরিচিত পেতে চাই। কিন্তু পাকিস্থান রাজি হয়নি কারণ ভারতের মধ্যে থাকা অংশকে এইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হতো। তাই শেষমেষ হায়দ্রাবাদের নিজামের নেতৃত্বে কট্টরপন্থীরা হিন্দুদের হত্যা ও অট্টাচার করতে শুরু করে। ভারতীয়রা হায়দ্রাবাদের হিন্দুদের বাঁচানোর জন্য সেনা পাঠানোর অনুরোধ করে,
কিন্তু গিয়াসউদ্দিন গাজীর বংশধর জওহরলাল নেহেরু সেনা পাঠাতে অস্বীকার করে।

স্ট্যাচু অফ ইউনিটি

নেহেরুর সমর্থন করেন গান্ধীজি। এরপর বল্লভাই প্যাটেল এর হস্তক্ষেপে সেনা পাঠিয়ে শুরু করা হয় অপেরাশন পোলো, যারপর হায়দ্রাবাদে ভারতের সৈনিক প্রবেশ করে প্রায় ২০০০ কট্টরপন্থীদের শেষ করে, হায়দ্রাবাদকে ভারতের সাথে জুড়ে দেয়। যদি প্যাটেল না থাকতেন তাহলে আজ ভারতের আরো একটা বড়ো অংশ ইসলামিক দেশ হতো যা হিন্দুদের জন্য পাকিস্থান/বাংলাদেশ বা নরকের সমান হতো। আজ প্যাটেলের জন্যেই খন্ড খন্ড ভারত এক হয়েছে এবং হায়দ্রাবাদকে ইসলামিক দেশ হওয়া থেকে আটকানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে বামপন্থী ও কংগ্রেসের দালাল ইতিহাসকারকরা এই সমস্থ ইতিহাসকে পাঠ্যপুস্তক থেকে বাতিল করে দিয়েছে।

তবে ভারতের জন্য এটা সৌভাগ্যের বিষয় যে দেশ আজ এমন এক প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে যিনি সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভাই প্যাটেলের মতো মহাপুরুষদের যোগ্য সন্মান ফিরিয়ে দিতে শুরু করেছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্দার বল্লভাই প্যটেলকে সন্মান জানিয়ে সর্দার বল্লভাই প্যাটেলের বিশ্বের সবথেকে উঁচু প্রতিমা “স্ট্যাচু অফ ইউনিটি” উদ্বোধন করেছেন। আজ সর্দার বল্লভাই প্যাটেলকে শুধু শুভ জন্মদিন ও প্রনাম জানিয়ে দিলেই হবে না, একইসাথে যুবসমাজকে ভারতের আসল ইতিহাস জানানোর ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে।