Press "Enter" to skip to content

মহান সুভাষ চন্দ্র বসুর সম্পর্কিত লুকিয়ে রাখা এই ঘটনা জানলে, আপনিও বলে উঠবেন ভারত মাতা কি জয়।

আজ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এমম একটা ঘটনা আপনাদের জানাবো যা সম্পর্কে আপনারা হয়তো আংশিক ভাবেই জানেন। এই ঘটনা মহান দেশপ্রেমিক সুভাষচন্দ্র বসু ও গান্ধিজি উভয়ের সাথে ঘটিত হয়েছিল। স্বাধীনতার আগে ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাস কামরায় যদি কোনো ইংরেজ সফর করতো তাহলে সেই কামরায় কোনো ভারতীয়কে সফর করতে দেওয়া হতো না। গান্ধীজির ঘটনা খুব প্রচলিত হয়েছিল। এটা সকলেই জানে যে গান্ধীজিকে তার সামগ্রিক সহ কামরা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল যারপর উনি প্লাটফর্মেই ধর্ণায় বসেছিলেন। এবার মহান সুভাষ চন্দ্র বসুর কথা বলি, উনার সাথেও এইরকম ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ওই ঘটনা প্রচলিত হয়নি অথবা ইচ্ছা করেই আমাদের থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সুভাষ চন্দ্র বসু ফার্স্ট ক্লাস কামরায় বসেছিলেন এবং একলা যাত্রা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর এক ইংরেজ মহিলা ওই ফার্স্ট ক্লাস কামরায় উঠেন।

ফার্স্ট ক্লাস কামরায় একজন ভারতীয়কে দেখে ওই মহিলা রেগে লাল হয়ে উঠেন। ওই মহিলা ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে বলে, ‘তুম কালা আদমি ইসমে ক্যাইসে আয়া, আগলে স্টেশন পে উটার জানা।’ সুভাষ চন্দ্র বসু মহাশয় ওই মহিলার কথা শোনার পর কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে চুপ চাপ নিজের জায়গায় স্থিরভাবে বসে থাকেন। এটা দেখে মহিলা আবার জোরে বলে উঠে, যদি তুমি পরের স স্টেশনে না নেমে পড়ো তাহলে আমি চিৎকার করে সকলকে বলবো যে তুমি আমার সাথে অভদ্র ব্যাবহার ও অসভ্যতামি করার চেষ্টা করেছো। সুভাষ চন্দ্র মহাশয় তখন ওই মহিলাকে ইশারা করে বলেন যে উনি শুনতেও পান না আর বলতেও পারেন না অর্থাৎ উনি বধির ও বোবা, তাই আপনি যা কিছু বলছে তা সমস্ত লিখে দিন।

এবার মহিলা তার দ্বারা বলা বক্তব্য লিখে দেন । মহিলা স্পষ্টভাবে লিখে দেন যে যদি তুমি পরের স্টেশনে না নেমে পড়ো তাহলে তোমার উপর মিথ্যা অভিযোগ আনবো। এরপর নেতাজি ওই লেখা না পড়েই নিজের পকেটে রেখে নেন। এটা দেখে ইংরেজ মহিলা আরো জোরে চিৎকার করতে শুরু করে তখন সুভাষ চন্দ্র বসু হেসে বলেন, ‘ম্যাডাম এবার আপনি বলুন পরের স্টেশনে কে নেমে পড়বে?’ এটা শুনে মহিলা দুশ্চিন্তায় পড়ে এবং তৎপরতার সাথে পরের স্টেশনে নিজেই নেমে পড়েন। এই ঘটনা ৪৫ বছর আগে মাসিক পত্রিকা কাদম্বিনীযে রাজেন্দ্র মাথুর দ্বারা লিখিত বিশেষ লেখায় প্রকাশিত হয়েছিল। এমনিতে তো সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কিত অনেক ঘটনা আছে যা জেনে উনার ব্যাক্তিত্বের ছটাকে আভাস করা যায়।

আরো একটা ঘটনা আপনাদের জানাই, ভারতের স্বাধীনতার জন্য সাহায্য চাইতে সুভাষ চন্দ্র বসু মহাশয় হিটলারের সাথে দেখা করতে জার্মানি গিয়েছিলেন। সুভাষ চন্দ্র মহাশয়কে এটা বলে বাইরে বসানো হয়েছিল যে হিটলার কোনো মিটিং এ ব্যাস্ত রয়েছেন। কিছুক্ষন পরে এক এক করে ৮ জন ব্যাক্তি যারা হিটলারের ডুপ্লিকেট(বহুরুপি) ছিলেন তারা সুভাষ বসুর কাছে আসেন। কিন্তু সুভাষ চন্দ্রকে তারা কোনোভাবেই ভ্রমতি করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৯ বম ব্যাক্তি রূপে হিটলার নিজে উপস্থিত হন এবং সুভাষ চন্দ্র বসুর কাঁধে হাত রাখেন। সুভাষ চন্দ্র বসু খুব সহজেই হিটলারকে চিনে নেন এটা দেখে হিটলার চকিত হয়ে উঠেন এবং জিজ্ঞাসা করেন যে আপনি এটা কিভাবে বুঝলেন।

নেতাজি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ বসুর কাঁধে হাত রাখতে পারে এমন ব্যক্তি হিটলারই হতে পারে।’ সুভাষ চন্দ্র বসু প্রত্যেক দিন, প্রত্যেক মুহূর্ত ইংরেজদের সাথে লড়াই করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতেন। ইংরেজদের পরাস্ত করার জন্য ও তাদের নিচ দেখানোর জন্য কোনো সুযোগ ছাড়তেন না সুভাষ চন্দ্র বসু। এমন কোনো দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি যখন ভারত মাতার এই অদম্য সাহসী কালজয়ী পুত্রকে কোনো ইংরেজ পরাস্ত করতে পেরেছে। এই ভারতভূমি একের পর এক মেধাবী ও প্রতিভাশালী পুত্রের জন্ম দিয়েছেন। এখন এটা তো আমাদের পরীক্ষা যে আমরা বিদেশিদের চরণ বন্দনা করে অযোগ্য , সার্থন্বেষী ব্যাক্তিদের তাদের উদ্দেশ্যে সফল হতে দেব নাকি আমরা সুভাষ চন্দ্র মহাশয়ের মতো মহান দেশপ্রেমিকদের হাতে দেশের শক্তি তুলে দেব যাদের অন্তরমনে সবসময় রাষ্ট্রভক্তির জ্বালা ফুটতো। স্মরণ রাখবেন আমরা যা কিছুই করি না কেন আজকের ইতিহাস যখন ভবিষ্যতে লেখা হবে তখন আমাদের ক্ষমতা, বুদ্ধি ও দেশের প্রতি কর্তব্য এর বিষয় নিশ্চিত তুলে ধরা হবে।