Press "Enter" to skip to content

মমতা ব্যানার্জী কেন রাজীব কুমারকে বাঁচাতে চাইছেন তার পর্দাফাঁস করলেন রাষ্ট্রবাদী সাংবাদিক সুধীর চৌধুরী।

CBI বনাম মমতা ব্যানার্জীর যে ঘটনা পুরো দেশে রাজনৈতিক উথালপাথাল সৃষ্টি করেছে তা নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রবাদী সাংবাদিক সুধীর চৌধুরী। পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে CBI এর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কেন এত প্রয়াস করছেন তা উপর পর্দা ফাঁস করেন সুধীর চৌধুরী। এই ইস্যুতে সুধীর চৌধুরী বলেন-
রাজীব কুমারের বয়স ৫৩ বছর, উনি ১৯৮৯ ব্যাচের IPS অফিসার। IPS এই অর্থ ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস, অর্থাৎ রাজীব কুমার ভারতীয় পুলিশ সেবার জন্য নিযুক্ত রয়েছেন। সুধীর চৌধুরী বলেন রাজীব কুমারের আচরণ দেখে তাকে IPS মনে হয় না, উনি ভারতের সেবা নয় ধর্নায় বসে মমতা ব্যানার্জীর সেবা করতে ব্যাস্ত রয়েছেন।

চিটফান্ড দুর্নীতি কান্ডের কিনারা বের করার জন্য যে SIT গঠন করা হয়েছিল, রাজীব কুমার তার প্রমুখ ছিল। ২০১৩ সালে সারদা ও রোজভ্যালি দুর্নীতি কান্ডের তদন্ত করেছিলেন রাজীব কুমার। কিন্তু ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই দুই মামলা CBI এর হাতে তুলে দেয়। এরপর CBI তদন্ত শুরু করলে একটা বড় অভিযোগ রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে উঠে। অভিযোগে বলা হয় যে রাজীব কুমার তদন্তের সাথে জড়িত অনেক দস্তবেজ, মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ CBI এর হাতে দেয়নি। অর্থাৎ মামলা ট্রান্সফার হওয়ার সময় রাজীব কুমার তদন্তের সাথে জড়িত অনেক প্রমান পত্র CBI এর হাতে তুলে দেয়নি।

এই ব্যাপারে CBI রাজীব কুমারকে অনেকবার সামন পাঠানো হয়েছিল কিন্তু রাজীব কুমার CBI এর সামনে হাজির হননি। এই প্রমান রাজীব কুমারের থেকে বের করে আনার জন্য রবিবার সন্ধেয় CBI এর টীম কলকাতায় উনার বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়েছিল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী চাননি যে CBI এর হাতে প্রমান চলে যাক বা CBI কোনোভাবে রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক।

এই পুরো ঘটনা মূলত দুটি দুর্নীতি নিয়ে, এক-সারদা চিটফান্ড দুর্নীতি দ্বিতীয়- রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতি। দেশের বেশিরভাগ মিডিয়া বিশেষত বাংলার মিডিয়া এই ঘটনাকে “কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাত”, “কলকাতা পুলিশ বনাম CBI” , “মোদী বনাম মমতা” ইত্যাদি বলে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার গভীরতা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোনের অনেক ওপরে।আসলে রাজনীতির আড়ালে মমতা দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষদের বাঁচানোর জন্য নেমে পড়েছেন। সমস্ত মিডিয়া বিষয়টিকে মোদী বনাম মমতা বলে রাজনৈতিক করেছে কিন্তু কেউ তাদের কথা বলেছে না যারা দুর্নীতি কান্ডে নিজেদের সবকিছু হারিয়েছেন।

সারদা দুর্নীতিতে কিছু ক্ষমতাশালী রাজনেতারা বহু গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের সারাজীবনের টাকা লুটে নেয় এবং নিজেদের পকেট পূরণ করে। এই দুর্নীতির থেকে লুটে নেওয়া টাকা নিয়ে কোটিপতি হওয়া ছাড়াও বহু মিডিয়া হাউস, বহু চ্যানেল খোলা হয় যারা দ্বারা রাজনৈতিক প্রচারও চালানো হয়। চিটফান্ডের দুর্নীতির সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে মিডিয়া সমস্থ কিছু জড়িত রয়েছে কারণ এই টাকা দিয়েই অনেক মিডিয়ার মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল। সারদা গ্রূপ দেশের ১৭ লক্ষ মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করে লুটেছিল।

অন্যদিকে রোজভ্যালি দুর্নীতি কাণ্ডেও বহু মানুষকে প্রতারিত হতে হয়েছিল। দুই চিটফান্ড দুর্নীতিতে বহু মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে যায়, বহু জন আত্মহত্যা করে। এখন মানুষকে ন্যায় প্রদান করার জন্য এবং দোষীদের সাজা দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো CBI তদন্ত করলে মমতা ব্যানার্জী তদন্তে বাধা দিতে শুরু করেছে। অন্যদিকে টাকা খেয়ে খবর পরিবেশন করা মিডিয়া এটাকে রাজনৈতিক খবর বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.