Press "Enter" to skip to content

অটলজির এই একটা সিদ্ধান্তের জন্যেই আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

আজ ভারতবর্ষের প্রাপ্তন প্রধানমন্ত্রী স্বর্গীয় জির শুভ জন্মতিথি। আজকের দিনেই ভারতবর্ষের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেন মহান দেশসেবক অনেক লড়াই করার পর দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। উনি এমন একজন দেশসেবক রাজনীতিবিদ ছিলেন যে শুধুমাত্র নিজেদের সমর্থকরাই উনাকে সমর্থন করতেন না। উনাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিতেন সেই সময়কার সমস্ত বিরোধী দলের নেতানেত্রীরাও। উনি বিদেশের মাটিতেও বেশ সাম্মানিক ব্যাক্তি ছিলেন। আর উনার ব্যাপারে সবচেয়ে অবাক করা কথা এটাই যে, আজ আমাদের দেশের যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদীজি!

এই নরেন্দ্র মোদীজিকে প্রধানমন্ত্রী করার পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন প্রাপ্তন স্বর্গীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীজি।দেশের অনেক কম সংখ্যক মানুষ হয়তো এটা জানেন যে, একসময় রাজনৈতিক জীবন এবং সাংসারিক জীবন কে পিছনে ছেড়ে দিয়ে অজ্ঞাতবাসে চলে গিয়েছিলেন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহাশয়। বিশেষ সূত্রে তথ্য পাওয়া গিয়েছে যে, সেই সময় আমেরিকা থেকে পড়াশোনা করতেন মোদীজি। আর সেই সময় আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। আমেরিকায় গিয়ে অটল জি, মোদীজির সম্ভন্ধে জানতে পারেন। এবং সেই সময় উনি মোদীজিকে ডেকে কথা বলেন। উনি বলেন যে, “এইরকম ভাবে পালিয়ে বেরিয়ে কি আর কাজ চলে? এখানে কতদিন থাকবে? চলো দিল্লি চলো।আর এই ব্যাপারে আমরা সমস্ত তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানতে পারি বিজয় ত্রিবেদী অর্থাৎ ইনি হলেন একজন প্রবীন সাংবাদিক, এনার নিজের লেখা “হার নেহি মানুঙ্গা- অটল এক জীবন গাঁথা” – বই এর ১২ নাম্বার অধ্যায় থেকে

ওই বই এর বর্ণনা থেকে আমরা আরও জানতে পারি যে, মোদী জি ঠিক তারপরই আমেরিকা থেকে ভারতে চলে আসেন অটল জির কথা রেখে। উনি অটলজিকে অত্যন্ত সম্মান করতেন তাই উনি বলার পরই নরেন্দ্র মোদী ভারতে চলে আসেন।আর ভারতে আসার পর মোদীজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যে, দিল্লিতে বিজেপির সংগঠন কে আরও মজবুত করার। আর এই জন্য মোদীজিকে একটি কামড়া দেওয়া হয় অশোক রোডে বিজেপির পুরোনো অফিসে যেটা অবস্থিত রাজধানী দিল্লিতে। উল্লেখ্য সেই সময় মোদীজির অফিসে আসবাবপত্র হিসাবে ছিল মাত্র ১ টি টেবিল এবং ২ টি চেয়ার।মোদীজি তার একজন সহকর্মীর মৃত্যুর শেষ কাজের জন্য শশ্মান ঘটে যান সেই সময় অটল জি তাকে ফোন করে নিজের কাছে আসার জন্য জানান। তখন সময় ছিল ২০০১ সালের অক্টোবর মাস।

তখন বিজেপি তে বিশাল গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি ছিলেন সুষমা স্বরাজ, অশোক মহাজন এবং অরুন জেটলির মত প্ৰমুখ ব্যাক্তিদ্বয়। সেই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সাথে কিছুটা ক্ষীণ সম্পর্ক হয়েছিল গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই প্যাটেলের। কারণ কেশুভাই প্যাটেল নামে অভিযোগ উঠেছিল যে উনি গুজরাটে পরিবারতন্ত্র চালাচ্ছেন। তাই দিনের পর দিন উনার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকছিল।আর শুধুমাত্র কেশুভাই প্যাটেলের অদক্ষতার জন্য ২০০১ সালে বিজেপি রাজকোট এবং আমেদাবাদ পুরসভায় হেরে গিয়েছিল। ফের ২০০১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিজেপি হেরে যায় এলিসব্রিজ, আমেদাবাদ এবং সাবরকাণ্ঠা বিধানসভায়। সেই সময় লালকৃষ্ণ আদবানি সহ বিজেপি পার্টির হাইকমিশনার চিন্তাভাবনা করে দেখলেন যে যদি এইভাবে চলতে থাকে তাহলে খুব খারাপ দিন আসতে চলেছে বিজেপির জন্য। এমনকি বিজেপি পরাজিত হয়ে যেতে পারে ২০০৩ বিধানসভা নির্বাচনে।

আর সবদিক ভেবে চিন্তে বিজেপি পার্টির উচ্চপদস্ত কর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে কেশুভাই কে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আর সেটাই হয়। এবং সেই সময় অর্থাৎ ২০০১ সালের ৭ ই অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজপেয়ীজির স্বইচ্ছায় গুজরাটের নুতন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ করেন নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী মহাশয়। আর তারপর থেকেই সারাদেশ দেখতে পায় মোদীজির রাজনৈতিক তখর বুদ্ধি। জনগণের প্রতি একজন দেশসেবক হিসাবে মোদীজির দায়িত্বকর্তব্য। বিজেপির হাইকমিশনার দেখতে পান যে একজন বড় রাজনীতিবিদের ঠিক যে যে দক্ষতা থাকা দরকার সেই সমস্ত কিছু রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে। তখনই মোদীজির কাছে খুলে যায় জাতীয় রাজনীতির দরজা। আর আজ উনি দেশের একজন সফল প্রধানমন্ত্রী।
#অগ্নিপুত্র

 

8 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.